সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

আবরার হত্যাকাণ্ডের পর উপাচার্য ক্যাম্পাসে যাননি

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন তার সহপাঠী থেকে শুরু করে সবাই। এমনকি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই হয়েছেন ব্যথিত। তবে নিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হত্যাকাণ্ডের পর উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম যাননি ক্যাম্পাসে। এ নিয়ে তীব্র সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

ছাত্রলীগের মারধরে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের খবর শুনে বুয়েটের শেরেবাংলা হলে ছুটে যাওয়া প্রত্যেকেই উপাচার্যের অনুপস্থিতিতে বিস্মিত হয়েছেন। এ বিষয়ে সবার একটাই প্রশ্ন, ‘উপাচার্য কোথায়?’ এ ছাড়া মুঠোফোনে কল দিলেও তা রিসিভ করেননি তিনি। দুপুর ১২টার দিকে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে গণমাধ্যমকর্মীদের সামনে উপাচার্যকে মুঠোফোনে কল দেন প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর ইকবাল খান। তখন উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) কল রিসিভ করে উপাচার্য অসুস্থ বলে জানান। এ জন্য তিনি ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না।

এ সময় বুয়েটের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। তারা এ রকম অমানবিক কোনো লোককে তাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে চান না চিৎকার করতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, উনার মতো এ রকম অযোগ্য ও অমানবিক ভিসি তাদের প্রয়োজন নেই। ভিসি একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অভিভাবক। সেই অভিভাবক নিজের শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর পর্যন্ত নিচ্ছেন না। তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার কথা ভাবছেন, শিক্ষার্থীদের কথা ভাবছেনই না। তার কাছে শিক্ষার্থীদের জীবনের কোনো মূল্যই নেই। এ সময় তারা ভিসির ওই পদে থাকার নৈতিক বৈধতা নেই বলে দাবি করেন।

হল সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার রাত ২টার দিকে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল সোমবার বুয়েটের শিক্ষার্থীরা দিনভর বিক্ষোভ করেন। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশ এরই মধ্যে ছয়জনকে গ্রেফতার করেছে বলে জানা গেছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: Content is protected !!