শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১

গত ১০০ বছরে যেভাবে বদলেছে পবিত্র নগরী মক্কা

আগের মক্কা নগরী আর এখনকার মক্কা নগরী একেবারেই আলাদা। গত ১০০ বছরে এই নগরী অনেক বদলে গেছে। প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে আসা লাখ লাখ হাজির স্থান সংকুলানের জন্য গত কয়েক দশকে গ্র্যান্ড মসজিদের প্রাঙ্গণের আয়তন অনেক বাড়ানো হয়েছে। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কা ও মদিনার দুটি প্রধান মসজিদে সমস্ত নামাজ স্থগিত করে। সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর সাত মাস বাদে মসজিদ দুটিতে আবার নামাজ পড়া শুরু হয়। ২০২০-এর ১ নভেম্বরে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা সীমিত সংখ্যক মুসলিমকে উমরাহ ভিসা দেওয়া শুরু হয়।

২০১৯ সালে সৌদি আরব জানায়, গত ৫০ বছরে সাড়ে তারা ৯ কোটির বেশি হাজিকে আতিথেয়তা দিয়েছে। তবে এ বছরও ২০২০ সালের মতোই কোনো বিদেশি হাজি হজে অংশ নিতে পারেননি না। সৌদি আরব নিয়ম করে দিয়েছে, ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী টিকা নেওয়া ৬০ হাজার ব্যক্তি এবার হজ করবেন। তাই হয়েছে।

ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভ বা রুকনের একটি হজ। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সক্ষম সকল মুসলিমের জন্য জীবনে অন্তত একবার হজ করা ফরজ। করোনা মহামারির আগে প্রতি বছর সারা বিশ্ব থেকে প্রায় আড়াই কোটি মুসলিম মক্কায় হাজির হতেন হজ করার জন্য।

ইসলাম ধর্মালম্বীদের বিশ্বাস, নবী ইব্রাহিম (আ.) ও তার ছেলে ইসমাইল (আ.) কাবাকে আল্লাহর ঘর হিসেবে তৈরি করেছিলেন। পবিত্র কাবা বেশ কয়েকবার নির্মিত ও পুনর্নির্মিত হয়েছে। কাবার ভিত মজবুত করার জন্য সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে এতে বড় সংস্কারকাজ চালানো হয়। বিশ্বের সকল মুসলিম কাবার দিকে ফিরে নামাজ পড়েন।

৬৩২ খ্রিষ্টাব্দে হযরত মুহাম্মদ (স.) তার ‘বিদায় হজে’ যা যা করেছিলেন, হাজিরাও হজে সেই কাজগুলোই করেন। হজের মাধ্যমে মুসলিমরা অন্তরের কালিমা পরিষ্কার করেন, এবং স্রষ্টার নৈকট্য লাভ করেন।

ইসলামী চন্দ্র ক্যালেন্ডারের দ্বাদশ ও সর্বশেষ মাস জিলহজের আট তারিখে হজ্ব অনুষ্ঠিত হয়। হজ্ব পাঁচ দিন ধরে হয়ে থাকে। এ সময় মিনা, আরাফাত পর্বত, মুজদালিফা, জামারাত এবং গ্র্যান্ড মসজিদসহ মক্কার আশপাশের স্থানগুলোতে যেতে হয় হাজিদের।

শত শত বছর ধরে সারা বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে উটের পিঠে বা জাহাজে চেপে কয়েক সপ্তাহ সফর করে হজ করতে মক্কায় এসেছেন হাজিরা। আধুনিক প্রযুক্তির কল্যাণে তারা এখন বিমানে চেপে মাত্র কয়েক ঘণ্টায় চলে আসতে পারেন হজ করতে।

২০১২ সালে ১৯০টিরও বেশি দেশ থেকে প্রায় ৩২ লাখ হাজি মক্কায় হাজির হয়েছিলেন হজ করতে। এক বছর পর মিডল ইস্ট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম বা মার্স করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের ফলে প্রায় দশ লক্ষ হাজি মক্কা সফর বাতিল করতে বাধ্য হন।

২০২০ সালে, কোভিড-১৯-এর প্রাদুর্ভাবের পর সৌদি কর্মকর্তারা ঘোষণা দেন, সৌদি আরবের মাত্র ১০ হাজার মানুষকে হজ করার অনুমতি দেওয়া হবে— বিদেশি হাজিরা হজ্ব পালনের অনুমতি পাবেন না।

এবছর ১৮ থেকে ৬৫ বছর বয়সী ৬৫ হাজার সৌদি নাগরিক হজ করতে পেরেছেন। অবশ্য সবার টিকা নেওয়া থাকতে হবে এ কথা আগেই বলে দেওয়া হয়েছে।

২০২০ সালের ১৯ মার্চ সৌদি কর্তৃপক্ষ মক্কা ও মদিনার দুটি প্রধান মসজিদে সমস্ত নামাজ স্থগিত করে। সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পর সাত মাস বাদে মসজিদ দুটিতে আবার নামাজ পড়া শুরু হয়। ২০২০-এর ১ নভেম্বরে সৌদি আরবের বাইরে থেকে আসা সীমিত সংখ্যক মুসলিমকে উমরাহ ভিসা দেওয়া শুরু হয়।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত