শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১

করোনাকালে গর্ভবতী মায়ের যত্ন ও সাবধানতায় করণীয় কী?

চলছে করোনাকাল। গর্ভাবস্থায় যেকোনো জীবাণুবাহিত রোগ খুব সহজেই আক্রমণ করে। কারণ, এ অবস্থায় গর্ভবতী মায়েদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। যেকোনো ভাইরাস সংক্রমণ গর্ভবতী মায়ের ওপর প্রভাব ফেলে, ফলে গর্ভপাত, সময়ের আগে প্রসব অথবা বাচ্চার গঠনগত ত্রুটি হতে পারে। কিন্তু করোনাভাইরাস গর্ভবতী মায়েদের ওপর ও বাচ্চার ওপর কী প্রভাব ফেলে, তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি। তাই স্বাভাবিকভাবে প্রজনন ক্ষমতাসম্পন্ন সব মহিলারই কোনো না কোনো জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত, যেন কোনো অপরিকল্পিত গর্ভধারণ না হয়। তবে গর্ভপাতের প্রয়োজন নেই।

লক্ষণ

কভিড-১৯ ভাইরাস বিভিন্ন লোকের ওপর বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। আক্রান্ত ব্যক্তিদের প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষই হালকা থেকে মাঝারি ধরনের অসুস্থতা অনুভব করে থাকেন এবং বাসায় চিকিৎসা নিয়ে ভালো হয়ে যান। অন্যদিকে যাদের রক্তচাপ হৃদরোগ এবং রক্তে অতিরিক্ত মাত্রায় চিনির পরিমাণ বেশি থাকে, তাদের অবস্থা খারাপ হয় এবং হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়। তাই সাধারণ উপসর্গগুলো হচ্ছে জ্বর, শুকনো কাশি, ক্লান্তি ভাব, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, কোমর ব্যথা ও যন্ত্রণা, ডায়রিয়া, স্বাদ-গন্ধ না পাওয়া।

রক্ষা পাওয়ার উপায়

সংক্রমিত ব্যক্তির শ্বাস-প্রশ্বাস ও স্পর্শ দ্বারা এ রোগ ছড়ায়। গবেষণায়, আক্রান্ত ব্যক্তির মল ও বীর্যেও রোগের জীবাণু পাওয়া গেছে। সীমিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, প্রসবের সময় বা বুকের দুধে ভাইরাসের উপস্থিতির এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে বিভিন্ন দেশের গবেষণাগুলো দেখলে বোঝা যায় গর্ভাবস্থার শেষের দিকে মায়েদের সংক্রমণের সংখ্যা বেশি। তবে এ সম্পর্কে তথ্যের অভাব রয়েছে। নবজাতকের সংক্রমণ ও বেশ কয়েকটি তথ্য পাওয়া গেছে। কিন্তু গর্ভাবস্থায় নাকি প্রসবের পর বাচ্চাটি সংক্রমিত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

এই রোগের সংক্রমণ রোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে। ঘরেই থাকতে হবে। মাস্ক পরে বাইরে যেতে হবে। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। যেসব পরিবারে গর্ভবতী মা আছেন, সে ক্ষেত্রে পরিবারের বাকি সদস্যদের অতিরিক্ত সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। যেন কেউ আক্রান্ত না হন।

আরও পড়ুন:

সহকারী শিক্ষিকাকে ধর্ষণ করলেন প্রধান শিক্ষক

আজীবন যৌবন ধরে রাখার উপায়

গর্ভবতী মায়ের করণীয়

গর্ভাবস্থায় গর্ভবতী মায়েরা যেসব ওষুধ সেবন করেন, যেমন ফলিক অ্যাসিড, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ভিটামিন-বি কমপ্লেক্স, সেগুলো চালিয়ে যাবেন। আলাদা ঘরে থাকবেন। মাস্ক পরিধান করবেন। প্রচুর পরিমাণ পানি ও সুষম খাবার খাবেন। বারবার হাত ধোবেন। ডিম ও দুধ বেশি খাবেন। এ ছাড়া সমস্যা অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন করতে হবে। যদি শ্বাসকষ্ট, বাচ্চার নড়াচড়া কম, পানি ভেঙে যাওয়া বা রক্তক্ষরণ, বুকে ব্যথা, পাতলা পায়খানা হয়, তবে অবশ্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হবে। পরিবারের যে ব্যক্তি আক্রান্ত মায়ের সেবা করবেন, তিনি অবশ্যই সুরক্ষাসামগ্রী ব্যবহার করবেন এবং বারবার হাত ধোবেন। করোনা-আক্রান্ত মা মাস্ক পরিধান করে, হাত ও স্তন পরিষ্কার করে বাচ্চাকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারবেন।

করোনা একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা বিভিন্ন মানুষের ওপর প্রভাব ফেলে। পরিমিত পরিসংখ্যানের অভাবে সুনির্দিষ্টভাবে এখনো বলা যাচ্ছে না যে, গর্ভবতী মায়ের ওপর করোনা কী কী প্রভাব ফেলেছে। তাই গর্ভাবস্থায় এই সংক্রমণ রোধে আমাদের সচেষ্ট থাকতে হবে। ঘাবড়ে গেলে চলবে না। সাবধানতা ও সতর্কতাই এ রোগ থেকে আমাদের মুক্তি দিতে পারে।

লেখক- ডা. সামিরা এরিন এমবিবিএস (ডিইউ)‌, এফসিপিএস (অবস অ্যান্ড গাইনি), সিসিডি (বারডেম) গাইনোকলজিস্ট এবং অবস স্পেশালিস্ট এবং সার্জন রেজিস্ট্রার  গাইনি এবং অবস বিভাগ ডেল্টা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত