সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

Advertisement

অর্থনীতির সব খাত ভয়াবহ ঝুঁকিতে

Advertisement

করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বাংলাদেশসহ পুরো বিশ্বই লকডাউনে। সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়ছে অর্থনীতিতে। বর্তমানে দেশের উৎপাদন ও সেবা খাত বড় ঝুঁকিতে পড়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে, একমাত্র ওষুধ শিল্প ও সিগারেট ব্যতীত সব খাত নিজেদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে। দীর্ঘ সময় দেশের শিল্পকারখানা ও বাণিজ্য বন্ধ থাকায় গত ৩০ বছরে সবচেয়ে কম প্রবৃদ্ধি হবে দেশে। তবে খাদ্য উৎপাদন ও টেলিকম খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো স্বাভাবিক রয়েছে।

পুরো দেশ লকডাউনে থাকায় বিশ্বব্যাংক, আইএমএফসহ উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো ২০১৯-২০ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে ইতোমধ্যেই পূর্বাভাস দিয়েছে। করোনা সংক্রমণের ক্ষয়ক্ষতি পোষাতে শিল্পকারখানার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। প্রণোদনা প্যাকেজের প্রায় পুরোটাই ব্যাংকনির্ভর। এ প্যাকেজের আওতায় ব্যাংকগুলো স্বল্পসুদে ঋণ দেবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের।

দেশের রপ্তানি আয়ের প্রায় ৮৫ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। আর এ খাতই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। করোনা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বিশ্বের প্রায় সব দেশ লকডাউনে থাকায় সবচেয়ে বড় ধাক্কা আসে তৈরি পোশাক শিল্পে।

ইতোমধ্যেই পোশাক খাতের প্রায় ৩০০ কোটি ডলার বা ২ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি রপ্তানি আদেশ স্থগিত হয়ে গেছে। করোনা সংক্রমণের শঙ্কায় গার্মেন্টস কারখানাগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি-মার্চ প্রান্তিকে দেশের রপ্তানি আয়ে ধস নামতে পারে, যা আগামী এপ্রিল-জুন প্রান্তিকে আরও অবনতির শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বস্ত্র খাতের পর সবচেয়ে বেশি ঝুঁঁকিতে রয়েছে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক খাত। চলতি বছরের দ্বিতীয় প্রান্তিকে বিতরণ করা ঋণের কিস্তির অর্থ ফেরত পাবে না অধিকাংশ ব্যাংক। চলতি মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত ঋণের কিস্তি পরিশোধ না করলে ঋণগ্রহীতাদের ঋণমানে কোনো পরিবর্তন হবে না বলে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে নির্দেশ জারি করা হয়েছে। এর ফলে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রথমার্ধে ব্যাংক ও এনবিএফআই খাত লোকসানে পড়তে পারে। কারণ এ সময়কালে বিতরণ করা ঋণ থেকে কোনো সুদ আয় না হলেও আমানতের বিপরীতে সুদব্যয় থাকছে। এ ছাড়া করোনা সংকটে আমদানি-রপ্তানি থেকে কমিশন আয়ও কমে যাবে।

এদিকে সরকার করোনার সংক্রমণ থেকে দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানের সুরক্ষায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে, যার প্রায় পুরোটাই ব্যাংকঋণনির্ভর। এর ফলে ব্যাংকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিপুল পরিমাণের ঋণ দিতে হবে। এতে ব্যাংকগুলো লোকসানের পাশাপাশি নগদ টাকার তীব্র সংকটে পড়তে যাচ্ছে।

Advertisement


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত