রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১

উষ্ণকীর্তন || নুসরাত নুসিন

গভীর ঝড়ের মতো কখনো বেজে যাওয়া ভাল। এখন নিঃশ্চুপ অনাদিকাল।
এখন জ্যোতি ফিরে আসছে তার চোখের কাছে। মন ফিরেছে মনের কাছে।
এখন ঠিক রাত্রির জঙ্গল—তার ইষৎ আভাসিত কাল।

*
এমন তো হতে পারে যেটুকু চেয়েছি তা কুয়াশা। মাঠ ভিজে যাচ্ছে, মাঠ ভরে
যাচ্ছে—আতশ আলোর ক্ষণ, আরো কিছু উজ্জ্বল—আরো কিছু হয়তো দূর

এই যে সন্ধ্যা গত দিনের দিকে ফিরে যাচ্ছে, আমি ফিরে যাচ্ছি।

*
শীত কোনো আরোগ্য নয়—নিভৃত কুসুম। কোথাও ক্রমশ ঘন হচ্ছে বন—মন।
কোনো বিরতিকাল নেই। ঋতুচক্রে দেখা হলো যে শিশির, তার কাছে জমা
প্রিয় কল্কে ফুলের ঋণ।

*
আমাদের গন্তব্য মূলত দিকের সীমানা—আমরা যারা পুরাতন হ্রেষার প্রান্তর ধরে চলেছি।
আমাদের পেছনে মরু পথের সহযাত্রীরাও রয়েছে। পথে তারা গাইছে উষ্ণকীর্তন।

*
বৃষ্টি তো অঢেল হাওয়া—চলো, একবার বেরিয়ে পড়া যাক কোমলডাঙার দিকে।
বৃষ্টি তো সরল জলাধার—কতটা ভিজে গেলে গা ও গাঁয়েরা স্নাত হয়ে ওঠে?
ত্বকের বাকল চুয়ে ঝরে পড়ে ঝুমঝুম ধারা—এসব প্রশ্ন ছুড়ে দেয়া হবে আর
উত্তর জানা হবে একটানে। তুমি আজ পুনর্বার কল্কে ফুলের মতো হও!

*
এপারে আসার কালে পথে পাবে একটা ব্রিজ, ভাঙা, ক্ষত—
পুল তৈরি হওয়ার পরে তুমি সহজে আসতে পারবে। একটানে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত