শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২০

আঁধার ঘর : চারু লতা

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙতেই
চোখের পাতা খুলে দেখি, ঘুটঘুটে আঁধার ঘরে
একটি বৃদ্ধ অশ্বত্থ বৃক্ষ দাঁড়িয়ে আছে
মিটিমিটি জ্বলতে থাকা লণ্ঠন নিয়ে।

বললো সে, কি হে মানব! কেন এসেছো এ ভুবনে?
আমি যে মুসাফির হয়ে এসেছি এখানে।
আঁধারে কি করে চিনবো পথ? আমি যে নূতন,
এই নাও, লন্ঠন দিলাম তোমায়
ঘুরে এসো এ ভুবন।

এখানে যে সবই আছে যা তোমার প্রয়োজন
তোমার জন্যই যে এত আয়োজন।
বৃদ্ধ অশ্বত্থ বৃক্ষটির পাশ কাটিয়ে
চলতে লাগলাম এক পা-দু পা ফেলে;
কিছুদূর যেতেই দেখি স্বার্থের সীমানাজুড়ে
কাঁটা তারের বেড়া, দেহ মন্দিরে ধরেছে ঘুন
চারিদিকে জ্বলে লোভের আগুন।

কোথা হতে বাজপাখিটা উড়াল দিয়ে এসে
বকের ছানাটা কেড়ে নিলো শেষে।
কালো পাথরে ছুটছে কালো পিঁপড়াদের দল
যায় না চেনা আসল নকল।
বড় মিয়াদের হয় অন্নপ্রাশন,
চালচুলোহীনদের করতে হয় অনশন।
ক্ষুধার তোড়ে সদ্য ফোটা কলি অঝরে কাঁদে
খাবার জোগাতে মা পড়ে যায়
শেয়াল কুকুরের ফাঁদে,
প্রস্ফুটিত বোনটির ছিন্নভিন্ন লাশ
পড়ে আছে আঁধারের খাদে।

আর যে চলছে না আমার পা
নিষ্ঠুরতার কাঁটা বিঁধে শিউরে উঠছে গা।
আমি যে আবার উল্টো পথেই দৌড়ে এলাম
বৃদ্ধ অশ্বত্থের ছায় গিয়ে বললাম,
এ ভুবন যে আমার বাসযোগ্য নয়,
এ তল্লাটে যে ফুরায় না অমাবস্যার রাত
আসে নাকো নতুন প্রভাত।
ঠাঁই দেবে কি কোটরে তোমার?
এক ঘুমেই এ কালো রাতি করি পার।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত