মঙ্গলবার, ২৪ নভেম্বর ২০২০

ঋণ পরিশোধে বিলম্ব নয়

ঋণ প্রদানকারী যখন কারো উপকার্থে ঋণ দেয়, তখন ঋণ গ্রহীতার দ্বীনী ও নৈতিক দায়িত্ব হবে তা যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে দেওয়া। যদি এইরকম না করে টাল-বাহানা শুরু করে, মিথ্যা ওজর পেশ করতে লাগে, তাহলেই পারস্পরিক মিল-মুহব্বত ও ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়, শত্রুতা বৃদ্ধি পায় এবং একে অপরের প্রতি বিশ্বাস যোগ্যতা হারায়।

মহান আল্লাহ বলেন, “উত্তম কাজের প্রতিদান উত্তম পুরস্কার ছাড়া আর কি হতে পারে?” (সূরা আর রাহমান – ৬০)

তিনি অন্যত্রে বলেন,

إن الله يأمركم أن تؤدوا الأمانات إلى أهلها

“নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের নির্দেশ দিচ্ছেন, হকদারদের হক তাদের নিকট পৌঁছে দিতে।” (সূরা নিসা-৫৮)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, “ধনী ব্যক্তির টাল-বাহানা করা অত্যাচার।” (বুখারি, মুসলিম)

নবীজি (সা.) আরো বলেন,

من فارق الروح الجسد، و هو بريء من ثلاث دخل الجنة: من الكبر، والغلول، والدين – رواه ابن ماجه

“যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করল এমতাবস্থায় যে, সে তিনটি স্বভাব থেকে মুক্ত ছিল, তাহলে সে জান্নাতে প্রবেশ করবেঃ অহংকার, গনীমতের সম্পদ হতে চুরি এবং ঋণ।” (ইবনে মাজাহ, হাদিসটি সহীহ)

তবে ঋণগ্রহীতা যদি আসলেই দরিদ্র হয়, ফলে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে – এরকম ব্যক্তিকে ইসলাম অতিরিক্ত সময় দিতেও উদ্বুদ্ধ করে। আল্লাহ তাআলা বলেন-

و إن كان ذو عُسرة فنظرة إلى ميسرة و أن تصدقوا خيرٌ لكم إن كنتم تعلمون

“যদি ঋণী দরিদ্র হয়, তবে স্বচ্ছল অবস্থা আসা পর্যন্ত অবকাশ দিবে আর মাফ করে দেয়া তোমাদের পক্ষে অতি উত্তম, যদি তোমরা জানতে!” (সূরা বাক্বারাহ-২৮০)

 


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত