মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

গিরীশ গৈরিকের একগুচ্ছ কবিতা

 

বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি

 

বোবাদের বাগানে ফুল ফুটেছে

যেভাবে আকাশে সূর্য ওঠে

ফুলের গন্ধে অন্ধত্ব থেকে মুক্তি পাচ্ছে-রাত।

দিনের আলো পালিয়ে যাচ্ছে অন্যকোনো গ্রহে

তাই পৃথিবী এখন আলো ও অন্ধকারের অতীত।

 

বলো হে ‘বুদ্ধং শরণং গচ্ছামি’

আলো ও অন্ধকারহীন স্থান কোথায় আছে?

তুমি আমায় রামায়ণের ভাষায় বললে-

‘ধরণী, দ্বিধা হও!’

সেই থেকে আমি বুঝলাম-

ভালোবাসা বোধি প্রাপ্ত হলে

আলো ও অন্ধকারকে ছাড়িয়ে যায়।

 

 

অভিঘাত

 

পশ্চিম দিক থেকে একটি মিছিল পূর্বদিকে ধেয়ে আসছে

এই মিছিলের কোনো শব্দ নেই

কোনো পদযাত্রা নেই

এমনকি মিছিলের কাউকে দেখতেও পাওয়া যায় না।

তবুও টের পাই মিছিলটি ধেয়ে আসছে

যেভাবে পশ্চিম দিগন্তের অস্তগামী সূর্য-

রাতের অন্ধকারে নীরবে নিভৃতে পূর্ব দিগন্তে উদিত হয়।

 

কবিতা যেভাবে পবিত্র হয়ে ওঠে

সেভাবে মিছিলটিও ছড়িয়ে যাচ্ছে

তোমার হৃদয় থেকে আমার হৃদয়ে

আমাদের হৃদয় থেকে তোমাদের হৃদয়ে।

 

 

সন্ধান

 

প্রার্থনা সঙ্গীতের সাথে ভেসে আসে-মৃত্যু চিৎকার

আমি শিশুর নরম হাত ধরে বসে থাকি

আর বামকানে শুনি প্রার্থনা সঙ্গীত, ডানকানে মৃত্যু চিৎকার।

ঘাসের গন্ধ প্রাণভরে নিয়ে ভাবি-

চিতার ঘাসগুলো কেন বড্ড সবুজ?

রাতের নির্জনতায় পাখপাখালির শব্দ

এখনও শুনতে পাই।

তাই প্রতিভোরে ঘুম থেকে জেগে

একজন মানুষের ভেতর আরেকজন মানুষকে খুঁজি।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত