বুধবার, ০৮ এপ্রিল ২০২০

কারাগারের রোজনামচা

ফারহানা নীলা

তোমাকে সুখী করতে না পারার অপরাধে জারি হলো হুলিয়া!
অপবাদ ভেবে বেশ চলছিল দিনকাল,
সূচীশৈলীতে জোড়াতালিও বেশ!
বিশ্বাস করুন ধর্মাবতার, বিশ্বাস করুন-
এজলাসে ভর মানুষের মাঝে বিবস্ত্র ভালবাসাকে জড়িয়ে নিয়ে সফেদ আঁচলে সজোরে বলে উঠি!
ভালবাসার সর্বাঙ্গে সু্ইমুখী সূচ, সাতকাহনে অপরাধের বিশদ বর্ণনা,
কালোজিরা দুখগুলো,
তিলেভাজা ব্যথাগুলো,
মৌরি সুবাসে অত্যাচারিত দিন!

অত্যাচারে মেরুদন্ড তখন ঝাঁঝরা
সহ্যের সীমার অধিক আরো!
উপেক্ষার কষাঘাতে ঝরে কষানি
অসহ্য দুর্গন্ধী;
এজলাসে আমি আর আমার ভালবাসা,
আমি আর আমার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র- বর্ধিত শ্বাসমূল!

বিশ্বাস করুন ধর্মাবতার-
অট্টরোলে কিছু শোনা যায় না,
অট্টহাসিতে ফোটে ঘৃনাগুল্ম!
ঘোষিত হয় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড,
পঞ্চাশোর্ধ জীবনের কারাবাস- মুচকি হাসে!
রিক্ততা আমার ঝুলে রয় কারাগারের মিনারে
শূন্যতা আমার গিলে খায় দৌরদন্ডপ্রতাপে!
বিবস্ত্র ভালবাসার আর্তনাদে কেঁপে ওঠে মজলিস,
ফিসফিস আওয়াজে বস্ত্রহরণের শব্দ আসে ভেসে!

ধর্মাবতার বিশ্বাস করুন–
সে কখনো সুখ খোঁজে নি,
চায়নি কখনো সুখী হতে!
অপলাপে মিথ্যেকে সত্য বলে ভেবে নিয়ে,
সে আপাদমস্তক পুরুষ!

চালশে চোখ বেয়ে নামে আক্ষেপের নোনাজল–
তুমি এমন মানুষ কবে হলে!
এমন পুরুষ কবে হলে!
কেন প্রেমিক হলে না তুমি?
কেন বন্ধু হলে না তুমি!

যাবজ্জীবন কারাভোগের রোজনামচায়
আত্মজীবনী লেখা হয়,
লেখা হয় সশ্রম দন্ডে দন্ডিত দিনলিপি!


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত