মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২০

আমরা সম্পর্ক ভুলে যাচ্ছি || ফারজানা আক্তার

ব্যস্ত নগরী! ব্যস্ত মানুষ! আজকাল যেন নগরের ব্যস্ততা আরো কয়েকগুন বেড়ে গিয়েছে। মানুষের ব্যস্ততা বেড়েছে আরো কয়েকগুন। আন্তরিকতার সহিত ‘কেমন আছো?’ এই কথাটিও আজকাল কেউ কাউকে জিজ্ঞেস করে না। ‘কেমন আছো’ প্রশ্নটা ভুল করেও কেউ যদি জিজ্ঞেস করে ফেলে এর উত্তর শোনার ধৈর্য আবার নেই কারো।

অস্থির এক সময় পার করছি আমরা। ‘ক্যারিয়ার’ আর ‘সফলতা’ নামক দুইটি শব্দ আমাদের পাগল করে দিয়েছে। ক্যারিয়ার গড়তে হবে আর সফলতাকে ধরতে হবে এই মন্ত্র নিয়ে আমরা ছুটে বেড়াচ্ছি। ছুটে বেড়ানোর সময় একবার যদি পাশে তাকাতাম অথবা একবার যদি ঘুরে তাকাতাম তাহলে কিছু মানুষ দেখতে পেতাম। যারা আমাদের নিয়ে ভাবছে, আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

জীবনে চলতে গেলে টাকার দরকার হয়। একটু শান্তিতে বেঁচে থাকতে হলে পিওর কিছু অনুভূতির দরকার হয়। টাকা দিয়ে আপনি সব কিনে ফেলতে পারবেন, কিন্তু আপনাকে সত্যিকারের মন থেকে কেউ অনুভব করবে এমন কাউকে পাবেন না। যে মানুষটা সারাদিন ১০০মানুষের মুখে হাসি ফুটায়, দিনশেষে ঘরে ফিরে সেই মানুষটাও হাসতে ভুলে যায়। ১০০মানুষের মুখে হাসি ফুটিয়ে সে সফল, তার এই সফলতার গল্পটা তৃপ্তি নিয়ে কাছের কোন মানুষকে বলার ক্ষেত্রে সে ব্যর্থ। কারণ সবাই ব্যস্ত! কার এতো সময় অন্যের গল্প শোনার!

মানুষ নিয়ে কাজ করতে যেয়ে দেখেছি! যে মানুষটা আশেপাশের মানুষদের সুস্থতা নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে, তার অসুখের সময় এক গ্লাস পানি এগিয়ে দেওয়ার কেউ নেই। কারণ সবাই ব্যস্ত! একজন মানুষ অসুস্থ হয়ে বিছানায় কাতরাচ্ছে, এই অবস্থায় তাকে যার দেখার কথা সে ক্যারিয়ার নিয়ে আরো একধাপ আগাচ্ছে। সর্বক্ষেত্রে নিজের দায়িত্ব যথাযথ পালন করা উচিত। তবে, মনে রাখা উচিত কখনো কখনো প্রায়োরিটি ম্যাটার্স।

নগরীর ব্যস্ততার সাথে সাথে আমরা ভালোবাসতে ভুলে গেছি, মন থেকে কোন কিছু অনুভব করতে ভুলে গেছি। একদিকের দায়িত্ব পালন করতে করতে অন্যদিকের দায়িত্ব ভুলে গেছি। সফলতার চূড়ায় নিজেকে দেখতে যেয়ে, ঘরে যে আমি একলা না সেটাও ভুলে গেছি। আকাঙ্খিত কিছু পাওয়ার পর শুকরিয়া করতে ভুলে গেছি। সবথেকে বড় কথা, আমরা সম্পর্ক ভুলে যাচ্ছি।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত