সোমবার, ২৯ নভেম্বর ২০২১

এশিয়ার শহরগুলোর খাদ্য চ্যালেঞ্জ বাড়ছে?

এশিয়ার দ্রুত বর্ধনশীল শহরগুলোর কয়েক কোটি শিশু ও বয়স্ক জনগোষ্ঠী পুষ্টিহীনতায় ভুগছে। বিস্তৃত, টেকসই ও পুষ্টিসংবেদনশীল নগর পরিকল্পনা ছাড়া এ বিশাল জনগোষ্ঠীর অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে না বলে গতকাল জাতিসংঘের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। খবর আলজাজিরা।

ব্যাংককে একটি প্রতিবেদন প্রকাশকালে জাতিসংঘের চারটি সংস্থা জানিয়েছে, এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটিতে নগরায়ণের হার সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে অপুষ্টিতে থাকা বিশ্বের ৮২ কোটি ১০ লাখ জনগোষ্ঠীর অর্ধেকের বেশি এ অঞ্চলে বসবাস করছে। জাতিসংঘের ফুড অ্যান্ড এগ্রিকালচার অর্গানাইজেশন (এফএও), ইউএন চিলড্রেন’স ফান্ড (ইউনিসেফ), ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি) ও ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশনের (ডব্লিউএইচও) আঞ্চলিক প্রধানরা জানান, এ অঞ্চলে পুষ্টিহীনতা হ্রাসের গতি ভয়াবহভাবে মন্থর হয়ে পড়েছে।

এক বিবৃতিতে তারা বলেন, পল্লী অঞ্চল থেকে নগর অঞ্চলে অভিবাসনের হার দ্রুতগতিতে চলছে এবং দরিদ্রতম পরিবারগুলোয় এ হার উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেশি। যার কারণে বিশ্বের বহু দেশকে নগরে অপুষ্টির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হচ্ছে।

এর আগে এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ জানায়, যুদ্ধ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০১৭ সালে টানা তৃতীয় বছরের মতো বিশ্বে ক্ষুধা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ২০৩০ সাল নাগাদ ক্ষুধামুক্ত বিশ্বের বৈশ্বিক লক্ষ্যমাত্রাকে ক্ষুণ্ন করছে। একই সময় বিশ্বে স্থূলতার হারও বৃদ্ধি পেয়েছে। মানুষের মধ্যে উচ্চমাত্রায় লবণ, চর্বি ও চিনিসমৃদ্ধ প্রক্রিয়াজাত খাবার গ্রহণের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় গত বছর বিশ্বের প্রতি আটজনের মধ্যে একজনের বেশি মানুষকে স্থূলতায় ভুগতে দেখা গেছে। এর মধ্যে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শিশুদের মধ্যে স্থূলতা দ্রুতগতিতে বাড়তে দেখা গেছে।

বিশ্বের দুই শীর্ষ জনবহুল দেশ চীন ও ভারত। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৫০ সাল নাগাদ দেশ দুটিতে বৈশ্বিক জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ বসবাস করবে। এর মধ্যে দেশ দুটির আরো প্রায় ৬৯ কোটি মানুষ গ্রাম থেকে শহরে স্থানান্তরিত হবে।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত