শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১

কিছুকাল ভালোবেসে তারপর

হাসান হামিদ

ভালোবেসে বেসে আমিই তোমাকে মাথায় তুলেছিলাম।
ভালোবাসার কোন স্বাদ-গন্ধ তোমার জানা ছিল না;
তুমি স্বপ্ন দেখাতেও বড্ড আনাড়ি ছিলে,
অভিমানের কড়া পাহারায় ছিটকে পড়া
অশুভ কান্নার স্বভাব ছিলো তোমার–
আর নাকের উঠোনে ছিলো
প্রাগৈতিহাসিক পৌরুষের পরিত্যাক্ত ঘ্রাণ।

তুমি ছিলে অশ্লীলতার ড্রেনে পড়ে থেঁতলে যাওয়া মাকড়সা,
ছিলে পাপের গলিতে পচা-বাসি খাবারে উড়ন্ত মাছির মতোন;
আমাকে ভালোবাসার আগে কখনোই

তোমার ভোরের চৌকাঠে অঞ্জলী দিতো না কবিতা।আমার ভালোবাসা পেয়ে
কিশোরী বয়সেই পরিপূর্ণ নারীর মতোন
বুকের উনুনে শুকাতে শিখেছিলে ক্ষরণ;
শিখেছিলে ভালো থাকার সাত-পাঁচ হিসাব আর
মিতালী স্নেহের স্বপক্ষে থেকে বীজবুননের কলা-কৌশল।

তোমার সৌন্দর্য জ্ঞান ছিলো না ।
এখনকার মতো চমৎকার জীবনবোধ ছিলো না ।
বিসর্গের যে বিন্দুতে দুঃখ থাকে, সেই বন্দরে
অবস্থান ছিলো তোমার, তুমি মোটেই জানতে না
অস্থায়ী অনুকূলের নৈর্ব্যক্তিক রূপায়ণ;
ক্যামোফ্লেজে লুকিয়ে রেখেছিলে কিছু সবিনয় শোক-সন্তাপ।

আমিই বাল্যশিক্ষার মতো মুখে মুখে পড়িয়ে
তোমায় সব মুখস্ত করিয়েছি-
শিখিয়েছি নিঃশ্বাসের তারায় আগুন জ্বালানো-নেভানো;
আর আমার ভালোবাসা পেয়ে
তরতরি বেড়ে উঠেছিলে তুমি।
তোমার সীমাবদ্ধতাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে
টপকাতে পেরেছিলে অসংলগ্নতার সীমানা পাঁচিল।
দাঁড়াতে পেরেছিলে সফেদ নখাগ্র হতে
দয়িতের গ্রীবা বরাবর।

তারপর আমার ভালোবাসার জৈব সারে বেড়ে
বৃক্ষ বনে যাওয়া তুমি দুপায়ে দ্বীধাহীন দলে গেছো ঘাসের চিবুক,
নতুন কেনা শার্টে বিচিত্র কোন দাগ দেখে
কপাল কুচকানোর মতো আমিও তোমার
অপ্রত্যাশিত-অনাকাংখিত প্ররোচনায় অস্থির—
হয়তো আমি কালি শেষ হওয়া দোয়াতের মতোই পরিত্যক্ত।
অথচ ভালোবেসে আমিই মাথায় তুলেছিলাম তোমাকে;
আমার বিপ্রতীপ প্রশ্ন আর তস্কর স্মৃতির আঙুল ধরেই
জীবন ভূমিতে সফলভাবে হাঁটতে শিখেছিলে।
হায়রে নিয়তি!


© দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত