রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২

আপন ইচ্ছা : ফারজানা ইয়াসমিন

কিছু কাজ অন্যের চাইতে নিজের কথা ভেবে করা উচিত। অন্যের জন্য তো অনেক করেন। নিজের জন্যও কিছু করেন।নিজের ভালো লাগার জন্য। জীবনের সেতু অনেক লম্বা। সেই সেতু পার হতে নিজের মনের সাহস ও শক্তি লাগে।ভালোলাগার অনুভব লাগে। শুধু অন্যের জন্য বেঁচে থেকে তা সম্ভব নয়।জীবনের সবকিছু যেন প্রয়োজন না হয়।কিছু জিনিস যেন আকাঙ্খা ও অনুভবের তীব্রতা থেকে করা হয়।

আমি আমার লেখালেখির মাধ্যমে যা পেয়েছি তাকে প্রাপ্য মনে করি না।আমার কাছে এগুলো অমূল্য ও আনন্দের প্রাপ্তি।তবে এতটুকু আসতেও অনেক কথা শুনেছি।কাছের মানুষেরা খোঁচা মারে।কেউ কেউ আবার উৎসাহ দিয়েছে। সবকিছু উপেক্ষা করে এগিয়ে যেতে চেয়েছি।এটা মনোবলের বিষয়। লেখার
বিষয় নিয়েও মানুষ অনেক কথা বলে।

নিজের কাছের মানুষেরা বলেছে, বাচ্চাদের দেখাশোনা বাদ দিয়ে ঢং করে এই বয়সে।অথচ লেখালেখি করতে গিয়ে বাচ্চাদের কোনো অবহেলা করিনি।তারপরও অনেক কথা বলে।বাসা থেকে বের হতে পারি না।বাচ্চাদের দেখার কেউ নেই। অনেক সাহিত্য গ্রুপের সাথে জড়িত থাকলেও।তাদের কোনো অনুষ্ঠানে যাওয়া হয় না।অথচ আমার এই বিষয় গুলো কোনো মানুষ বুঝতে পারে না।

চাকরি করা হয়নি।খুব একটা আপসোস নেই। তবুও মাঝে মাঝে সার্টিফিকেট গুলো মূল্যহীন মনে হয়। যখন কেউ বলে,কী করলে জীবনে? আমার কাজের মূল্যায়ন করে না গৃহিণী হিসাবে। সামান্য একটা ইচ্ছা অনেক সময় ভারী হয়ে যায় জীবনের কাছে।অনেক কিছু ত্যাগ করলেও ভালোলাগার জন্য ছোট একটা কাজও করতে হাজার বাঁধা।

আমার দেখা কিছু মানুষ আছে যাদের বয়সের সাথে ইচ্ছা গুলো বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
অনেক সময় দেখেছি কারো সাজার শখ হলে মানুষের কথার জন্য সাজতে পারে না।কারো রঙিন কাপড় পরার ইচ্ছা হলেও পরতে পারে না।কারণ বয়স ধরিয়ে দেয় চোখে। মেয়েদের ছোট বেলা থেকেই বেঁধে দেওয়া হয় নিয়ম।বিয়ের পর স্বামীর ইচ্ছাই তার ইচ্ছা করে নিতে হয়।একটু বয়স হলে তাকে ছেলে তার বউ, মেয়ে ও মেয়ের শশুর বাড়ির
সম্মান ভেবে চলতে হয়।সারাজীবন একটা খাঁচায় বন্দী থাকে মন।

বান্ধবীদের মধ্যে কারো ঘুরতে ইচ্ছা করলে তার উপর নানান সাংসারিক কাজ ও দায়িত্ব চাপিয়ে দিয়ে তাকে বন্দী করা হয় নিয়মে।সব জায়গায় শিকল পরিয়ে বোঝানো হয় এটাই তোমার জীবন। এর বাহিরে কোনো জগৎ নেই। এর বাহিরে তোমার কোনো চাওয়া পাওয়া থাকতে পারে না।কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে অভদ্র বলা হয়।মনে হয় বোবা হলেই ভালো হতো সবার কাছে।

আমার অনেক বান্ধবী আছে যারা খুব ভালো রেজাল্ট করেও চাকরি করতে পারলো না। অথচ সে মেয়েটা সংসারের কাজ করেও একটা কাজ বা চাকরি করতে পারতো।কেউ চাকরি করলে তাকে বলা হয়, তুমি সংসারকে মূল্য দিচ্ছো না। তোমার কাছে অর্থ উপার্জন করাই আসল কাজ।নানান ভাবে তাকে দাবিয়ে রাখা হয়।যে মেয়েটা চাকরি করে তার পায়ে পায়ে দোষ ধরা হয়।যে কোনো ভুলের জন্য চাকরিকে দায়ী করা হয়।চাকরি ছাড়লেও হয়তো সে এতটুকুই করতে পারবে।

জীবনের একটা সময় নিজেকে খুব অসহায় ও বন্দী মনে হয়। কারণ সারাজীবন শুধু অন্যের পছন্দ ও ইচ্ছার কথা ভেবেই কাটিয়ে দেয় মানুষ। পুরুষদের ক্ষেত্রেও একই বিষয় গুলো থাকে।তাদের জন্য কিছুটা নিয়ম শিথিল হলেও তাদেরকেও অনেক কিছু পোহাতে হয়।

আমি অনেক সময় অনুভব করেছি মানুষের জীবনে কিছু মধুর স্মৃতি বা সুন্দর মূহুর্ত থাকা দরকার। যেন কঠিন সময়ে এই দিনগুলো বাঁচার অনুপ্রেরণা দেয়।নিজের মতো করে মাঝে মাঝে চিন্তা করা উচিত। নিজের মনের ভাবনা গুলোকে ডানা মেলে উড়ার স্বাধীনতা দেওয়া দরকার। জীবনের সবকিছুই যেন প্রয়োজনের জন্য করা না হয়।কিছু কিছু কাজ শুধু মানসিক শান্তির জন্য করতে হবে।তবেই জীবনে সুখ অনুভব হবে।কথায় বলে,অনেক সম্পদের মধ্যেও শান্তি থাকে না।যা কুঁড়ে ঘরে থাকে।কারণ ঐ কুঁড়ে ঘরে নিজের মতো করে বাঁচা যায়।


© 2022 - Deshbarta Magazine. All Rights Reserved.