সোমবার, ২৫ জানুয়ারি ২০২১

কাগজের টুকরোর ভেতর কিশোরের ক্ষতবিক্ষত লাশ

অষ্টম থেকে নবম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়ে নতুন বই পেয়েছিল মেহেদী হাসান। অন্যান্য সহায়ক বই কিনতে তার কিছু টাকার দরকার ছিল। এর জন্য চার দিন আগে স্থানীয় একটি পেপার মিলে কাজে যোগ দেয় সে। সোমবার ভোরে কাগজের টুকরোর ভেতর পাওয়া যায় তার ক্ষতবিক্ষত লাশ। মেশিনের কনভেয়ার বেল্টে রাখা কাগজের বান্ডিলের ভেতরে ঘুমিয়েছিল ক্লান্ত মেহেদী। এই ঘুমই তার জন্য কাল হলো। মিনিট বিশেকের মধ্যে মেশিনের ফিতা ঘুরতে শুরু করলে কাগজের বান্ডিলের সঙ্গে সেও ঢুকে যায়। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ছোট কাঁসর এলাকার ভূঁইয়া পেপার মিলসে।

নিহত মেহেদী হাসানের বাবা ট্রাকচালক রফিকুল ইসলাম। থাকত উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের পাড়াগাঁও গ্রামের আশ্রয়ণ প্রকল্পে। পাড়াগাঁও নবদিগন্ত হাই স্কুলের ছাত্র মেহেদী পড়াশোনা করে পরিবারের অভাব ঘোচানোর স্বপ্ন দেখেছিল। কাগজের টুকরো সঙ্গে তার স্বপ্নও টুকরো টুকরো হয়ে মিশে গেল।

ভালুকা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মেহেদী হাসান বলেন, কারখানাটির সিসিটিভির ফুটেজ দেখে তারা জানতে পেরেছেন, ভোর রাতে ৯ জন শ্রমিক কারখানায় কাজ করছিলেন। শীতের ভোরে কাজের ফাঁকে কোনো কোনো শ্রমিক বিশ্রামও নিচ্ছিলেন। এ সময় সবার অজান্তে পেপার মিলে নতুন কাজে যোগ দেওয়া মেহেদী হাসানও মেশিনের ফিতার ওপরে রাখা কাগজের বান্ডিলের ভেতরে ঢুকে ঘুমিয়ে পড়ে। এর মিনিট বিশেকের মধ্যে মেশিনের ফিতা ঘুরতে শুরু করে। মেহেদীকে নিয়েই কাগজের বান্ডিল মেশিনে ঢুকে যায়। এতে মেশিনের ভেতরের পাখায় কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত