বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

আম নিয়ে ভীতি নয়

সারা দেশেই এখন কমবেশি আম পাওয়া যায়। স্বাদে-গুণে ভরা নানা বৈচিত্র্যের আম এখন দেশ পেরিয়ে ইউরোপেও রফতানি হচ্ছে। আম-বাগানি ও ব্যবসায়ীদের কর্মব্যস্ততায় এ সময়ে দেশের উত্তরাঞ্চলসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অনেক এলাকায় চলছে উৎসবের আমেজ। এত উৎসবের আমেজের মধ্যেও অদৃশ্য এক বিষের ভয়ে এ চিরচেনা উৎসবের কোথাও যেন একটা সংকোচ কাজ করে থাকে।

গবেষণা ছাড়া অনেকের না বুঝে আম নিয়ে এমন অতিকথন আম-বাগানি এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের আরও বিপৎসংকুল করে তুলছে; কিন্তু আমে আসলে বিষের উপস্থিতি থাকে কি না বা থাকলেও তা আমাদের জন্য কতটুকু ক্ষতিকর, সে বিষয়ে আমাদের জানা উচিত।

এ কথা অনস্বীকার্য যে, কয়েক বছর ধরে আমের উৎপাদন বেড়েছে বহুগুণ। উত্তরাঞ্চল ছাড়িয়ে আম এখন ছড়িয়ে পড়ছে সারা দেশে। আমরা এখন আম উৎপাদনে বিশ্বে অষ্টম। এসব ভালো খবর প্রচারের সঙ্গে যোগ হয়েছে অপপ্রচারও। আর এতে ফল নিয়ে নানা অপপ্রচারের কারণে অনেকে আতঙ্কে দেশি আম খাওয়া ছেড়ে দিয়ে বিদেশি নানা ফল কিনে খায়।0.

গবেষণা ছাড়া আম নিয়ে নেতিবাচক অনেক খবরে দেশীয় ফলের বাজার চলে যাচ্ছে মাফিয়া ডনদের হাতে। আর এতে উপকৃত হচ্ছে ভারত ও পাকিস্তানের আম ব্যবসায়ীরা; যারা ইউরোপে আম রফতানি করে আয় করছে লাখ লাখ ডলার-ইউরো। এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই, ভেজালবিরোধী নানা অভিযানের ফলে আজ ব্যবসায়ীদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত অভিযান ও গণমাধ্যমে প্রচারের সুবাদে কুচক্রী ও অসাধু ব্যবসায়ীরা এখন অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তির আওতায় এনে এ প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে হবে।

কিন্তু আমের মধ্যে কেমিক্যালের ব্যবহার হচ্ছে- এ কথা ভেবে যদি আমরা খাওয়া ছেড়ে দিই, তাহলে আমরা সুলভ ও সহজলভ্যে পাওয়া নানা পুষ্টিগুণ থেকে বঞ্চিত হব। আম নানা পুষ্টি উপাদানে ভরপুর, যা শরীর সুস্থ রাখার পাশাপাশি কর্মশক্তি জোগাতেও সহায়তা করে। প্রতি ১০০ গ্রাম আমে ২৭৪০ মাইক্রো গ্রাম ক্যারোটিন থাকে। এতে ১ দশমিক ৩ গ্রাম আয়রন, ১৪ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ১৬ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ১৬ মিলিগ্রাম, ভিটামিন-সি, শূন্য দশমিক ৯ মিলিগ্রাম রিভোফ্লেভিন এবং শূন্য দশমিক ০৮ মিলিগ্রাম থায়ামিন থাকে। এ ছাড়াও পাকা আমে রয়েছে জিংকসহ প্রচুর ভিটামিন বি-১ ও বি-২।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত