বুধবার, ১৩ নভেম্বর ২০১৯

খেলাপিদেরই আবার ঋণ দিচ্ছে জনতা ব্যাংক

কোনো ঋণখেলাপি প্রতিষ্ঠানকে নতুন ঋণ দিতে পারে না ব্যাংক। তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানার জনতা ব্যাংকে ওই অনিয়ম ঘটেছে। এ ক্ষেত্রে সুবিধাভোগী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন বা বিএসএফআইসি। ওই সংস্থার চেয়ারম্যান জনতা ব্যাংকের পরিচালক থাকার সুবাদে প্রভাব খাটিয়ে ডাউন পেমেন্ট ছাড়াই খেলাপি ঋণ পুনঃতফসিল এবং নতুন ঋণ অনুমোদনের ব্যবস্থা করেছেন। এসব অনিয়মের কারণে জনতা ব্যাংকের কাছে ব্যাখ্যা তলব করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর জনতা ব্যাংকের পর্ষদ বৈঠকে বিএসএফআইসির ৭৮৯ কোটি ৮২ লাখ টাকার ঋণ পুনঃতফসিল ও ২৪৫ কোটি ৫০ লাখ টাকার নতুন ঋণ প্রস্তাব ওঠে। এই প্রস্তাব বৈঠকের এজেন্ডায় ছিল না। এজেন্ডা-বহির্ভূতভাবে এত বড় প্রস্তাব উত্থাপনের বিরোধিতা করেন বৈঠকে উপস্থিত একাধিক পরিচালক। যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী সভায় তা উত্থাপনের অনুরোধ জানান তারা। তা সত্ত্বেও সরকারের অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা বিএসএফআইসির চেয়ারম্যান অজিত কুমার পালের চাপে শর্তসাপেক্ষে প্রতিষ্ঠানটির অনুকূলে সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।

আইন অনুযায়ী স্বার্থসংশ্নিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাবে অজিত কুমার পালের নিশ্চুপ থাকার কথা। বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী পর্ষদ বৈঠকে যে কোনো প্রস্তাব আগে থেকেই এজেন্ডাভুক্ত করে অন্তত তিন দিন আগে পরিচালকদের জানাতে হবে। এ ক্ষেত্রে আইন ও নির্দেশনা দুটিই লঙ্ঘন করা হয়েছে। আর অন্য ব্যাংকে খেলাপি থাকলেও পুনঃতফসিল ও নতুন ঋণ অনুমোদনেও আইন মানা হয়নি। জানতে চাইলে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জামালউদ্দিন আহমেদ এফসিএ বলেন, বিএসএফআইসি সরকারি সংস্থা। জনতা ব্যাংকের মালিক সরকার। এ ছাড়া সার, খাদ্যসহ সরকারের অগ্রাধিকার কিছু ক্ষেত্রে অনেক সময় ঋণ প্রস্তাবের অনুমোদন দিতে হয়। পর্ষদের সিদ্ধান্ত বাংলাদেশ ব্যাংকের অনাপত্তির জন্য পাঠানো হয়েছে। অনাপত্তি পেলে এরপর ঋণ পুনঃতফসিল ও নতুন ঋণ অনুমোদন কার্যকর হবে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত