বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০

খেলার সঙ্গী গলা কেটে হত্যা করল পাঁচ বছরের শিশুকে

বাবা-মায়ের আদরের ছোট্ট শিশু শামীম। বয়স ৫। এ বছরই তাকে স্কুলে দিতে চেয়েছিল বাবা-মা।  অথচ তার আগেই শিশুটিকে ব্লেড দিয়ে গলা, ঘাড় ও কান কেটে হত্যা করেছে সুজন নামের ১০ বছর বয়সী তারই খেলার সঙ্গী।

নিহত শামীম টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হাদিরা ইউনিয়নের সেনেরচর বন্দহাদিরা গ্রামের মো. হাবিব মিয়ার ছেলে। রোববার দুপুরে স্থানীয় একটি ধানক্ষেত থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ সুজনকে আটক করেছে। সুজন ওই গ্রামের শামসুল ইসলামের ছেলে।

পুলিশ জানায়, পাশাপাশি বাড়ি থাকায় শামীম ছিল সুজনের খেলার সঙ্গী। গত শনিবার শামীমকে ১০ টাকা দিয়ে তার বাবা হাবিব মিয়া কাজে চলে যায়। এরপর সুজন এসে শামীমকে নিয়ে দোকানে গিয়ে পাউরুটি কিনে খায়। তারপর কিছু মার্বেল কিনে এনে বাড়ির উঠানে খেলতে থাকে। এ সময় মার্বেলের চাল নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় দু’জনের মধ্যে। এরপর সুজন তাকে বাড়ির কাছের ধান ক্ষেতের মেশিন ঘরে নিয়ে যায়। সেখানে মুখ চেপে ধরে পুরাতন একটি ব্লেড দিয়ে শামীমের গলা কাটে সুজন। এক পর্যায়ে শামীম নিস্তেজ হয়ে পড়লে তার কান, ঘাড় ও শরীরের বিছিন্ন অংশে কাটা হয়।

এরপর লাশ ওই ঘরের মধ্যে রেখেই বাড়িতে চলে যায় সুজন। পরে বিকেলে ওই মেশিন ঘরে গিয়ে তার লাশ টেনে প্রায় আধা কিলোমিটার দূরে একটি ধান ক্ষেতে রেখে আসে সে। এদিকে ছেলেকে না পেয়ে দুপুর থেকে রাতভর বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে শামীমের মা-বাবা। পরে রোববার সকালে গ্রামে মাইকিংও করা হয়। এরপর রোববার দুপুরে শ্রমিকরা ধানক্ষেতে কাজ করতে গিয়ে এক শিশুর রক্তাক্ত লাশ পড়ে থাকতে দেখে। পরে শামীমের মা-বাবা গিয়ে লাশটি শনাক্ত করেন। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত