বুধবার, ১২ মে ২০২১

কেজি দরে বিক্রির কারণে দাম বেড়েছে তরমুজের

তরমুজ এখন রাজধানীসহ বিভিন্ন বিভাগীয় শহরে কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। এই সুযোগে বিক্রেতাদের মুনাফা চরমে।

চলতি সপ্তাহে খুচরা বাজারে এক কেজি তরমুজের দাম চলছে ৫০ থেকে ৬০ টাকা কেজি। বেশি ভালো মানেরগুলো ৬৫ থেকে ৭০ টাকাতে বিক্রি হচ্ছে। এতে ৫ কেজির একটি তরমুজের জন্য ক্রেতার গুণতে হচ্ছে ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা!

অথচ এই তরমুজের দাম ১৫০ টাকার বেশি হওয়ার কথা নয়। প্রতি তরমুজ কমপক্ষে ১০০ টাকা বেশিতে বিক্রি হচ্ছে!

রাজধানীর নাগরিকরা মনে করেন, কেজি দরে বিক্রির কারণেই এমন দাম উঠেছে। এতো ভারী একটি ফল ছোট পরিবারের জন্য কিনতে গেলেও ৫ কেজির নিচে হয় না।

প্রশ্ন উঠেছে, এতো দাম হাঁকানো তরমুজের উৎপাদক প্রান্তিক চাষিরা কেমন দাম পাচ্ছেন? তারা পাইকারি বিক্রেতা বা আড়তদারদের কাছে বেশি দামে বিক্রি করায় কি আজ তরমুজের বাজারে আগুন? তারাও কি ব্যবসায়ীদের কাছে কেজি দরে বিক্রি করেন?

সব চাষিরাই জানিয়েছেন, ক্ষেত থেকে তোলা তরমুজ তারা কেজিতে বিক্রি করছেন না।  শ’ হিসেবে বিক্রি করেন বেশিরভাগ চাষি।

তবে ভোক্তাদের কাছে কেন এই পণ্য কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে?

ছোটবাইশদিয়া ইউনিয়নের কোড়ালিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি মজিবুর রহমান মিন্টু জানান, আড়তদারদের কাছে ২ কেজি ওজনের তরমুজ সর্বোচ্চ ৫০ টাকায় বিক্রি করতে পারেন তারা। ১০০ টাকায় যে তরমুজ বিক্রি হয় তার ওজন ৭-৮ কেজি হয়।

একই গ্রামের আরেক তরমুজ চাষী জাহিদ হাসানের মুখেও শোনা গেল একই তথ্য। এবার আড়তদারদের কাছে এই দামে তরমুজ বেচেই অনেক লাভবান তারা।

সে হিসেবে পরিবহনে উঠিয়ে দেওয়ার আগ পর্যন্ত ১০ কেজি ওজনের তরমুজের দাম ২০০-২৫০ টাকা, যা ঢাকায় আসার পর হয়ে যাচ্ছে ৬০০ টাকা!

পরিবহনে এতো খরচ? এ বিষয়ে জানা গেছে, সিন্ডিকেট ও মধ্যস্তভোগীরা বেশি লাভবান হতে এমন দর বাড়িয়ে দিয়েছেন। চাষিরা যদি সরাসরি ভোক্তাদের কাছে তরমুজ বিক্রি করতে পারে তাহলে দাম অনেক কম হবে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত