মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

আমাদের সুবোধকে ফিরিয়ে আনতে হবে || ইভা রায়

যে শিক্ষা ব্যক্তিকে লাইফ স্কিল শিখাতে পারে না, সে শিক্ষা ব্যর্থ হবে- সেটাই স্বাভাবিক। এই ব্যর্থতার দায় এককভাবে কারও নয়। অনেকগুলো ফ্যাক্টর তিল তিল করে এ বিদ্যমান সিস্টেমটিকে এস্টাব্লিশ করেছে; যার উৎপন্ন ফলাফল আমাদের প্রায়শই নিরাশ করছে, হতাশ করছে, ক্ষত বিক্ষত করছে। আমরা বুঝতে পারি, আমরা ঠিক নেই, ভাল নেই। আমাদের কিছু একটা করতে হবে। সঠিক পথটিকে খোঁজে বের করতে হবে।

কিন্তু আমাদের এই sense of urgency হারিয়ে যায় বা থিতিয়ে আসে যখন আমরা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো থেকে নিজেকে বিযুক্ত করে অন্যকে scapegoat বানিয়ে আপাত স্বস্তি খোঁজে পাই।প্রকারান্তরে আমরা নিজেরাই আমাদের সুস্থতাকে তখন আরও বিপন্ন করে তুলি।

আমরা এখন এমন একটা সময়ে বাস করছি যখন আমরা আমাদের প্রবৃদ্ধিটাকে টাকা আর সম্পদের অংকে পরিমাপ করতে শিখেছি। প্রযুক্তির সুবিধাকে নিতে গিয়ে আমরা আমাদের সুবোধকে বিক্রি করে দিয়েছি।নিজের অজান্তেই যন্ত্রকে বশ করতে গিয়ে নিজেদেরকে যন্ত্রের মত দ্রুতগামী অথচ নির্বোধ করে তুলেছি। আমরা সম্পর্ককে পেছনে ফেলে সম্পদের পেছনে দৌড়াচ্ছি। আমরা শুধু ছুটছি আর ছুটছি। আমাদের সময় নেই। অন্যকে তো নয়ই, নিজেকে দেয়ার সময়ও নেই; দৌড়াতে গিয়ে নিজের সন্তানকেও রেখে যেতে হচ্ছে একাকী, নিসঃঙ্গ করে।

আমাদের সন্তান সঙ্গী করে নিচ্ছে প্রযুক্তিকে।প্রযুক্তি হয়ে গেছে inevitable part of their life. তাদের জীবনে মা-বাবা বা শিক্ষকের চেয়ে প্রযুক্তির নিয়ন্ত্রণ অনেক বেশি।প্রযুক্তি কখনও মা-বাবার substitute হতে পারে না। তাই quality সঙ্গ থেকে দিন দিন তাদের দূরত্ব বেড়েই চলেছে।তাদের এই নিঃসঙ্গ, নিয়ন্ত্রণহীন জীবনে তারা যখন অনাকাঙ্খিত কিছু করে ফেলে, আমরা যারা তাদের bring up আর look after করার দায়িত্বে আছি, তারা তখন তীব্র কষ্ট পাই, অসহায় বোধ করি।হতাশার অন্ধকারে তলিয়ে যায় আমাদের প্রবৃদ্ধিসুখ।

একটা বিষয় ভালভাবে মনে রাখতে হবে যে, শিক্ষা শুধু মাত্র প্রতিষ্ঠান কেন্দ্রিক নয়; বরং জীবনকেন্দ্রিক শিক্ষাটাই ব্যক্তির সামগ্রিক শিক্ষার মৌল ভিত গড়ে তোলে।সামগ্রিক পরিবেশ বিশেষ করে পরিবার বা কাছের মানুষের জীবনবোধ আর জীবনাচরণ প্রজন্মের শিক্ষাকে মৌলিকভাবে প্রভাবিত করে।শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া নয়, এর ব্যাপকতর অর্থ হলো জীবনের ছোট বড় সব ঘটনায় কাঙ্খিতভাবে, ইতিবাচকভাবে রিয়েক্ট করতে শেখা।সন্তানদের আচরণের কাঙ্খিত পরিবর্তনের লক্ষ্যে সবাই মিলে অর্থাৎ সামগ্রিক সমাজকেই দায়িত্ব নিতে হবে।গুরুত্বপূর্ন নিয়ামক হিসাবে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাব্যবস্থার অসুস্থ দিকগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে নিরাময়ের কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।পরিবার থেকে শুরু করে সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়েছে মূল্যবোধহীনতা আর সুবিধাবাদের ঢেউ।স্বাভাবিকভাবেই বাদ যায়নি শিক্ষা ব্যবস্থাও। অবক্ষয়ের সুনামিতে আমাদের সবকিছু ভেসে যাওয়ার উপক্রম। Attitude change না হলে এ থেকে পরিত্রাণের কোন উপায় নেই। আমরা যারা মা-বাবা, শিক্ষক, বা কোন গুরুজন – আমাদের নেতিবাচক জীবনবোধ আর জীবনাচরণ আমাদের সন্তানদের নেতিবাচক পরিণতির দিকে নিয়ে যাচ্ছে।তাই সময় থাকতে সজাগ ও সচেতন হতে হবে আমাদেরকেই উত্তরপ্রজন্মকে সর্বনাশের হাত থেকে বাঁচাতে।আমাদের সুবোধকে ফিরিয়ে আনতে হবে প্রযুক্তির সাথে সুন্দর,সভ্য ও শান্তিপূর্ণ বসবাসকে নিশ্চিত করতে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত