সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সংস্কার প্রয়োজন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২৭ জানুয়ারি, ২০১৯ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেন। এর আগেও তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করেছিলেন। কোনো দেশের প্রধানমন্ত্রীর স্বয়ং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় পরিদর্শন করার ঘটনা বিরল। তিনি পরিদর্শনে গিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। বিভিন্ন বিষয়ে দিকনির্দেশনা এবং কার্যক্রমের মনিটরিং করেন, সমস্যার সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন।

এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানাই। আমাদের দেশের প্রশাসনে বড় একটা দুর্বলতা রয়েছে যে, নিয়মিত যথাযথ মনিটরিং, সুপারভিশন এবং ফলোআপ করা হয় না। এটা সর্বজনবিদিত যে, প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং তার কার্যালয়ে বা গণভবনে বসে সব কাজের নজরদারি করেন। সেদিন পরিদর্শনে তিনি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং মেডিকেল শিক্ষার অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করেছেন এবং দিকনির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে ডাক্তার-নার্সদের উপস্থিতি এবং তাদের কর্মস্থলে সুবিধা-অসুবিধা, নিরাপত্তার কথাও বলেছেন, অসুবিধার সমাধানের কথাও বলেছেন।

আমি মনে করি, এতে স্বাস্থ্য প্রশাসন উপকৃত হয়েছে ও সংশ্লিষ্ট সবাই সচেতন হয়েছেন এবং আরও দায়িত্ববান হয়েছেন। এখন আমাদের সংশ্লিষ্ট সবার, বিশেষ করে স্বাস্থ্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উচিত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসরণ করে যেসব ভুলত্রুটি, অনিয়ম রয়েছে তা সংশোধন করে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার অনেক সীমাবদ্ধতা রয়েছে, রয়েছে বাজেট-জনশক্তির স্বল্পতা। এর পরও ২০১৮ সালের ২ জুন যুক্তরাজ্যভিত্তিক চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য সাময়িকী ল্যানসেটের গবেষণায় প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ ও মানসূচকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, নেপাল ও আফগানিস্তানের ওপরে। গবেষণায় যে ১৯৫টি দেশের অবস্থান তুলে ধরা হয়েছে তাতে বাংলাদেশের অবস্থান ১৩৩। ভারত, নেপাল ও পাকিস্তানের অবস্থান যথাক্রমে ১৪৫, ১৪৯ ও ১৫৪। মাতৃমৃত্যু, শিশুমৃত্যুর হার হ্রাস করে প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ভারত ও পাকিস্তানের থেকে এগিয়ে রেখেছে। ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধী, নোবেলজয়ী ভারতীয় অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন অনেকবার বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা কোনো কোনো ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে এগিয়ে।

প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের পরপরই কিছু কিছু গণমাধ্যম কেবল চিকিৎসকদের সমালোচনায় জড়িয়ে পড়ল- মনে হল সব অব্যবস্থার জন্য চিকিৎসকরাই দায়ী। মুখোমুখি করা হল চিকিৎসকদের গণমাধ্যমের এবং জনগণের। অনিয়ম, অব্যবস্থা যা আছে তা সংশোধন করতে হবে- এ নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

প্রধানমন্ত্রী যে দিকনির্দেশনা দিয়েছেন তা অনুসরণ করে, বিদ্যমান সব সমস্যা চিহ্নিত করে, দোষারোপের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে সবাই মিলে কীভাবে বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও উপযোগী, গণমুখী করা যায়- সবার সেদিকে নজর দেয়া উচিত। সেখানে চিকিৎসকরা অবশ্যই অগ্রণী ভূমিকা নেবেন।

বিগত দশ বছরে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন হয়েছে। বেড়েছে অবকাঠামো, জনশক্তি, বাজেট, চিকিৎসার সুযোগ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা আধুনিকায়ন এবং উপজেলা পর্যন্ত সম্প্রসারণ। এর পরও বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, ১৭ কোটি মানুষের অর্ধেকের কাছাকাছি মানুষকে আধুনিক চিকিৎসা পৌঁছানো গেছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী প্রতি ১০ হাজার মানুষের জন্য প্রয়োজন ১০ জন চিকিৎসক এবং ৩০ জন নার্স। অথচ চিকিৎসক রয়েছেন ৫.৫ জন এবং নার্স ২.১ জন। বর্তমানে দেশে প্রয়োজন ১ লাখ ৭০ হাজার চিকিৎসক এবং ৫ লাখ ১০ হাজার নার্স। বর্তমানে রেজিস্ট্রিকৃত চিকিৎসকের সংখ্যা প্রায় ৮০ হাজার (এমবিবিএস এবং বিডিএস)। গোটা দেশে সরকারি চিকিৎসকের সংখ্যা মাত্র ২১ হাজার ৮০০ জন। এর মধ্যে বেশির ভাগ নগরকেন্দ্রিক। বাংলাদেশে মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল রয়েছে ১৫টি, স্নাতকোত্তর হাসপাতাল ১১টি, জেনারেল ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ৬৩, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৪২৪টি, অন্যান্য হাসপাতাল ৯৪টি। সরকারি শয্যাসংখ্যা ৪৯ হাজার ৪১৪টি, বেসরকারি শয্যাসংখ্যা ৮৭ হাজার ৬১০টি, নার্স ৩৭ হাজার। গোটা দেশে বহির্বিভাগে প্রতিদিন রোগীর সংখ্যা দেড় লাখ থেকে ২ লাখ। মেডিকেল কলেজ ১১১টি (সরকারি, বেসরকারি ডেন্টালসহ)। এ বছর মেডিকেল কলেজগুলোয় ১০ হাজার ২২৩ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছেন। নার্স-টেকনোলজিস্ট এবং অন্যান্য সহকারী কর্মচারী অপ্রতুল এবং অদক্ষ। কমিউনিটি ক্লিনিক প্রায় ১৬ হাজার। রয়েছে বাজেট অপ্রতুলতা, দক্ষ জনশক্তির অভাব, দুর্নীতি এবং সর্বোপরি সর্বস্তরে অব্যবস্থাপনা। গভীরভাবে সবাইকে অনুভব করতে হবে- এ সক্ষমতা দিয়ে ১৭ কোটি মানুষের সন্তোষজনক চিকিৎসা দেয়া সম্ভব কি না? চিকিৎসা ক্ষেত্রে কিছু বাস্তব চিত্র সবারই অবগত হওয়া দরকার-

স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন এবং কঠোর নিয়ন্ত্রণ : যে কোনো কাজ শুরুর আগে তার প্রশাসনিক ব্যবস্থা সঠিক করে নিতে হয়। বাংলাদেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা খুবই নাজুক ও অকার্যকর। বাস্তবিক পক্ষে স্বাস্থ্য সচিব থেকে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন, উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসক খুবই ব্যস্ত। তাদের পুরনো দায়িত্ব বণ্টন (Charter of Duties) এখন অবাস্তব। প্রতিটি কাজের যে মনিটরিং, সুপারভিশন এবং ফলোআপ করা দরকার, তা এ ব্যবস্থায় সম্ভব নয়। একই ব্যক্তিকে আবার বহু দায়িত্ব দেয়ার এবং ধরে রাখার প্রবণতার আমূল পরিবর্তন করতে হবে। যেমন একটি মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ, তিনিই ডিন, তিনিই বিভাগীয় প্রধান, তিনিই বিএমডিসির সদস্য এবং অনেক চিকিৎসক সমিতির নেতা। আবার রয়েছে প্রাইভেট প্র্যাকটিস এবং ক্লিনিকে ভর্তি রোগী দেখা- একটি কাজের জন্যই তাকে ২৪ ঘণ্টা ব্যয় করার কথা। এ কাজগুলোর সুষম বণ্টন হলে কাজের গতি এবং আউটপুট বাড়বে। বহুবার ভাবা হয়েছে প্রশাসনিক পদগুলোকে নন প্র্যাকটিসিং করার। স্বাস্থ্য প্রশাসকদের দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণেরও অভাব রয়েছে। লোকবলও পর্যাপ্ত নয়। প্রশাসকদের সহকর্মীবান্ধব এবং supportive হতে হবে। গ্রহণযোগ্য কর্মপরিবেশ এবং মানসিক পরিবেশ গড়ে তুলতে হবে।

স্বাস্থ্য প্রশাসন কাঠামো পুনর্মূল্যায়ন করে বাস্তব দায়িত্ব বণ্টন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

স্বাস্থ্য জনশক্তি পরিকল্পনা (Health Manpower Planning) গ্রহণ : ৪৮ বছরের বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত বলতে গেলে তেমন কোনো স্বাস্থ্য জনশক্তি পরিকল্পনা নেই। বিচ্ছিন্নভাবে কখনও কখনও হয়েছে তবে তার বাস্তবায়ন হয়নি। একটি সময়োপযোগী স্বাস্থ্য জনশক্তি পরিকল্পনা করা সময়ের দাবি। কারণ আমরা উন্নয়নশীল দেশে পদার্পণ করেছি এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) কার্যক্রম শুরু করেছি।

বাজেট : জাতীয় বাজেটের ন্যূনতম দশ ভাগ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ দিতে হবে। এতে ক্ষতি হবে না। সুস্থ জনবল দেশের উন্নয়নে বিশেষ করে অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বর্তমানে বাংলাদেশে স্বাস্থ্য বাজেট মাথাপিছু ৩২, ভারতে ৬১, নেপালে ৩৯, ভিয়েতনামে ১১১, মালদ্বীপে ৭১০ এবং শ্রীলংকায় প্রায় ১ হাজার ডলার।

নিয়োগ ও বদলি নীতিমালা : দেশে ডাক্তারদের সুর্নিদিষ্ট কোনো নিয়োগ ও বদলি নীতিমালা নেই। এটিই তরুণ চিকিৎসকদের হতাশার অন্যতম কারণ। তরুণ চিকিৎসকদের বদলির ধাপ এবং উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ সংবলিত একটি কার্যকর Carrier Planning দরকার। তাহলেও কিছুটা হতাশা দূর হবে। দূরবর্তী বা দুর্গম চিকিৎসা কেন্দ্রের পদায়নের জন্য আলাদা আর্থিক incentive যুক্ত করা প্রয়োজন।

বিএমডিসিকে শক্তিশালী এবং কার্যকর করতে হবে : প্রায় ১৫ বছর বিএমডিসি মামলাধীন এবং অকার্যকর ছিল। বর্তমানে কিছুটা কার্যকর হয়েছে। দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণকারী এ সংস্থা নানা দুর্বলতায় নিমজ্জিত। চেয়ারম্যান পদে একজন সার্বক্ষণিক পেশার সিনিয়র অভিজ্ঞ ব্যক্তিকে নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন। অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দিলে যথাযথ কার্যক্রম পরিচালনা সম্ভব হয় না। লোকবলের স্বল্পতাসহ রয়েছে নানা সমস্যা। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার গুরুত্বের কথা বিবেচনায় রেখে এর সব সমস্যা দ্রুত সমাধান করে সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। তাহলে দেশের স্বাস্থ্য ও মেডিকেল শিক্ষা কার্যক্রম অনেক সুষ্ঠু ও নিয়ন্ত্রিত হবে।

বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিক পরিচালনা : দেশের বেসরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থারও অনেক উন্নয়ন হয়েছে এবং স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই কোনো কার্যকর নীতিমালা নেই। বিশেষ করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, জনবল ও নিয়মিত বেতন কাঠামোসহ কার্যকর নীতিমালা থাকতে হবে যাতে চাকরিরত চিকিৎসক, নার্স এবং অন্যান্য জনবল চাকরির নিশ্চয়তা পেতে পারে। বেসরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে সরকারিভাবে সহযোগিতা করা প্রয়োজন।

নিরাপত্তা নিশ্চিত করা : প্রতিটি হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিরাপত্তার বিশেষ ব্যবস্থা করতে হবে। প্রয়োজনে পুলিশ ফাঁড়ি বা পুলিশের বিশেষ স্কোয়াডের ব্যবস্থা করতে হবে। চিকিৎসক আক্রমণ এবং হাসপাতালে ভাংচুরের জন্য দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে।

আঞ্চলিক প্রশাসনিক বিন্যাস : কেন্দ্র থেকে প্রান্তিক পর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ করা, যোগাযোগ করা বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সমস্যা সমাধান করা বাস্তবমুখী নয়। প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো এবং ক্ষমতা প্রদান করে জেলা বা নির্দিষ্ট অঞ্চলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রশাসনিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণ প্রয়োজন।

ওষুধের মূল্য : বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প অত্যন্ত গৌরবের। দেশের ৯৮ ভাগ চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের ১৪৫টি দেশে রফতানি করছে। ভেজাল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে আরও কার্যকর কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করতে হবে। ওষুধ নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের প্রয়োজনীয় জনবল প্রয়োজন। ওষুধের মান কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ওষুধের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে নিয়ে আসতে হবে।

রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত স্বাস্থ্য প্রশাসন : স্থানীয়ভাবে জনপ্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বাস্থ্য প্রশাসনকে সহযোগিতা করতে হবে। সচিবালয় থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যকেন্দ্র পর্যন্ত প্রশাসন চিকিৎসক সংগঠনের প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে যাতে প্রশাসন নিরপেক্ষ, স্বাধীন ও আইনানুগভাবে কাজ করতে পারে। এ বিষয় রাজনৈতিক দলগুলোকে নিশ্চিত করতে হবে।

মেডিকেল ইনফরমেশন সিস্টেম (এমআইএস) : একটি দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার জন্য MIS খুবই প্রয়োজনীয়। দুঃখজনক হল, আমি স্বাস্থ্য অধিদফতরের MIS বিভাগের কাছে কোনো তথ্য বা সহযোগিতা পাইনি অসংখ্যবার যোগাযোগ করে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অবগত আছেন। দেশে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাবিষয়ক তথ্য অনেক কষ্ট করে সংগ্রহ করতে হয়।

সুনির্দিষ্ট অভিযোগ-সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা : ঢালাওভাবে অভিযোগ না করে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নিতে হবে। তবে মনে রাখতে হবে, প্রশাসনকে সবসময়ই accomodative হতে হবে। সহকর্মীর মানসিক অবস্থা, ব্যক্তিগত সমস্যা বিবেচনায় রেখে সহকর্মীবান্ধব প্রশাসন সৃষ্টি করতে হবে। শুধু শাস্তি প্রদানের মধ্যে দিয়েই বন্ধত্বপূর্ণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের, আন্তরিক পরিবেশ গড়ে ওঠে না।

পেশাজীবীদের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ : চিকিৎসকদের সঙ্গে সব পেশার মানুষের রয়েছে ঋদ্ধতাপূর্ণ সম্পর্ক। সব পেশাজীবী চিকিৎসকের কাছে বন্ধুত্বের কারণেই বিশেষ সহযোগিতা পেয়ে থাকেন। কিন্তু মাঝে মাঝে অনভিপ্রেত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, বিশেষ করে সাংবাদিক বন্ধুদের সঙ্গে। চিকিৎসা একটি জটিল এবং বিস্তৃত বিজ্ঞান। কষ্টসাধ্য পাঁচ বছর সর্বোচ্চ মেধা প্রয়োগ করে চিকিৎসা বিজ্ঞানের Core Knowledge রপ্ত করতে হয়। এছাড়া কেউ চিকিৎসাশাস্ত্র বা চিকিৎসার ধরন সম্পর্কে মন্তব্য করতে পারবে না। করলে সঠিক হবে না বরং বিভ্রান্তিকর হবে। একজন চিকিৎসক চাইলে যে কোনো সাধারণ পেশায় যেতে পারে- যাচ্ছে। কিন্তু অন্য যে কোনো সাধারণ বিষয়ের মানুষ কখনোই চিকিৎসক হতে পারবে না। আমরা সবাই এদেশের সন্তান, ভাই-বোন, আত্মীয়স্বজন। পরস্পরবিরোধী অবস্থান পরিহার করে কীভাবে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং আস্থা অর্জন করে বোঝাপড়ার শক্ত ভিত স্থাপন করতে পারি, সবার সেদিকেই মনোযোগী হওয়া দরকার, তাহলেই অনেক সংকট দূরীভূত হবে। আমরা কেউ কাউকে ছাড়া চলতে পারি না, তা সম্ভবও নয়। সেজন্য সুসম্পর্ক থাকুক অটুট এবং কার্যকর।

আমরা আশা করব, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর পরবর্র্তী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের আগেই ওনার দিকনির্দেশনায় সমস্যা সমাধানের বাস্তব পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী যেন সন্তুষ্টি নিয়ে ফিরতে পারেন মন্ত্রণালয় থেকে।

অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান : সাবেক উপাচার্য, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত