বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০

খুলনা আওয়ামী লীগে নতুন মেরুকরণ

সাম্প্রতিক সংসদ নির্বাচনের পর খুলনায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ ঘটেছে। কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন মহানগর সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান ও তার অনুসারীরা। মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে নতুন নেতৃত্ব প্রত্যাশীদের মধ্যে। স্থবির হয়ে পড়েছে জেলা ও নয়টি উপজেলায় দলীয় কার্যক্রম। এ অবস্থায় সাধারণ নেতাকর্মীরা মহানগর ও জেলার শীর্ষ নেতাদের বদলে নিজ নিজ এলাকার সংসদ সদস্যের দিকে ঝুঁকে পড়েছেন।

অন্যদিকে, ১৪ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো বিভাগীয় এ নগরীতে অনেকটাই নিষ্ফ্ক্রিয়। খুলনায় জোটের ৭টি শরিক দলের অস্তিত্ব রয়েছে। এগুলো হচ্ছে- ওয়ার্কার্স পার্টি, ন্যাপ, সাম্যবাদী দল, জাসদ, গণতন্ত্রী পার্টি, জাকের পার্টি ও জাতীয় পার্টি (জেপি)। তবে নির্বাচনের পর থেকে ওয়ার্কার্স পার্টির দলীয় কর্মকাণ্ড অনেকটাই ঝিমিয়ে পড়েছে। অন্য ৬টি দলের অস্তিত্বও বলা চলে নামে মাত্র।

এমপিকে ঘিরে সাংগঠনিক বলয় :দশম সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ (খুলনা সদর ও সোনাডাঙ্গা) আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজান। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে নানা কারণে দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। দলে কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন  এক সময়কার প্রভাবশালী এ নেতা। এ আসনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চাচাতো ভাই শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলকে ঘিরে দলে সাংগঠনিক প্রভাব বলয় গড়ে উঠেছে।

এর আগে নেতাকর্মীরা মহানগর সভাপতি ও সিটি মেয়র তালুকদার আবদুল খালেক এবং সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মিজানের নেতৃত্বাধীন দুটি গ্রুপে বিভক্ত ছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের পর মিজানের অনুসারীদের কেউ কেউ তালুকদার আবদুল খালেক অথবা শেখ সালাহ উদ্দিন জুয়েলের দিকে ঝুঁকে পড়েন। আর তাই মিজানের বাড়ি ও ব্যক্তিগত কার্যালয় এখন আর সারাদিন নেতাকর্মীদের পদচারণায় মুখরিত হয় না। তবে সিটি মেয়র খালেক ও সংসদ সদস্য জুয়েলের মধ্যে সুসম্পর্ক রয়েছে।

মহানগরের অন্য আসন খুলনা-৩-এর অন্তর্ভুক্ত খালিশপুর, দৌলতপুর ও খানজাহান আলী থানার নেতাকর্মীরা এ আসনের তিনবারের সংসদ সদস্য ও শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের পেছনে রয়েছেন। মূলত মন্নুজান সুফিয়ানকে ঘিরেই এখানকার সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড আবর্তিত হচ্ছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত