শনিবার, ১৬ অক্টোবর ২০২১

এগারো নম্বর হস্টেল : মৌপ্রিয়া গঙ্গোপাধ্যায়

সকালে ঘুম থেকে উঠে চায়ের কাপে চুমুক দিতে-দিতে খবরের কাগজটা নাড়াচাড়া করছে তিতলি ওরফে শ্রীময়ী, এমন সময় হঠাৎ কলিংবেল বেজে উঠল৷ দরজা খুলতেই দ্যাখে মুখ বেজায় গম্ভীর করে ঝিলিক এসে উপস্থিত৷ ঝিলিক তিতলির পিসতুতো বোন, এখনও হাই স্কুলের গণ্ডি পার করেনি৷ কিন্তু এর মধ্যেই তার ক্ষুরধার বুদ্ধির জন্য তিতলি ওকে ছাড়া আর কাউকে নিজের অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাবতেই পারে না৷

শেষ কেসটায় ঝিলিকই সবচেয়ে আগে বুঝতে পেরেছিল যে আসল কালপ্রিট ভিড়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে৷ তারপর সব তথ্য-প্রমাণ হাতে পাওয়ার পর, দুয়ে-দুয়ে চার করতে তিতলির বেশি সময় লাগেনি৷ যাই হোক, সকাল-সকাল ঝিলিকের মেঘে ঢাকা মুখ দেখে তিতলি বুঝতে পারল সিরিয়াস কিছু ঘটেছে আবার৷ এর পর যখন ঝিলিক তার মোবাইলে কয়েকটা মেসেজ আর ছেঁড়া চিঠির কিছু পাতা তুলে ধরল, তখন তিতলির মাথায় যেন বিদ্যুৎরেখা খেলে গেল৷ আর সেই মুহূর্তেই পাশের বাড়ির মেয়ে তিতলি থেকে অতি সম্ভাবনাময়, বুদ্ধিদীপ্তা প্রাইভেট ডিটেকটিভ শ্রীময়ী চট্টোপাধ্যায় হয়ে উঠতে তার আর এক মুহূর্তও সময় লাগল না৷ দুই বোন বেরিয়ে পড়ল এগারো নম্বর হস্টেলের রহস্য উদ্ঘাটনে!

চিঠিটা যার হাতেই লেখা হোক না কেন, সে যে নিঃসন্দেহে একজন কবিতাপ্রেমী মানুষ, তা নিয়ে কোনও দ্বিধাই নেই৷ কবিতাগুলো কার লেখা বা কার উদ্দেশে লেখা, তা চিঠি পড়ে ঠিকমতো বোঝা সম্ভব নয়৷ আর এখানেই রহস্য৷ চিঠির আকারে যখন লেখা হয়েছে তখন কারও জন্য তো অবশ্যই লেখা৷ আর সেগুলো যখন হস্টেলের মধ্যে কোনও মৃত মানুষের ঘর থেকে পাওয়া যায়, তখন যে সেগুলো বিশেষ কোনও অর্থ বহন করছে, এ নিয়ে আর দ্বিতীয় কিছু বলার অপেক্ষা রাখে না!

ঝিলিক শিলিগুড়ির যে কো-এড বোর্ডিং স্কুলে ছোট থেকে লেখাপড়া করে, সেখানে পড়তে এসেছিল রুবেল নামের একটি ছেলে৷ ঝিলিকদের হস্টেলের পিছনদিকে ঠিক দুটো পুরনো ভগ্নপ্রায় বাড়ি ছেড়ে এগারো নম্বর বয়েজ় হস্টেল৷ সেখানেই ও থাকত৷ প্রায় বছরচারেক আগে ক্লাস এইটে আডমিশন টেস্ট দিয়ে ভর্তি হয় সে৷ খুব বড়লোক, পঞ্জাবি পরিবারের একমাত্র ছেলে। বাবা খুব নামকরা বিজ়নেসম্যান৷ ছেলেটি খুব চুপচাপ আর শান্ত স্বভাবের ছিল৷ বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে খুব একটা গল্প, আড্ডা দিতে তাকে কেউ কখনও দেখেনি৷ কিন্তু লেখাপড়ায় বেশ ভাল আর খুব সুন্দর ছবি আঁকত৷ ক্লাস আর টিউশন শেষ হলেই সে বেরিয়ে পড়ত তার আঁকার খাতা আর রঙ-তুলি নিয়ে প্রকৃতির কোলে বসে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে৷ সেই ছেলে তার রুমমেট না থাকাকালীন অবস্থায় যে এভাবে নিজের হাতের শিরা কেটে ছিন্নভিন্ন করে… জাস্ট ভাবাই যায় না!

ঝিলিককে নিয়ে শ্রীময়ী যখন হোস্টেলের সামনে পৌঁছল, তখন চারদিকটা শুনশান৷ সামনের দিকে ব্যারিকেড করে প্ল্যাকার্ডের উপর বড়-বড় অক্ষরে লেখা “ডু নট এন্টার…”

খবরটা কানে আসতেই ঝিলিক আঁতকে উঠেছিল৷ সিকিউরিটি গার্ড রামদীন প্রথম রুবেলকে ওই অবস্থায় দেখতে পায়৷ সকাল সাতটা তখন৷ খবরটা জানাজানি হতেই হস্টেলের সামনে ভিড় প্রায় উপচে পড়ে৷ ভাগ্যিস খবরটা পাওয়ার পর ঝিলিক ওই রুমে পৌঁছে পুলিশ আর স্কুল কর্তৃপক্ষের ভিড়ের মাঝেই নিজের কাজটা সেরে রেখেছিল৷ তা না হলে তো তদন্তের প্রতিটা কাজে পুলিশের থেকে অনুমতি নিতে হত৷ আর এই ঘটনাটা ঝিলিককে ভিতর থেকে ভীষণ নাড়া দিয়েছে৷ রুবেল তার খুব প্রিয় বন্ধু না হলেও এমন একটা সম্ভাবনাময় ছেলের এভাবে আত্মহত্যা মেনে নেওয়া যায় না!

এগারো নম্বর হস্টেলটা কেমন যেন ভূতুড়ে বাড়ির মতো। একতলা বাড়ি, রংচটা দেওয়াল৷ চারপাশটা শুনশান৷ হস্টেলটা স্কুলের মেন বিল্ডিং থেকে বেশ খানিকটা দূরেই৷ ঝিলিক শুনেছে এই হস্টেলে আগেও একজন আত্মহত্যা করেছিল৷ কিন্তু রুবেলের মতো একজন আর্টিস্ট হয়তো এমন নিরিবিলিতেই থাকতে চেয়েছিল৷ তার ঘরের দেওয়ালে অসাধারণ শিল্পকার্যের নমুনা৷ আর নামকরা আর্টিস্টদের ছবি টাঙানো৷ ঘরের বাইরে লম্বা করিডোর৷ আর করিডোর পেরিয়ে কমন বাথরুম৷ ঘরের উত্তরদিকের জানলা খুললে কয়েক কিলোমিটার দূরে সমাধিক্ষেত্র চোখে পড়ে৷ গোধূলিবেলার বিকেলে প্রায়ই রুবেলকে একা-একা ওখানে বসে থাকতে দেখা যেত৷ ও যেন ওই সমাধিক্ষেত্রের মধ্যে খুব মন দিয়ে কিছু খোঁজার চেষ্টা করত৷

শ্রীময়ী এতক্ষণ খুব মনোযোগ দিয়ে ঝিলিকের প্রতিটা কথা শুনছিল৷ এখন সে ঝিলিককে জিজ্ঞেস করল, “ঝিলিক, চিঠির পাতাগুলো সঙ্গে আছে? একবার বের কর তো৷”
চিঠিগুলো হাতে পেতেই তাকে একেবারে অবাক করে দিয়ে শ্রীময়ী একটা চিঠির একদম উলটো দিক চোখের সামনে মেলে ধরল৷ আর সঙ্গে-সঙ্গে ফুটে উঠল অতি যত্নে পেনসিল স্কেচ করা একটি সুন্দর পোর্ট্রেট৷ এটি কোনও ছেলে না মেয়ে, সেটা নিশ্চিত বোঝা যাচ্ছে না৷ যদিও পোর্ট্রেটে আঁকা চরিত্রে খানিকটা মেয়েলি মুখের আভাস পাওয়া যায়, কিন্তু সে যে আদপে একটি ছেলে তা তার গালের উপর খোঁচা-খোঁচা দাড়ির আভাস বুঝিয়ে দিচ্ছে৷
শ্রীময়ী বলল, “একে চিনিস?”
ঝিলিক ছবিটা বেশ কিছুক্ষণ দেখার পর উৎসাহে চিৎকার করে বলে উঠল, “আরে, এ তো জিৎদা৷ আমাদের স্কুলের সিনিয়র৷ এখন বোধ হয় কলেজে পড়ে৷ কিন্তু রুবেলের ঘর থেকে পাওয়া চিঠির পিছনে জিৎদার ছবি কেন?”
শ্রীময়ী ঝিলিকের পিঠ চাপড়ে দিয়ে বলল, “সাবাশ, এই ছেলেটির সব ডিটেলস চাই আমার।”

বাজারের পিছন দিকটায় একটা পুরনো বইপত্রের দোকান আছে৷ শ্রীময়ী আজ আবার তিতলি হয়ে গিয়েছে৷ কলেজ স্টুডেন্ট সেজে সে বেশ কয়েকদিনই এই দোকানে আসে আর বইপত্র ঘাঁটাঘাঁটি করে বিকেল চারটে থেকে সন্ধে ছ’টা পর্যন্ত৷ দোকানে একটি নেপালি মেয়ে বসে৷ নাম রিন্টি৷ ঘাড় অবধি চুল, হাইলাইট করা৷ হাত, ঘাড় এমনকী, গলার বিভিন্ন অংশে ট্যাটু৷ ভুরুর উপর আর থুতনিতে দুল৷ স্লিম ফিগার, বেশ স্টাইলিশ৷ বয়স খুব বেশি নয়৷ চব্বিশ-পঁচিশ হবে বড়জোর৷ কথাবার্তা বড়ই কাঠ-কাঠ৷ কেউ বেশি দরদাম করতে এলে তাকে যথেষ্ট কথা শোনাতে ছাড়ে না সে৷ তিতলি বেশ কয়েকদিন ধরে রিন্টিকে লক্ষ করছে৷ এখানে রোজ আসার আর একটি বিশেষ কারণ আছে বই কী৷ চিঠির কাগজের গায়ে এই দোকানের নাম লেখা স্ট্যাম্প আর ঝিলিকের অন্যান্য তথ্যসংগ্রহ বলছে, জিৎ এই দোকানে প্রায়ই আসে৷

ওই ঘটনার পর প্রায় দিনসাতেক কেটে গিয়েছে৷ তিতলি রোজই এখানে আসে, দু’-একটা করে বইও কেনে৷ কিন্তু একদিনও এখনও জিৎকে দেখতে পেল না! ঝিলিকটা ঠিক খবর পেয়েছে তো! এই দোকানটাই তো? না, ঝিলিক যেমন কাজের মেয়ে, ওর তো ভুল হওয়ার কথা নয়! কাজেই অপেক্ষা করা ছাড়া আর উপায় কী?

রিন্টি যেন আজ একটু বেশিই সাজগোজ করেছে না? মেয়েটার মুখে একটা আলাদাই সেক্স অ্যাপিল আছে বলতে হবে! তিতলি একটা পুরনো আর্টের বই নিয়ে নাড়াচাড়া করছে, এমন সময় হঠাৎ কাঠের দরজা ঠেলে এটা কে ঢুকল দোকানে? এটাই জিৎ না? পোর্ট্রেটের সঙ্গে খুব একটা পার্থক্য নেই বললেই চলে৷ বুকের মধ্যে ঢিপ ঢিপ শব্দ শুনতে পেল তিতলি৷ দোকানে খুব একটা লোকজন থাকে না এই সময়টা৷ যে দু’-একজন এসেছিল তারাও চলে গিয়েছে৷ আর ঠিক এই সময় এককোণে দাঁড়িয়ে একটা বইয়ের পাতায় চোখ রেখে কান খাড়া করে দু’জনের কথোপকথন শোনার চেষ্টা করতে লাগল সে৷

জিৎ এককথায় হ্যান্ডসাম৷ চোখদুটো টানা-টানা৷ তবে মুখে একটা মেয়েলি মিষ্টত্বের ভাব স্পষ্ট৷ ঝাঁকড়া-ঝাঁকড়া চুল৷ গালের উপর খোঁচা-খোঁচা দাড়ি৷ বলিষ্ঠ হাত ও কাঁধ৷ হাতের উপরিভাগ জুড়ে মস্ত বড় করে আঁকা ড্রাগন ট্যাটু৷ এক কথায় দেখে যে-কোনও মেয়েরই প্রেমে পড়ার মতো সুন্দর চেহারা জিতের৷ রুবেল যে সত্যি একজন বড় মাপের আর্টিস্ট ছিল তা জিতের মুখ তার পোর্ট্রেটের সঙ্গে মেলালে হুবহু বোঝা যাবে৷ কিন্তু ওর চোখে-মুখে একটা ভয়ের ছাপ কেন? কোনও কারণে যেন খুব আশঙ্কিত!

খুব মন দিয়ে শ্রীময়ী ওদের কথা শুনতে লাগল৷ এ কী! রিন্টি তো দিব্যি পরিষ্কার বাংলায় কথা বলছে জিতের সঙ্গে৷ শ্রীময়ী শুনতে পেল জিৎ বলছে, “কাজটা ঠিক হল না দিয়া৷ আমি আগেই বলেছিলাম যে ড্রাগের ডোজ়টা অনেক বেশি হয়ে যাচ্ছে৷ ও আমাদের রেগুলার কাস্টমার ছিল৷ এটা না করলেই পারতিস৷”

শ্রীময়ীকে অবাক করে দিয়ে রিন্টি হেসে উঠল সজোরে৷ সাপের মতো বিষাক্ত দৃষ্টি তার চোখে৷ ফিসফিসিয়ে বলল, “কাস্টমার? হা হা হা হা হা… ছেলেটার সঙ্গে যে তোর সেই কোনকাল থেকে ফষ্টিনষ্টি ছিল সে কি আমার জানতে কিছু বাকি আছে? একটা মেয়ে হলেও বুঝতাম, কিন্তু কী ছিল ওই ছেলের মধ্যে, যা তুই আমার মধ্যে পাসনি?”

রিন্টি ওরফে দিয়ার গলাটা যেন অভিমানে প্রচ্ছন্ন , তার মধ্যেই সিংহীর মতো প্রকাণ্ড গর্জন!

শ্রীময়ীর বুকটা ছ্যাঁৎ করে উঠল৷ ঠিক যা ভেবেছে তাই৷ তার আগেই সন্দেহ হয়েছিল রিন্টিকে বাংলা কবিতার বই পড়তে দেখে৷

জিৎ উত্তরে কী বলল, ঠিক বোঝা গেল না৷

এমন সময় রিন্টি হিসহিসিয়ে বলে উঠল, “তুই শুধু আমাকে নয়, রুবেলকেও ঠকিয়েছিস৷ আমি তোদের দু’জনের ঘনিষ্ঠতার ছবি দেখেছিলাম তোর মোবাইলে৷ ড্রাগের নেশায় যখন ছেলেটা চুর থাকত, তখন তুই তার সুযোগ নিয়েছিস বছরের পর-বছর৷ তুই কাউকে ভালবাসিসনি৷ না আমাকে আর না ওকে! আর ছেলেটা তোকে ভালবেসে… ছি! কিন্তু আমি সবটুকু জানার পরও তোকে ক্ষমা করেছিলাম জিৎ, কারণ আমি শুধু তোকেই ভালবাসি সেই স্কুলের দিনগুলো থেকে৷ তোকে আমি কিছুতেই হারাতে চাইনি৷ কিন্তু সেদিন রিইউনিয়ন পার্টির সন্ধেয় তোদের একসঙ্গে দেখে আমার মাথায় খুন চেপে গিয়েছিল৷ আর, তখনই সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি৷”

জিৎ খুব ভয়ে-ভয়ে জিজ্ঞেস করল, “কিন্তু ড্রাগের কড়া ডোজের নেশায় ও এমনিতেই হয়তো আত্মহত্যা করত৷ আমি বারণ করার পরও তুই নিজে হাতে কেন ওকে… আর কীভাবে ?”

দিয়ার দু’চোখে হিংস্র শ্বাপদের হাসি৷ সে বলল, “সুযোগ খুঁজছিলাম৷ একদিন পেয়েও গেলাম৷ ও রুমে একা ছিল৷ গরমের ছুটিতে বাকিরাও বাড়ি চলে গিয়েছিল৷ মিনতিদি রোজ ওদের রাতের খাবার পৌঁছে দিত৷ সেদিন মিনতিদির শরীর খারাপ বলে ছুটি নিয়েছিল৷ এটা শুধু আমি জানতাম কারণ ওর বর আমার দোকানে কাজ করে৷ আমি সুযোগ বুঝে মিনতিদি সেজে খাবার নিয়ে ওর ঘরে যাই৷ খাবারের মধ্যে বেশি পরিমাণে ড্রাগ মিশিয়ে দিয়েছিলাম৷ তক্কে তক্কে ছিলাম৷ খাবার খেয়ে ও অচৈতন্য হয়ে যেতেই আর দেরি করলাম না৷ ব্লেডটা নিয়ে একেবারে… তারপর এমনভাবে সবটা সাজিয়ে আসি যাতে সবাই ভাবে আত্মহত্যা!”

বলতে-বলতে দিয়ার মুখটা ক্রমশ হিংস্র হয়ে উঠতে লাগল৷ শ্রীময়ীর সব প্ল্যান আগে থেকেই ছকা ছিল৷ গ্রিন সিগন্যাল দিলেই ঝিলিকের পুলিশ নিয়ে দোকান ঘিরে ফেলার কথা৷ এতক্ষণে হয়তো চলেও এসেছে ওরা৷ শ্রীময়ী বইটা টেবিলের উপর রেখে ওদের দিকে এগিয়ে যেতেই রিন্টি হঠাৎ চিলচিৎকার করে উঠল “কেয়া হুয়া?”

শ্রীময়ী বলল, “না, একদম চিৎকার না৷ ড্রাগ-ডিলার রিন্টি ওরফে দিয়া ওরফে অদ্রিজা তোমার সব কুকীর্তি আজ ফাঁস হয়ে গিয়েছে৷ আর জিৎ ওরফে শ্রীজিৎ মিত্র তুমিও কুকীর্তি কম করোনি৷ ধরা তো তুমি আগেই পড়েছ৷ প্রেমের অভিনয় করে আর ড্রাগের নেশা ধরিয়ে স্কুলের জুনিয়র ছেলে-মেয়েদের তুমি নষ্ট করেছ, আর তার সঙ্গে কারও-কারও অনুভূতির সুযোগ নিয়ে মলেস্টেশন আর ব্ল্যাকমেল… ছি! এত বিকৃত রুচি তোমার?
“তবু তদন্তে সহযোগিতার জন্য আর এতক্ষণ ধরে নাটক আর ভয়েস রেকর্ড করে খুনিকে হাতেনাতে ধরিয়ে দিতে সাহায্য করার জন্য হয়তো আইনের কাছে তোমার শাস্তি কিছুটা হলেও কমবে, কিন্তু ভগবানের কাছে তোমরা দু’জনই সমান দোষী!”

দিয়া মুহূর্তের মধ্যে একটা ব্লেড নিয়ে নিজের হাতের শিরা কাটতে যাওয়ার চেষ্টা করতে যেতেই শ্রীময়ী দৌড়ে গিয়ে তাকে ধরে ফেলে আর বলে, “তুমি যা করেছ তার ক্ষমা হয় না৷ রক্ত আর কারও প্রাণের বিনিময়ে আর যা হোক, ভালবাসা পাওয়া যায় না দিয়া, এটা জেনে রেখো। সো ইউ আর নাও আন্ডার অ্যারেস্ট মিস অদ্রিজা সেন৷”

ছবি : মহেশ্বর মণ্ডল


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত