সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

এবারের সম্মেলনে চাঙা উপেক্ষিত নেতাকর্মীরা

আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে দলের বিভিন্ন স্তর এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনে শুদ্ধি অভিযান শুরু হওয়ার পর নতুন করে সম্মেলনের ইঙ্গিত পেয়ে উপেক্ষিত নেতাকর্মীরা চাঙা হয়েছেন। সম্মেলন ঘিরে নতুন উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।

আওয়ামী লীগের তিন অঙ্গ ও এক সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনের ব্যাপারে সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পাওয়ার পরপরই দলীয় কার্যালয়গুলোতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যায়।

জানা গেছে, আগামী ৯ নভেম্বর যুবলীগ, ২ নভেম্বর কৃষক লীগ, ১৬ নভেম্বর স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও ২৩ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা করা হয়েছে। ভারতে সফরে যাওয়ার আগের দিন রাতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সিদ্ধান্ত দিয়ে যান। দীর্ঘদিন যাবত অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা সম্মেলন না পেয়ে প্রায় ঝিমিয়ে পড়েছিলেন। দলীয় কোনো কর্মসূচি পালন ছাড়া তাদের সংগঠনের কার্যালয়ে খুব বেশি দেখা যায় না। আবার অনেকে সম্মেলন না পেয়ে হারিয়ে যেতে বসেছেন। তবে সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশের পরপরই নিজ সংগঠনের কার্যালয়ে অবহেলিত নেতাকর্মীরা নিজেদের অবস্থান জানান দিচ্ছেন। দল-বল নিয়ে তারা আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়েও হাজির হচ্ছেন। পদ পাকাপোক্ত করতে এখন থেকে দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

গত বুধবার সন্ধ্যায় গণভবনে আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে এক অনির্ধারিত বৈঠকে দলীয় প্রধান শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের আগেই দলের তিন সহযোগী ও এক ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি পুনর্গঠনে সম্মেলন আয়োজনের নির্দেশনা দেন। সংগঠনগুলো হলো যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও কৃষক লীগ এবং ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগ।

জানা গেছে, নির্দেশনা আসার পর থেকেই সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা নড়েচড়ে বসতে শুরু করেছেন। সংগঠনগুলোতে সম্ভব্য প্রার্থী কারা হতে পারেন— এখন থেকেই জল্পনা-কল্পনা শুরু হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের অবস্থান জানান দিতে শুরু করেছেন অনেক নেতা।

উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়মিত হলেও দলের অন্যতম সহযোগী সংগঠন যুবলীগের সম্মেলনজট লেগেই আছে। সর্বশেষ ২০১২ সালের ১৪ জুলাই যুবলীগের ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলন হয়। ওই কাউন্সিলে যুবলীগের চেয়ারম্যান হন ওমর ফারুক চৌধুরী। ওই কমিটিতে সাধারণ সম্পাদক হন হারুন-অর-রশিদ। ২০১২ সালের ১১ জুলাই মোল্লা মো. আবু কাওসারকে সভাপতি ও পঙ্কজ দেবনাথকে সাধারণ সম্পাদক করে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সর্বশেষ কমিটি হয়। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই কৃষক লীগের সর্বশেষ কমিটি হয় মোতাহার হোসেন মোল্লাকে সভাপতি ও খন্দকার শামসুল হক রেজাকে সাধারণ সম্পাদক করে। আর সভাপতি শুক্কুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম নেতৃত্বাধীন শ্রমিক লীগেরও মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়েছে প্রায় তিন বছর আগে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: Content is protected !!