বৃহস্পতিবার, ০৬ অক্টোবর ২০২২

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার গুরুত্ত্ব

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষার বিষয়টি ইসলাম খুবই গুরুত্ত্বের সাথে দেখেছে। আল্লাহ তাআলা যেমন কুরআনে এ সম্পর্ক রক্ষার আদেশ দিয়ে অবজ্ঞাকারীদের শাস্তির কথা বলেছেন, তেমনি সূরা রা’দের ২১ নং আয়াতে এ সম্পর্ক রক্ষাকারীকে প্রকৃত বুদ্ধিমানদের অন্তর্ভুক্ত করেছেন। ইরশাদ হচ্ছে,

وَالَّذِينَ يَصِلُونَ مَا أَمَرَ اللّهُ بِهِ أَن يُوصَلَ وَيَخْشَوْنَ رَبَّهُمْ وَيَخَافُونَ سُوءَ الحِسَابِ

“(এবং বোধ সম্পন্ন তারা) যারা বজায় রাখে ঐ সম্পর্ক, যা বজায় রাখতে আল্লাহ আদেশ দিয়েছেন এবং স্বীয় পালনকর্তাকে ভয় করে এবং কঠোর হিসাবের আশঙ্কা রাখে।”-সূরা রা’দ:২১

এমনিভাবে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাসী, সে যেন নিজ আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করে”। –বুখারী, হাদীস নং ৬১৩৮

উপরোল্লিখিত আয়াত ও হাদিস ছাড়াও আরও একাধিক আয়াত ও বহু হাদিসে এ সম্পর্কে আলোচনা এসেছে। তো, আমরা কীভাবে আত্মীয়তার বন্ধন ও সম্পর্ক রক্ষা করতে পারি, এ নিবন্ধে আমরা তাই জানবো ইনশাআল্লাহ।

আত্মীয়তার সম্পর্ক রক্ষা করার অনেক পথ ও মাধ্যম রয়েছে যার কিয়দংশ নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

তাদের সাথে বার বার সাক্ষাৎ করা, তাদের খোঁজ-খবর নেওয়া, তাদের সম্পর্কে কাউকে জিজ্ঞাসা করা, তাদেরকে মাঝে মধ্যে কোনো কিছু উপহার দেওয়া, তাদেরকে যথোপযুক্ত সম্মান করা, তাদের গরীবদেরকে সদকা-খায়রাত এবং ধনীদের সাথে নম্র ব্যবহার করা, তাদের বড়দেরকে সম্মান করা এবং ছোট ও দুর্বলদের প্রতি দয়া করা, তাদেরকে আপ্যায়ন করা, তাদেরকে সম্মানের সাথে গ্রহণ করা। তাদের মধ্যে যারা আপনার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করেছে তাদের সাথে সম্পর্ক পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

তাদের বিবাহ-শাদীতে অংশ গ্রহণ করা, তাদের দুঃখ-দুর্দশায় পাশে থাকা, তাদের জন্য দুআ করা, তাদের সাথে প্রশস্ত অন্তরের পরিচয় দেওয়া, তাদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব-বিগ্রহ নিরসনের চেষ্টা করা তথা তাদের পারস্পরিক সম্পর্ককে আরো সুদৃঢ় করা, তাদের রুগ্নের সেবা করা, তাদের দাওয়াত গ্রহণ করা ইত্যাদি।

সব চাইতে বেশি আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা পাবে নিজ আত্মীয়-স্বজনকে হিদায়াতের দিকে ডাকা এবং তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ ও অসৎ কাজ থেকে নিষেধ করার মাধ্যমে।

উক্ত আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করার উপায়গুলো সর্বদা তাদের সাথেই প্রযোজ্য হবে যারা ইসলামকে নিজ জীবনে বাস্তবায়ন করছেন বলে মনে করা হয় অথবা ইসলাম বিরোধী চাল-চলন তাদের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নয়।

তবে আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে যারা কাফির, মুশরিক অথবা ইসলাম বিরোধী চাল-চলনে অভ্যস্ত, তাদেরকে পরকালে আল্লাহ তা‘আলার কঠিন শাস্তির কথা জানিয়ে ও বিপরীতে জান্নাতের অফুরন্ত নেয়ামতের কথা স্মরণ করিয়ে সঠিক পথে উঠানোর সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। পক্ষান্তরে তা যদি কোনোভাবেই সম্ভবপর না হয় তথা তারা ধর্মীয় উপদেশের প্রতি একেবারেই মনোযোগী না হয় এবং আপনিও তাদের সাথে চলতে গেলে নিজের ঈমান-আমল হারানোর ভয় করেন, তা হলে তাদের সাথে আর চলা যাবে না।

বরং তাদেরকে কোনো ধরনের কষ্ট না দিয়ে সুন্দরভাবেই পরিত্যাগ করবেন এবং তাদের জন্য সর্বদা হিদায়াতের দুআ করবেন। তবে যখনই তাদেরকে ইসলামের প্রতি দাওয়াত দেয়ার কোনো সুযোগ মিলে যায় তবে তা সুবর্ণ সুযোগ বলে মনে করে কাজে লাগানোর আপ্রাণ চেষ্টা করতে হবে।

তবে আত্মীয়-স্বজনদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেয়ার ক্ষেত্রে একটি কথা অবশ্যই মনে রাখতে হবে যে, তাদের সাথে কখনো কোনভাবেই দুর্ব্যবহার করা যাবে না। বরং তাদেরকে নম্রতা, কৌশল এবং সদুপদেশের মাধ্যমে দ্বীনের দিকে ধাবিত করতে হবে। ইসলামের দাওয়াত দিতে গিয়ে কখনো তাদের সাথে ঝগড়ায় লিপ্ত হওয়া যাবে না।

 


© 2022 - Deshbarta Magazine. All Rights Reserved.