বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২০

করোনার চিকিৎসা : প্লাজমা থেরাপিতে আশার আলো

বিশ্বব্যাপী প্রাণঘাতী করোনা চিকিৎসায় এখনও কার্যকর কোনো ভ্যাকসিন বা ওষুধ আবিস্কার হয়নি। বিভিন্ন দেশের একশ’টির মতো ভ্যাকসিন ও ওষুধের কার্যকারিতা প্রমাণের কাজ চলছে বলে গতকাল বৃহস্পতিবার জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

যুক্তরাষ্ট্র কয়েকদিন আগে রেমডিসিভির নামে একটি ওষুধ করোনা চিকিৎসায় কার্যকর বলে জানানোর পর বিশ্বব্যাপী এই ওষুধ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেক দেশেই এটি উৎপাদনের হিড়িক পড়েছে। বাংলাদেশেও কয়েকটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে এটি উৎপাদন করেছে।

এমন অবস্থায় এবার করোনা চিকিৎসায় প্লাজমা থেরাপি নামে আরেকটি পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নতুন এই থেরাপির মধ্যে করোনা চিকিৎসায় আশার আলো খুঁজছেন অনেকে। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ভারতসহ অনেক দেশ এ পদ্ধতি প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে।

বাংলাদেশও প্লাজমা থেরাপির কার্যকারিতা পরীক্ষায় শামিল হতে যাচ্ছে। আগামী সপ্তাহ থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল প্লাজমা থেরাপির কার্যকারিতা পরীক্ষা শুরু করতে যাচ্ছে। সফল হলে এটি করোনা আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসায় মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন সংশ্নিষ্টরা।

প্লাজমা ও প্লাজমা থেরাপি কী : চিকিৎসকরা জানান, রক্তের তরল, হালকা হলুদাভ অংশকে প্লাজমা বা রক্তরস বলা হয়। তিন ধরনের কণিকা ছাড়া রক্তের বাকি অংশই প্লাজমা বা রক্তরস। মেরুদণ্ডী প্রাণীর শরীরে রক্তের প্রায় ৫৫ শতাংশ রক্তরস থাকে।

এই প্লাজমা বা রক্তরস কীভাবে প্রয়োগ করা হবে- এ নিয়ে কয়েকজন চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এই ভাইরাস মোকাবিলা করে টিকে থাকতে এন্টিবডি তৈরি করে। এই এন্টিবডি করোনাভাইরাসকে আক্রমণ করে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির প্লাজমা বা রক্তরসে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিবডি তৈরি হয়। এই অ্যান্টিবডিই অন্য রোগীদের সুস্থ করার কাজে ব্যবহার করা হবে।

গত ৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন-এফডিএ করোনা চিকিৎসায় পরীক্ষামূলকভাবে প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগের সুপারিশ করে। বাংলদেশেও এ পদ্ধতির কার্যকারিতা পরীক্ষার লক্ষ্যে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের হেমাটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. এম এ খান।

আগামী সপ্তাহে এই কার্যক্রম শুরুর আশাবাদ ব্যক্ত করে তিনি বলেন, এই পরীক্ষা শুরুর জন্য যে কিটের প্রয়োজন, তা আমাদের হাতে আছে। এ জন্য সংশ্নিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদনও নেওয়া হয়েছে। আপাতত ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি থাকা করোনা আক্রান্ত রোগীদের ওপর এ পদ্ধতি প্রয়োগ করা হবে।

এরপর ধাপে ধাপে রাজধানীর আরও যেসব হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগী ভর্তি আছেন, তাদের ওপর প্লাজমা থেরাপি প্রয়োগ করার পরিকল্পনা রয়েছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত