সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২০

ছাত্রকে মুখে টেপ লাগিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন মাদ্রাসার শিক্ষক

পটুয়াখালীতে টাকা চুরির অভিযোগ তুলে এক মাদ্রাসা ছাত্রকে মুখে টেপ লাগিয়ে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন আহসান উল্লাহ নামে এক শিক্ষক। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার হেতালিয়া বাঁধঘাট বায়তুল আহাদ আকন বাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনার পর সুমন হোসেন (১৩) নামে ওই ছাত্রকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

সুমন হোসেন সদর উপজেলার বসাক বাজার এলাকার আবদুর রহিম চৌকিদারের ছেলে এবং হেতালিয়া বাঁধঘাট বায়তুল আহাদ আকন বাড়ি হাফিজিয়া মাদ্রাসার হেফজ বিভাগের ছাত্র।

এ ঘটনায় সুমনের মা মোসা. রেহেনা বেগম বাদি হয়ে শুক্রবার সকালে শিক্ষক আহসান উল্লাহের বিরুদ্ধের মামলা করেন। পরে পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক আহসান উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে।

সুমনের মা জানান, বৃহস্পতিবার ওই মাদ্রাসার শিক্ষক আহসান উল্লাহ’র দুই হাজার টাকা হারিয়ে যায়। এ ঘটনার জন্য সুমনকে সন্দেহ করে রুমে যেকে নিয়ে যান ওই শিক্ষক। সেখানে নিয়ে বেত্রাঘাত করে। পেটানোর এক পর্যায় ব্যবহৃত বেতটি ভেঙে গেলে একটি লোহার রড এনে আবারো পেটানো শুরু করে। এ সময় সুমন চিৎকার শুরু করলে অন্য ছাত্রদের গলা চেচিয়ে শব্দ করে পড়ার নির্দেশ দেয় ওই শিক্ষক। এক পর্যায়ে সুমনের মুখে টেপ লাগিয়ে তৃতীয় দফায় পেটানো শুরু করে শিক্ষক আহসান উল্লাহ।

পিটুনি শেষে সুমনের হাত-পা বেঁধে একটি কক্ষে আটকে রেখে বাইরে চলে যান ওই শিক্ষক। ঘটনার দেড় ঘণ্টা পরে সুমনের সহপাঠি ও ফুফাতো ভাই আকাশ সুমনের পরিবারকে ঘটনাটি জানায়। খবর পেয়ে সুমনের পরিবার সুমনকে উদ্ধার করতে গেলে শিক্ষকের বাধার মুখে পড়ে। এ সময় স্থানীয়দের সহায়তায় সুমনকে উদ্ধার করে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত