বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

চট্টগ্রাম আ’লীগে কমেছে কোন্দল বেড়েছে স্থবিরতা

বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যু এবং গত জাতীয় নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে ক্ষোভ বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে চট্টগ্রামে মহানগর আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে। এতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন মেরুকরণ। দীর্ঘদিন ধরে বিরাজমান দলীয় কোন্দলও পেয়েছে ভিন্নমাত্রা।

মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের বিরোধ ছিল চরমে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর মৃত্যুর পর সেই কোন্দল কমেছে অনেকখানি। তবে বেড়েছে সাংগঠনিক স্থবিরতা। গত পাঁচ মাসে নগর ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ জাঁকজমকের সঙ্গে কোনো দলীয় কর্মসূচি পালন করতে পারেনি।

দলের সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনগুলোতেও বিশৃঙ্খলা চলছে। টানা ১০ বছরের বেশি সময় দল ক্ষমতায় থাকায় এসব সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যেও অনেকটাই গা-ছাড়া ভাব দেখা যাচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতেও নেতাকর্মীদের তৎপরতা চোখে পড়ছে না বললেই চলে।

অন্যদিকে, রাজপথ উত্তপ্ত না থাকায় আওয়ামী লীগের সঙ্গে ১৪ দলীয় জোটের শরিকদের সখ্যেও ভাটা পড়েছে। মহিউদ্দিন চৌধুরী ১৪ দলের মহানগর সমন্বয়ক হিসেবে শরিকদের ঐক্যবদ্ধ ও সক্রিয় রেখেছিলেন। তার মৃত্যুর পর শরিক দলের সঙ্গে সমন্বয়হীনতা চলছে আওয়ামী লীগের; বেড়েছে দূরত্ব।

মহিউদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ সম্পর্কই ছিল মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজনের। তবে বর্তমানে মেয়র নাছির উদ্দীনের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটিয়েছেন সুজন। সাবেক সিডিএ চেয়ারম্যান ও নগরের কোষাধ্যক্ষ আবদুচ ছালামের সঙ্গেও নাছিরের দূরত্ব কমেছে।

তবে আগে সখ্য থাকলেও নাছিরের সঙ্গে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনের এমপি এম এ লতিফের দূরত্ব বেড়েছে। তিনি সম্পর্কের উন্নয়ন করছেন মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছেলে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সঙ্গে। নগরের আরেক এমপি চট্টগ্রাম-১০ আসনের ডা. আফছারুল আমীনের সঙ্গেও মেয়র নাছিরের সম্পর্ক এখন অনেকটাই শীতল। আগে তাদের মধ্যে খুবই ঘনিষ্ঠতা ছিল। এসব মেরুকরণ নগরে দলীয় রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। তবে নগরের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরীর সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক নাছিরের দূরত্ব না থাকায় আওয়ামী লীগের কোন্দল সার্বিকভাবে কমেছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত