বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

কফিশপের আড়ালে জঙ্গি প্রশিক্ষণ : গ্রেফতার ৪

নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন আনসার আল ইসলামের একটি গ্রুপ সুন্দরবন ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানের গহিন অরণ্যে প্রশিক্ষণ নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বান্দরবানের আলীকদমে জায়গা লিজ নিয়ে কফিশপ গড়ে তোলে সেখানেই জঙ্গি প্রশিক্ষণ চলত। ওই গ্রুপটি রাজধানী ঢাকায় হামলার প্রস্তুতিও নিয়েছিল।

বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থেকে নিষিদ্ধ সংগঠনটির চার সদস্যকে গ্রেফতারের পর  শুক্রবার এসব তথ্য জানিয়েছেন পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা। আনসার আল ইসলাম এক সময় আনসারুল্লাহ বাংলা টিম (এবিটি) নামে দেশে জঙ্গি তৎপরতা শুরু করে। সরকার ওই সংগঠনটি নিষিদ্ধ করলে পরে আনসার আল ইসলাম নাম ধারণ করে।

গ্রেফতার চারজন হলো- শাহীন ওরফে ওমর, সাইফুল ইসলাম, হানিফুজ্জামান ওরফে বিপ্লব ও আল মামুন। তাদের কাছ থেকে তিনটি চাপাতিসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণ উপকরণ জব্দ করা হয়েছে।

কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওমর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। সে আনসার আল ইসলাম ও আরেক জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবিকে একই প্ল্যাটফর্মে নেওয়ার চেষ্টা করে আসছিল। অন্য তিনজনের মধ্যে সাইফুল একটি মাদ্রাসার ছাত্র এবং বিপ্লব ও মামুন কলেজে পড়ে। এরই মধ্যে তারা সংগঠনের নির্দেশে বাড়ি থেকে পালিয়ে ‘হিজরত’ করে। চারজনই যাত্রাবাড়ীর বাসায় বসে ঢাকায় হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।

শুক্রবার দুপুরে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে ওই চারজনকে গ্রেফতারের তথ্য জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন কর্মকর্তারা। সেখানে ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ও কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম বলেন, গ্রেফতার চারজন তাদের কথিত শায়খের নির্দেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই সেলটির নেতা ওমর সাউথ কোরিয়ার আংশু ইউনিভার্সিটির এভিয়েশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সে ফেসবুকের মাধ্যমে একটি গ্রুপ তৈরি করে। এরপর আনসার আল ইসলামের মূল নেতৃত্বের সঙ্গে সংযুক্ত হয়ে কিছুদিন আগে দেশে ফিরে আসে।

সিটিটিসি প্রধান বলেন, এই গ্রুপটি সুন্দরবনের করমজল এলাকায় প্রথমে সাত দিনের প্রশিক্ষণ নেয়। এরপর বান্দরবানের আলীকদমে একটি জায়গা লিজ নেয়। সেখানে কফিশপের আড়ালে তারা প্রশিক্ষণ সেন্টার তৈরি করে এক মাসের প্রশিক্ষণ নেয়। এরা মূলত সেখানে চাপাতি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ নেয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এর বাইরে ফিজিক্যাল ট্রেনিং ছাড়াও এরা ধর্মের অপব্যাখ্যা দেওয়ার বিষয়টি পুরোপুরি রপ্ত করে। যে শায়খের নির্দেশে শাহীন আলম ও তার গ্রুপের সদস্যরা প্রশিক্ষণ নিয়েছিল, সেই ব্যক্তিকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে জানিয়ে মনিরুল ইসলাম বলেন, এরা যেসব ডিভাইস ও শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার করত সেগুলো জব্দ করা হয়েছে। কথিত ওই শায়খের সঙ্গে আনসার আল ইসলামের নেতা চাকরিচ্যুত মেজর জিয়ার কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি-না, শায়খকে গ্রেফতার করা গেলেই তার সবকিছু জানা যাবে। এছাড়া মেজর জিয়া বর্তমানে সাংগঠনিক কার্যক্রমে খুব বেশি সক্রিয় নেই বলেই মনে হচ্ছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত