শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৯

ক্ষণজন্মা জলময়ূরী

ফারহানা ফিরু

তোমাকে প্রথম দেখি আমি
আমাদের পাড়ার পাশে সনাতনী পাড়ার দুর্গাপূজার নবমীর দিন নিপেন কাকুর বাড়িতে
লুচি তরকারি খাওয়ার সময়।
টিয়া আর মেজেন্টা রঙ-এর সালোয়ার কামিজে তোমাকে একদম চন্দ্রমল্লিকা লাগছিলো যেনো।
তোমার পাশে তোমার বিধবা খালা
তোমাকে বারবার আড়াল করছিলো আমার থেকে।
বুঝতে পেরেছিলো বোধ হয়
আমি যে বারবার তোমায় দেখছিলাম সঞ্জবনী দৃষ্টিতে।

বছর খানেক তো হলো
তোমার মনটা পেতে সবচেয়ে চালাক শিয়ালের মতো তোমার পিছু নিচ্ছি,
এ্যাজ্মাওয়ালা মঙ্গুলু চাচার বাগানের সব ফুল থেকে শুরু নৃপেনের পুকুরের কলমিফুল পর্যন্ত পাঠালাম তোমায়,
নিজে গাছে উঠে, বৃষ্টিতে ভিজে কাচা আম, পেয়ারা, জাম, বড়ই, জামরুল ছিঁড়ে পাঠালাম,
জটিলেশ্বর, খুরশিদ আলম, লাকি আখন্দ, এসডি বর্মনের গান গুলো
বিশেষভাবে রেকর্ডিং করে
গোলাপের পাপড়িসহ মুড়িয়ে পাঠালাম,
শিউলি, বকুল ছিটালাম তোমার পথে,
এরপরও তোমার চাচাতো বোনগুলো তোমাকে ঘিরে ধরে স্কুলে নিয়ে যায় আবার নিয়েও আসে।
আমার বুঝি ইচ্ছে করেনা একটু তোমার সামনে গিয়ে তোমার মুখ খানি দেখতে দেখতে বলি!
তোমার চুল গুলো না বাঁশের চিকন পাতা, তোমার ঠোঁটে হাওয়াই মিঠাই এর মিষ্টতা যেনো,
বলতে ইচ্ছে করতো, তোমার কানের নীচে ঘাড় বরাবর একটা চুমু দেই? কি আলগোছে চাওয়া ছিলো আমার তাই না?

বুঝতাম, তুমিও আমায় চাইতে গভীর সন্তর্পণে।
অনেক কৌশলে তাই যেদিন দেখা করলাম তোমার সাথে সেই সেনুয়া নদীর পাড়ে,
আমি জানাতে এক্টুও সময় নেইনি, তুমি আমার দানবীয় আকাঙ্ক্ষার শিশু সুলভ চাওয়া,
তুমি আমার কক্ষচ্যুত কৃপায় মঙ্গল সম্প্রদান,
তোমার ছিপছিপে গড়নটিকে আলিঙ্গনে বেঁধে
বলতে দ্বিধা করিনি তোমায় আমি চাই সারাজীবন আমার পাশে পাশে,
আমার হৃদয়ের একদম গা ঘেঁষে।

ভালোবাসার উচ্ছলতায় পায়রাবতী আমার
অবশেষে ঘরে এলো শিশির ভেজা এক প্রাতরাশে।
পৃথিবী জোড়া সুখ নিয়ে চলছিল বেশ মিল অমিলের আর খুঁনসুটির স্নেহলতার সংসার।
শ্লথ হলো হঠাৎ একদিন ওর জীবন গতি,
এলো বলে আমাদের ভালোবাসার ঐশ্বরিক পুষ্প!
এবড়েখেবড়ো হলাম দেখে পুষ্পটা ফোটাতে ওর প্রাণপণ যুদ্ধের কৌশল দেখে।
শংকা বাস্তবে রুপায়িত হয়
যখন আমি রুঢ় অবিবেচকের মতো পুষ্পোদ্যান থেকে শুধু পুষ্পটাকে তুলে আনতে বাধ্য হই।
টিকলি পরা, দু’ বেনী করা আমার সেই দুরন্ত পদ্মটাকে ওরা চির নিদ্রায় শায়িত করলো সেনুয়া গোরস্থানে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত