মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

গর্ভাবস্থায় ডিপ্রেশন থেকে মুক্তির জন্য কী করবেন?

গর্ভাবস্থায় আপনার শারীরিক সুস্থতার সাথে মানসিক সুস্থতাও জরুরি। আপনি সুস্থ থাকলেই আপনার শিশুর সুস্থ বিকাশ হবে। নিজের ভাল লাগার কাজগুলো বাড়িয়ে দিন। আরামদায়ক গোসল, নিজেকে পরিচ্ছন্ন রাখা, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, গান শোনা, ভাল  বই পড়া, প্রার্থনা করা ইত্যাদি আপনার মনে প্রশান্তি এনে দিবে।

গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করে হাটাহাটি বা হালকা ব্যায়াম করতে পারেন। গর্ভাবস্থায় হালকা যোগ ব্যায়াম আপনার শক্তির মাত্রা বৃদ্ধি করে এবং মন ভাল করার ডোপামাইন হরমোনের উৎপাদন বৃদ্ধি করে।যা আপনাকে ডিপ্রেশন কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করবে।

গর্ভাবস্থায় কাজ মানসিক চাপের মাত্রা বাড়াতে পারে, তাই আপনার গর্ভাবস্থা নিয়ে বসের সাথে এই সময় ফিল্ড ভিজিট,কাজের হালকা চাপ নেয়া ও প্রয়োজন মত যেন বিশ্রাম নিতে পারেন ইত্যাদি সংক্রান্ত খোলামেলা আলোচনা করে নেয়া ভাল।

একটানা বসে না থেকে পরিবারের ছোট খাটো দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন, কম পরিশ্রমের কাজগুলো করতে পারেন যেমন নিজে রান্না না করে রান্নাঘরে কি রান্না হবে আর কোনটা হবে না সেটা ঠিক করে দিতে পারেন। এতে করে আপনার মন এক জায়গায় কেন্দ্রীভূত হবে না।

গর্ভাবস্থায় পরিবারের বাড়তি দায়িত্ব নেওয়া থেকে বিরত থাকুন। এই সময়টায় আপনি স্বাভাবিকভাবেই শারীরিক ও মানসিকভাবে বেশ জটিল একটা প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান। ফলে যে কোন ধরণের কাজ আপনাকে দ্রুত ক্লান্ত করে তোলে। দেখা যাবে বাড়তি কাজের দায়িত্ব আপনি সঠিকভাবে পালন করতে পারবেন না আর এর ফলে বিষণ্ণতায় ভুগবেন।

একজন নারীর গর্ভাবস্থায় তাকে বিষণ্ণতা থেকে দূরে রাখতে পরিবারের মানুষগুলোর দায়িত্ব বাড়ির পরিবেশ শান্ত রাখা, এমন কোন পরিস্থিতি বা আলোচনা সন্তান সম্ভবা মায়ের সামনে করা উচিৎ নয় যাতে করে তিনি বিষণ্ণতা বা মানসিক অস্থিরতায় ভোগেন।

গর্ভাবস্থায় একজন নারীর সবচেয়ে ভালো আর কাছের মানুষের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় তার জীবন সঙ্গী। তাই গর্ভাবস্থায় তাকে সুস্থ ও খুশী রাখতে আপনাকে তার মধ্যে ইতিবাচক চিন্তা চেতনার বিকাশ ঘটাতে হবে। তাকে হাসি খুশী রাখতে কোথাও বেড়াতে নিয়ে যেতে পারেন অথবা পরিবারে যে নতুন সদস্য আসছে তাকে নিয়ে আগামী দিনের পরিকল্পনা করতে পারেন। এতো কিছুর ভিড়ে দেখবেন সে আর বিষণ্ণ হওয়ার সুযোগই পাচ্ছে না।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত