মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২০

Advertisement

চট্টগ্রামে ৩ মাসের শিশু করোনায় আক্রান্ত

Advertisement

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলায় ৩ মাস বয়সী শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে চট্টগ্রাম জেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৩৩২ জন।

গত সোমবার চট্টগ্রামে নতুন করে ৬৫ জনের শরীরে এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এদের মধ্যে তিন মাসে বয়সী ওই শিশু, ডাক্তার, পুলিশ সদস্য এবং মৃত ব্যক্তিও আছেন।

গত ২৯ এপ্রিল ৯ জন আক্রান্ত পরিবারের বড় ছেলে চট্টগ্রামে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হন। তিনি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন একটি দপ্তরের মহাপরিচালক এবং চট্টগ্রাম নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকায় থাকেন। গত ১৩ এপ্রিল তার বাবা মারা যান পটিয়ায়। সেখানে বাবার দাফনে অংশ নেন তিনি।

এর সপ্তাহখানেক পর তিনি আবার পটিয়ার বাড়িতে যান। সেখান থেকে ফিরে ২৯ এপ্রিল তিনি করোনা পজিটিভ হিসেবে শনাক্ত হন। এর পরপরই পটিয়ায় তার বাড়িটি লকডাউন করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।

গত ৭ মে ওই পরিবারের ১১ সদস্যের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এর চারদিন পর গত সোমবার ৯ জনের করোনা পজিটিভ ফলাফল আসে। চট্টগ্রামে এখন পর্যন্ত একই পরিবারে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা এটি।

জেলা সিভিল সার্জন সূত্রে জানা যায়, পটিয়ার কামালবাজার এলাকার ওই পরিবারে ৯ সদস্যের মধ্যে রয়েছে ৩ মাস ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশু। ৩ মাস বয়সী শিশুটি সারা দেশে এখন পর্যন্ত শনাক্ত হওয়া সবচেয়ে কম বয়সী করোনা পজিটিভ রোগী।

এ ছাড়া রয়েছেন ওই পরিবারের আরও তিন নারী-যাদের বয়স ২২, ৪২ ও ৬২ বছর। ১৮, ২৪ ও ৩৬, ৪৩ বছর বয়সী চার পুরুষ সদস্যের শরীরেও মিলেছে করোনার জীবাণু। 

এদের মধ্যে ২৪ ও ৩৬ বছর বয়সী পুরুষ দুজন ভাই, ৬২ বছর বয়সী নারীটি তাদের মা ও ৪২ বছর বয়সী নারীটি তাদের বোন, ৩ মাস ও ১১ বছরের মেয়ে দুটি তাদের বোনের মেয়ে। ২২ বছর বয়সী নারী ও ৮ মাস বয়সী শিশুটি ৩৬ বছর বয়সী পুরুষের স্ত্রী ও কন্যা। ১৮ বছর বয়সী কিশোর ওই পরিবারের কর্মচারী।

আক্রান্ত পরিবারের এক সদস্য বলেন, ‘আমাদের বড় ভাই চট্টগ্রামে করোনা পজিটিভ হয়ে হোম আইসোলেশনে আছেন। আমাদের কারোর কোনো উপসর্গ নেই। বড় ভাই পজিটিভ শনাক্ত হওয়ায় আমরা নমুনা পরীক্ষা করেছিলাম।’

পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘করোনা পজিটিভ শনাক্ত হওয়া এই পরিবারের সকল সদস্যকে পটিয়ায় নিজ বাড়িতে হোম আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। উনারা আগে থেকেই লকডাউনে ছিলেন। যেহেতু কারও কোনো উপসর্গ নেই, সেহেতু বাড়িতেই উনাদের আইসোলেশনে রাখা হয়েছে।’

চট্টগ্রাম সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি বলেন, ‘চট্টগ্রামে ফৌজদারহাটের বিআইটিআইডি, সিভাসু, চমেক ও কক্সবাজারে ৩৯৫ নমুনা পরীক্ষা করে চট্টগ্রামের আরও ৬৫ জনের দেহে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। এদের মধ্যে তিন মাসের শিশুসহ একই পরিবারের ৯ জন, ডাক্তার, পুলিশ সদস্য এবং মৃত ব্যক্তিও আছেন।’

Advertisement


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত