শনিবার, ১৪ ডিসেম্বর ২০১৯

কোরবানির গোশত গ্রহণে সতর্কতা

ডা: মিজানুর রহমান কল্লোল

আগামী ১২ আগস্ট পবিত্র ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ। আর কোরবানি মানেই হলো রেড মিট বা লাল গোশতের সম্ভার এবং এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মুখোমুখি হওয়া।

গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট ও দুম্বার গোশতকে বলে রেড মিট বা লাল গোশত। আর এ গোশতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে খারাপ কোলেস্টেরল, যা হৃৎপিণ্ডের প্রধান শত্রু। লাল গোশতে বিদ্যমান খারাপ চর্বি বা কোলেস্টেরল গ্রহণের ফলে হৃৎপিণ্ডের রক্তনালী বা ধমনীর অভ্যন্তরে চর্বি জমে তা সরু হয়ে যায়, ফলে রক্ত সরবরাহ ব্যাহত হয় এবং পরিণামে ঘটে হার্ট অ্যাটাক। তাই কোরবানির গোশত গ্রহণে অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে, নিতে হবে চিকিৎসকের পরামর্শ।

পশু কোরবানির পর গোশত কাটার সময় গোশতের গায়ে লেগে থাকা চর্বি যতটা সম্ভব কেটে বাদ দেবেন। গোশত রান্নার আগে গোশতকে আগুনে ঝলসে নিলে কিছু চর্বি গলে পড়ে যায়। এভাবে গোশতকে চর্বিমুক্ত করা যেতে পারে।

গোশতকে একটু হলুদ-লবণ দিয়ে সেদ্ধ করে রেফ্রিজারেটরে ঠাণ্ডা করলে কিছুটা চর্বি গোশত থেকে বেরিয়ে এসে জমাকৃত অবস্থায় থাকে। এ অবস্থায় বাড়তি চর্বিটুকু একটা চামচ দিয়ে আঁচড়ে সহজে বাদ দেয়া যায়। এ ছাড়া গোশতকে একটি র‌্যাক বা ঝাঁজরা পাত্রে রেখে অন্য একটি পাত্রের ওপর বসিয়ে চুলায় দিলে নিচের পাত্রে গোশতের ঝরে যাওয়া চর্বি জমা হবে। এ পদ্ধতিতে গোশত থেকে অনেক চর্বি বাদ দেয়া যায়।

অনেকে ঈদে মুরগির গোশত খেয়ে থাকে। তবে একটা বিষয় খেয়াল রাখতে হবে তা হলো মুরগির গোশত খাওয়ার সময় অবশ্যই মুরগির চামড়া বাদ দিয়ে খেতে হবে, কারণ একটা মুরগিতে যে পরিমাণ চর্বি থাকে তার অর্ধেকটাই আসে চামড়া থেকে। একই সাথে মগজ ও কলিজা বাদ দিয়ে খেতে হবে।

কোরবানির গোশত খাওয়ার সময় অবশ্যই কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, কারণ মন্দ কোলেস্টেরল নীরবে মৃত্যু ডেকে আনে। যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি কিংবা বিপদসীমার কাছাকাছি, তারা চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে গোশত খাবেন। যাদের বয়স ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে কিংবা ৩০ বছর বয়সের পর যাদের রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা ২০০-এর বেশি, তাদেরকে রেড মিট বা লাল মাংস একেবারেই না খাওয়ার জন্য বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত