রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

অতিথি পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত সাতক্ষীরা

নাজমুল শাহাদাৎ (জাকির)

সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি, দেশবার্তা

বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলের সর্বশেষ জেলা সাতক্ষীরা। এজেলার  চারদিকে জলরাশি । শীতের উষ্ণ রোদেলা আলোতে ঝলমল করছে জলরাশির পানি।ভেসে আসছে বিভিন্ন জায়গা থেকে আগত কিচিরমিচির শব্দ। মৎস্যঘের ও নদীর কাছাকাছি যেতেই চোখে পড়ে এসমস্ত অতিথি পাখি। একদল ডানা মেলে মুক্ত আকাশে উড়ছে। আর একদল চরের পানিতে ডুব দিয়ে খাবার খাচ্ছে, কেউ সাঁতার কাটছে। নয়ন জুড়ানো এক অপরূপ মনোমুগ্ধ দৃশ্য। যা দেখে চোখ ও মন জুড়িয়ে যায়।কিন্তু এই অপরূপ দৃশ্য বেশি সময় স্থায়ী হয়নি। কিছু সময় পরেই দেখা যেতে থাকে অসংখ্য মৃত পাখি।

এজেলার বিভিন্ন প্রান্তরের নদী, খাল ও বিলে দেখা  পড়ে এ দৃশ্য। সামান্য টাকার লোভে জেলা প্রশাসনের পাখি হত্যায় নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও চক্ষু আড়ালে বিষাক্ত টোপ দিয়ে পাখি শিকারিরা পাখি শিকার করতে গিয়ে মারা পড়ছে শত শত পাখি।এলাকার আশেপাশে দেখা যাচ্ছে  অসংখ্য মৃত্যু পাখি।এভাবে নির্বিচারে পাখি শিকার করার ফলে পাখিদের আগমন যেমন কমে যাচ্ছে, তেমনি নষ্ট হচ্ছে পরিবেশের ভারসম্য। সৌন্দয্য হারাচ্ছে মনমুগ্ধকর এলাকা গুলো। এছাড়া অতিথি পাখি শিকারীদের বিরুদ্ধে স্থানীয় প্রশাসনের কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় শিকারীদের দৌরাত্ম আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

শীত শুরুর সঙ্গে সঙ্গে সাতক্ষীরা জেলা তালা, আশাশুনী ও শ্যামনগর উপজেলার উপকূল ও দূরবর্তী বিভিন্ন  মৎস্য ঘেরে, খাল, নদী ও বিলে প্রতি বছরের ন্যায় এ বছরও সাইবেরিয়াসহ শীত প্রধান দেশ থেকে কুইন আই ল্যান্ড থেকেও পাখি এসেছে। এসব পরিযায়ী অতিথি পাখি উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার তালা, আশাশুনি, দেবহাটা, শ্যামনগর, কালিগঞ্জ, কলারোয়া উপজেলাতে   বিভিন্ন প্রজাতির লাখ লাখ অতিথি পাখির আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। পাখিদের কলতানে মুখর হয়ে উঠেছে এলাকা গুলো।

কিন্তু এসব দুর্গম চরাঞ্চলে পাখির জন্য নিরাপদ আবাসস্থল হওয়ার থাকলেও পাখি শিকারীদের কারণে তাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। খাদ্যের সন্ধানে পাখা মেলা এসব পাখি উড়তে গিয়েই মারা পড়ছে শিকারীদের হাতে। ধানের সঙ্গে বিষাক্ত রাসয়ানিক দ্রব্য, চেতনা নাশক দ্রব্য ও জাল ফেলে নির্বিচারে চলছে পাখি শিকার।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন ঘেরে গেলে আশপাশের দেখি   অসংখ্য মরা অতিথি পাখি পড়ে থাকে। এছাড়া চরাঞ্চলে অতিথি পাখি মরে পড়ে থাকে।কতিপয় অসাধু ঘেরের মধ্যে পুটি মাছের মতো  কীটনাশক জাতীয় দ্রব্য সঙ্গে মিশিয়ে ছিটিয়ে দেয়।ওই পুটি মাছ খেয়ে পাখি উড়ে পড়ে যায়। অনেক পাখি উড়ে অন্যত্র গিয়ে নদীতে মরে পড়ে যায়।পাখি শিকারী দল অসুস্থ ও মৃত পাখি জবাই করে বাজারের ব্যাগে করে বিভিন্ন হোটেলে ও বাসাবাড়িতে ফেরি করে বিক্রি করে। একারনে পাখি শিকার রোধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছে তারা।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত