শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

আপিলেই আটকে আছে ১৯৮২ আসামির ফাঁসি

রাজধানীর লালবাগে ঢাকা সিটি করপোরেশনের বিজয়ী কমিশনারের (কাউন্সিলর) বিজয় মিছিলে হামলার ঘটনা ঘটে ১৯৯৪ সালের ৩১ জানুয়ারি। পরাজিত প্রার্থীর সন্ত্রাসীদের হামলায় ছটফট করতে করতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ছয় যুবক। হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও একজন।

রোমহর্ষক এ ঘটনাটি ‘লালবাগের সেভেন মার্ডার’ হিসেবে ব্যাপক আলোচিত। এ ঘটনায় করা মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়। নয়জনের যাবজ্জীবন এবং একজনের ১০ বছরের কারাদণ্ড হয়। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের একজন আব্দুস সালাম ওরফে মতি এখন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে।

২০০৯ সালের ২৮ মে বিচারিক আদালত তার ফাঁসির আদেশ দেন। এরপর এক যুগ পেরিয়ে গেলেও তার ফাঁসির রায় কার্যকর হয়নি। কারণ মামলাটি এখন সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির অপেক্ষায়।

বহুল আলোচিত বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২০১২ সালের ৯ ডিসেম্বর। ওইদিন সরকারবিরোধী অবরোধ কর্মসূচি চলছিল। ২৫ বছর বয়সি দর্জি বিশ্বজিৎ দাস জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা তাকে প্রকাশ্য দিবালোকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যা করে।

২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৪ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের ৮ নেতাকর্মীকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। এদের একজন রফিকুল ইসলাম শাকিল ওরফে শাকিল শিকদার। তিনি এখন কারাগারে। কিন্তু আট বছরেও তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়নি।

কেবল এ দুটি ঘটনাই নয়। সারা দেশের কারাগারগুলোতে ফাঁসির দণ্ড মাথায় নিয়ে আছেন এক হাজার ৯৮২ জন বন্দি। এদের মধ্যে পুরুষ এক হাজার ৯২৮ জন এবং নারী ৫৪ জন। ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এ ধরনের বন্দির সংখ্যা ৯১ জন।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত