মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

কাক || সুকান্ত সিংহ

আপনাকে বাগে আনা গেল না অজিতবাবু। ইনফরমেশনে কোনও ভুল ছিল না। দোতলা বাড়ি, দুটো দোকান, চারচাকার গাড়ি, ছেলে বাইরে পড়ছে, মেয়ে পাত্রস্থ। সমস্যাটা হলআপনি একটু বয়স্ক মানুষকেই ভরসা করেন। সে এজেন্ট যদি রাজনীতির কোনও জামা পরে, তাহলে বিশ্বাস আরও গাঢ় হয়। আমার মতো সাইকেল ঠেঙিয়ে আসা এজেন্ট আপনার যোগ্য নয়, চায়ের কাপ দেখেই বুঝেছি। পলিসি বোঝানোতে ত্রুটি ছিল না। ক্যালেন্ডার দিয়েছি। একটা গিফটের ছবিও মনে মনে এঁকে রেখেছিলুম। অভাব তো কিছু নেই, তবু, হয়তো প্রিমিয়ামের ছাড়টাই পছন্দ করবেন

অজিতবাবু, আপনার বসার ঘরের পুবদিকের দেওয়ালে যেছবিটা রাখা আছে, তাতে একটা ভিজে কাক তারে বসে আছে। মানে বুঝে কিনেছিলেন কিনা আমার জানা নেই। প্রিন্ট ছবি। সেই কাকটা আমি বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে আমার কাঁধে এসে বসেছে। আপনি কি এখন ছবিটার কাছে দাঁড়িয়ে আছেন? জগত্বিষয়ে আপনার বাস্তববুদ্ধি কোনও দিনও বুঝতে পারবে না যে, কাকটি আমার সঙ্গে চলে এসেছে। ছবিতে যেটি আছে, সেটি ছায়া মাত্র।

আমার সাইকেল পিচরাস্তা ছেড়ে এখন মোরামে। আমার ব্যাগে বিমা কোম্পানির ফর্ম, সস্তার ক্যালকুলেটর, কোণ ভাঙা ডাইরি। আর গত দুবছর আগে বেরনো চটি কবিতার বই। ওষুধের ধার, মুদির হিসেব আছে ব্যাগের অন্য খোপে। আপনাকে পলিসিটা করাতে পারলে হাতে কিছু আসত। টার্গেট একটু হালকা হত। তা হল না। সারা সন্ধেটা আপনার জন্য অপেক্ষা করে এই রাত্রি সাড়ে নটা নাগাদ বাড়ি ফিরছি। ফিরেই হাসছি, যাতে বাড়ির লোকেরা একটু ভরসা পায়।

আপনার সত্যিই কোনও দোষ নেই অজিতবাবু। যেখানে বেশি সুবিধে, বেশি বিশ্বাস, আপনি তো সেখানেই যাবেন। কেবল আপনার বসার ঘরের পুবদিকের দেওয়ালের প্রিন্ট ছবি থেকে উড়ে আসা জলে ভেজা কাকটা আমার কবিতার বইয়ে শরীর ঢুকিয়ে দিচ্ছে। ক্রমাগত!

অঙ্কন: শুভম দে সরকার


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত