মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১

ছুটিতে বাচ্চাকে পড়ার চাপ দিচ্ছেন না তো?

আমাদের সমাজে এমন বাবা-মায়ের অভাব নেই যারা সন্তানকে শিক্ষা দিতে চান শুধু বইয়ে মুখ গুজিয়ে রাখাই জীবন। পড়াশোনা তো সারাবছর। তারপর বছর শেষে বা  অন্যকোনো উৎসবের ছুটিতে সবাই যখন উৎসবের আমেজে থাকে তখনও চান সন্তান যেন কালির অক্ষরের বইটাকেই আঁকড়ে রাখুক শুধু।

ছুটি মানে ইচ্ছে মত ডানা মেলা নয়। ছুটিটাকেও কাজে লাগাতে হবে পড়াশোনা করে এমন মনে করেন অনেক অভিভাবক। এমন অভিভাবকদের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজের ‘শিশু বিকাশ ও সামাজিক সম্পর্ক’ বিভাগের সহযোগি অধ্যাপক ফাতেমা সুলতানা মনে করেন, শিশুদের তাদের নিয়মের মত করেই বড় করা উচিত।
আজকাল আমরা কচি মুখগুলোকে একগাদা বইয়ের ব্যাগ কাঁধে ঝুলিয়ে দেই তা সে বহন করতে পারুক আর না পারুক। তেমনটা পড়াশোনার ক্ষেত্রেও। তার পড়াশোনার মন না চাইলেও একটা জোর-জবরদস্তি পর্যায়ে চলে যান বাবা-মা। এভাবে না করে শিশুকে বোঝাতে হবে পড়াশোনাটা তার ভালোর জন্যই। রুটিনের মাধ্যমে হেসে-খেলে তাকে শেখাতে হবে। পড়াটাকে আনন্দময় করে তুলতে হবে।
বার্ষিক পরীক্ষার পর বা বছরের একেবারে শুরুতে গ্রামে বেড়াতে যাবার আগে ব্যাগ গোছানোর শুরুতেই অনেক মাকে দেখা যায় সন্তানের কাপড়-খেলনা নেয়ার আগে তার পড়ার বই ব্যাগে ভরতে।

যদি ছুটির পরপর সন্তানের পরীক্ষা থাকে তাহলে বইপত্র বহন করা যায়। কিন্তু ছুটিতে  সন্তানরা যখন কাঁধে কাঁধ মেলাবে সেই পুতির মালা থেকে এক-দুইজন ছুটে গেলে তাদের মন খারাপ হবেই। এবং এটার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে তার পড়াশোনায়। তার সামাজিকতায়।

পড়ার সময় পড়া যেমন উৎসব উপভোগের সময়টা উৎসব উপভোগের। সেই সময়ে সন্তানকে তার মতো করেই সামজিক উৎসব উপভোগ করতে দেওয়া উচিত।

গ্রামের বাড়িতে ছুটি কাটাতে গেলে বাড়ির আত্মীয় স্বজনদের সাথে সখ্য বৃদ্ধি, আশেপাশের সবুজ পরিবেশ তার মানসিক বিকাশে যথেষ্ট ভুমিকা রাখবে। শিক্ষা মানেই যে পুথিঁগত, তা কিন্তু নয়। শিশুর সামাজিক বিকাশে পারিপার্শ্বিক পরিবেশ যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। তাকে সেভাবেই বেড়ে উঠতে সাহায্য করতে হবে। ছুটির এই সময়টা ইচ্ছে করলে বছরের ভ্রমণটাও সেরে ফেলতে পারেন। পারিবারিক ভ্রমণও শিশুর মানসিক বিকাশে বড় ভূমিকা রাখে।

তবে ফাতেমা সুলতানা এমনটাও মনে করেন যে, দীর্ঘ ছুটির পর স্কুল খোলা হয় । এই ছুটিতে অনেক নিয়ম-কানুন, অভ্যাস বদলে যায় শিশুদের। সকালবেলা আর চাইলেই ঘুম থেকে দ্রুত উঠতে পারে না তারা। বইপত্র থেকে শুরু করে অন্য জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখার অভ্যাসটাও কমে যায়। বাড়ির কাজ করার কথা হয়তো বেমালুম ভুলে যায়। দীর্ঘ ছুটির পর শিশুদের এসব সমস্যা হতেই পারে। এ জন্য ওদের দোষ দেওয়া যায় না। এটাই বরং স্বাভাবিক।

এ জন্য বাচ্চাকে বকাঝকা না করে ওদের সাহায্য করতে হবে পুরোনো অভ্যাসটা ধীরে সুস্থে ফিরিয়ে আনতে। এবং অবশ্যই তা বকাঝকা না করে। গল্পের ছলে বুঝিয়ে বলতে হবে।

মোটকথা শিশুর পড়াশোনা- নানাকিছু শেখা সবকিছুই আনন্দচ্ছলে হতে হবে। চাপিয়ে দেওয়া যাবে না। আর পড়াশোনার নাম করে ছুটিটা মাটি করে দেয়া যাবে না। উল্লাসে-আনন্দে ছুটিতে তারা যেন গেয়ে উঠতে পারে, “আজ আমাদের ছুটি ও ভাই”।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত