বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১

এই বসন্তে || হাসান হামিদ

কোথায় ফুল? আমি তো দেখি না কোথাও!

চারদিকে দেখি কেবল রুদ্র-রুক্ষ সংগম,
নত কিছু চোখ, অপমানে লাল হওয়া মুখ, ঈষৎ স্যাঁতস্যাঁতে;
এই বসন্তে কেবলই দারুণ দুঃসময়, উদ্যানজুড়ে শোকের মশাল;
বেমানান বেশ-ভূষায় দরোজায় দাঁড়িয়ে অসুখ,
নাবালিকার চকচকে লোভের চাকুতে ক্ষত-বিক্ষত বিবেক
খণ্ডিত হচ্ছে বিনাশী বিশ্বাসে, বড়ো বেশি বিভ্রমে সব;
লালিমার কথাগুলো সেঁটে যাচ্ছে পাঠ্যপুস্তকের দেহে।

এই বসন্তে জানালা জড়িয়ে আছে ছিনাল বাতাস;
রাজনৈতিক সভামঞ্চে নেতাদের নটিপনা দারুণ জমেছে,
মাঠে-ঘাটে, ফুলের দোকানে সারিবদ্ধ রাখা আছে
বন্দুকের চকচকে নল, গৃহকোণ যেনো বোদলেয়ারের মখমলী কোট;
অন্ধ হয়ে মুখ থুবড়ে পড়ে আছে সমস্ত সুন্দর,
বিপর্যস্ত বাগানে দুঃস্বপ্ন পোহাচ্ছে রোদ, এই বসন্তে।

এই বসন্তে শান্ত জলে হাত ধুয়ে চলে গেছে খুনী হৃদয়,
বড়ো বেশি বেহায়া বেয়ারা সময়, ভালো নেই স্বপ্ন-স্বদেশ,
শত নাবালিকার দীপ্তিমান দর্পনে সে এখন বিমর্ষ মলিন,
অথচ একদিন  তার সুন্দরের ভাষা ছিল না;
অথচ তার শ্যামল ঘাসের বিছানাতেই
রোদ বিছিয়ে রাখতো মাংসল সোনালী শরীর।
বসন্ত কই; আমি তারে আজ কোথাও দেখি না!

এই বসন্তে রাজপথে কেবলই মিছিল-গুলি-টিয়ারগ্যাস
অনাদরে বসে যাওয়া ভোমরা উল্টানো রুগ্ন চোখ
এই বসন্তে আমি কোথাও স্বস্তি দেখি না
চারদিকে কেবল অসুখের উল্লাস দেখি,
বৃষ্টি দেখি না, কেবল সবল অস্বীকার দেখি।
চালের আড়তে জমাকৃত যুবতীর স্তূপ,
কুমারী শরীর, নিঃশ্বাসে বিষের পরিপাটি গেরস্থালি
মানবতার সবকটা ড্রয়ারে রিভলভার ঠাসা
স্বপ্নবান বালিশের নিচে লম্পটের হাত
মলিন বিছানা, পোড়ামাটি সংসার দেখি, এই বসন্তে;
সকলের শোবার ঘরে, বারান্দা জুড়ে শুয়ে আছে সাপ ।

এই বসন্তে জলের চাদরে ঢাকা খরস্রোতা দিন
ডুবে গেছি পাঠ ঘরে পাঠ করে বিজ্ঞাপিত শরীর
প্রেমিকার দেহগ্রন্থে ছোঁয়াই নিঃশব্দ আঙুল, আফ্রোদিতি ঘুম;
আর ভেতরে ভেতরে কেবলই জ্বলে শিল্পের অনল।
এই বসন্তে, বসন্তের নিজেরই সুবাস নেই; আফসোস!


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত