বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০

করোনাকালের ডায়েরি : আনু আশরেফা

ঘড়ির কাটা টিকটিক বেজেই চলছে অবিরাম। সময়ের ভীষণ তাড়া সবসময়; অথচ এদিকে ঘোর অন্ধকার, সময়ের কত অপচয়।

জীবন থেকে একটি করে দিনের কি নিদারুণ অপচয়।
সময়ের তাড়া আছে। কিন্তু আমাদের নেই।

হঠাৎ করেই সবকিছু থমকে দাঁড়িয়েছে। ভোরের প্রথম সূর্যটাও আমাদের একটুও আনন্দ দিচ্ছে না।
সকালে উঠে সারাদিনের কাজের রুটিন বদলে গেছে, নিজের আনন্দের কাজটিও পুরোপুরি সুখ দিচ্ছে না।মনে হচ্ছে দুঃসময়ে বাস করে শুধু দুঃস্বপ্ন দেখছি।

মনে হয় এই গভীর অন্ধকার ভেদ করে কবে দেখব
আলোর রেখা।
মন যে অস্থির, নিরুপায়। মন যে কত কী চায়।
দৃষ্টির সীমারেখা কল্পনা ভেদ করতে চায়।
মনে হাজারটা প্রশ্নের বাস। কোন উত্তর নেই।
আলো যেন নিভে গেছে।

এই অন্ধকারে নিমজ্জিত অজ্ঞাতবাস ছেড়ে আলোর পৃথিবীতে ফিরতে চাই। সব সংশয় দূর হোক।
ফিরে চাই মানুষের স্বাভাবিক জীবন, মানুষ ফিরুক আপন আলোয়। কেউ কোথাও অনিচ্ছাকৃত একা না থাকুক।
প্রেমিক ফিরুক প্রেয়সীর কাছে নির্ভয়ে,
বাবা ফিরুক সন্তানের কাছে আদর নিয়ে।
মায়ের ক্রন্দনরত প্রতীক্ষার ভাষা মনটাকে আর্দ্র করে অবিরাম।
অবেলার হঠাৎ ঘুমে দেখা দুঃস্বপ্ন যেভাবে দিনের আলোয় মুছে যায় মন থেকে।
তেমন ভাবেই মুছে যাক করোনার ক্রান্তিকাল।
তোমাকে হারানোর ভয়, নিজে হারিয়ে যাবার ভয় কেটে যাক।

আমি সারারাত্রি ধরে তোমার বুকে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চাই। বাহিরে ঝরুক তখন আষাঢের ঝুম বৃষ্টি।

আমার চোখে আটকে আছে হাজার রাত্রির ঘুম।শতাব্দীর ভয়াবহ অন্ধকার দৃষ্টিসীমা আগলে রেখেছে।
আমি দুচোখ ভরে দেখতে চাই সুস্থ পৃথিবী।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত