বুধবার, ১২ মে ২০২১

করোনা পরামর্শ : লকডাউন কেমন হওয়া উচিত

ডা. শাহরিয়ার রোজেন

লকডাউন কার্যকর করার জন্য প্রয়োজন কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করা, যেমনটা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করা হয়েছে। বিশ্বের অধিকাংশ দেশ স্তরভিত্তিক (step-wise) প্রতিরোধব্যবস্থা প্রয়োগ করে, যেখানে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে সব জনসমাগম নিষিদ্ধ করা হয়।

লকডাউন দেওয়া হয় একেবারে শেষ পর্যায়ে। আশা করছি, দেশে এবার যে লকডাউন শুরু হলো, সেটি যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমেই প্রয়োগ করা হবে। তবে আট দিনের লকডাউনের কার্যকারিতা নিয়ে কিছুটা সংশয় থেকেই যায়। কারণ কোভিড-১৯ ভাইরাসের সুপ্তিকাল কিন্তু দুই সপ্তাহ। তাই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে হলে দুই সপ্তাহের লকডাউন দেওয়ার বিষয়ে ভাবা যেতে পারে।

যে কোনো দেশের জন্যই লকডাউন বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন কাজ। এ জন্য প্রয়োজন শক্তিশালী পরিকল্পনা, যথাযথ প্রয়োগ এবং সঠিক সমন্বয়। এক্ষেত্রে আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মধ্যে একটা ভালো সমন্বয় থাকা প্রয়োজন।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজন দুই ধরনের পরিকল্পনা। প্রথমটি হবে স্বল্পমেয়াদি ও দ্বিতীয়টি হবে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা। স্বল্পমেয়াদি পরিকল্পনার অধীনে অবশ্যই দুই সপ্তাহ লকডাউন দেওয়া প্রয়োজন।

তবে দীর্ঘমেয়াদি লকডাউনের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, কোভিড-১৯ ভাইরাস বেশি ছড়ায় জনসমাগম থেকে। যেখানে মানুষের ভিড় বেশি হয়, যেমন সামাজিক অনুষ্ঠান, কমিউনিটি সেন্টার, পিকনিক স্পট, রাজনৈতিক জনসভা-এ ধরনের স্থানগুলোতে সংক্রমণ ছড়ায়। আর তাই দীর্ঘমেয়াদে এই জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে দুই ধরনের পরিকল্পনা করতে হবে। প্রথমটি হলো সামাজিক ও দ্বিতীয়টি হলো অর্থনৈতিক। এ ক্ষেত্রে যদি সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে, অর্থাৎ নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে শনাক্তের হার কমে আসে, তাহলে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে কিছুটা শিথিলতা আনা যেতে পারে। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো যেতে পারে।

কিন্তু এ সময় সামাজিকভাবে যে কোনো ধরনের জনসমাগমকে নিরুৎসাহিত করতেই হবে। ভাইরাস বেশি ছড়ায় এমন কোনো সামাজিক অনুষ্ঠান, পিকনিক স্পট, রাজনৈতিক সমাবেশ কঠোরতার সঙ্গে নিষিদ্ধ করা প্রয়োজন সংক্রমণের মাত্রা কমে আসার আগ পর্যন্ত।

ডা. শাহরিয়ার রোজেন : জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, কানাডা


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত