সোমবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২১

জামায়াতের সিরাজ আ’লীগ নেতাদেরও টাকা দিতেন

সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসা থেকে বহিস্কৃত অধ্যক্ষ ও নুসরাত জাহান রাফির হত্যা মামলার প্রধান আসামি সিরাজ-উদ-দৌলা জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করতেন। তিনি উপজেলা জামায়াতের শূরা সদস্য। তবে জামায়াত তাকে বহিস্কার করেছে এমন দাবি করলেও তার সপক্ষে কোনো প্রমাণ নেই। এই মাদ্রাসাটি শুরু থেকেই ছিল জামায়াত নিয়ন্ত্রিত। অভিযুক্ত সিরাজের বিরুদ্ধে আগেও নাশকতা, মাদ্রাসার তহবিল তছরুপ, জামায়াত-শিবিরের রাজনৈতিক কার্যক্রম প্রতিষ্ঠা করা, অনৈতিক কাজের অভিযোগ এবং একাধিক মামলা রয়েছে। এর আগেও তিনি কারাগারে গেছেন। তারপরও তিনি এ মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হিসেবে বহাল ছিলেন।
এমন অনেক অপরাধের পর তিনি কীভাবে এতদিন বহাল তবিয়তে ছিলেন- এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে পাওয়া গেছে নানা চমকপ্রদ তথ্য। দুই বছর আগে জামায়াত নেতাদের সমন্বয়ে গঠিত মাল্টিপারপাস সমবায় সমিতির টাকা আত্মসাৎ নিয়ে সিরাজ-উদ-দৌলার সঙ্গে দলের দূরত্ব সৃষ্টি হয়। পরে তিনি জামায়াত নিয়ন্ত্রিত সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসায় অধ্যক্ষ পদে টিকে থাকতে স্থানীয় আওয়ামী লীগের শরণাপন্ন হন। বিভিন্ন কৌশলে অর্থ ব্যয় করে সোনাগাজী আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী কয়েক নেতার সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। এর মধ্যে তিনি শিবির কর্মীদের দিয়ে মাদ্রাসায় ছাত্রলীগের একটি কমিটি দাঁড় করান। তারা মাদ্রাসায় ভ্যানগার্ড হিসেবে কাজ করে। জামায়াত নিয়ন্ত্রিত মাদ্রাসায় তার সহায়তায় ছাত্রলীগের কাছে নিয়ন্ত্রণ হারাতে থাকে শিবির। এরপর থেকে উপজেলা জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীরা তার ওপর প্রচণ্ড রকম ক্ষেপে ওঠেন। বিভিন্নভাবে তারা তাকে হেনস্তার চেষ্টা করলে তার পক্ষে দাঁড়ান পৌর কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা শেখ আব্দুল হালিম মামুন। এক পর্যায়ে মাদ্রাসার গভর্নিং বডিতে স্থান হয় ওই কাউন্সিলরের। মাদ্রাসার একটি তিনতলা মার্কেট রয়েছে।
এই মার্কেট থেকেই মাসে ভাড়া আসে দুই লাখ টাকা। মাদ্রাসা থেকে আরও অনেক আয় তো আছেই। তাই আওয়ামী লীগের সহায়তা পেতে কষ্ট হয়নি এই অধ্যক্ষের। মাদ্রাসার লাভ দেন নেতাদের। তিনি টিকে গিয়ে ক্ষমতায়নেও হাত দেন। তাই প্রথমে ওয়ার্ড কাউন্সিলর মামুনের সহায়তা নিলেও তাকে একসময় ছুঁড়ে ফেলে দেন।
এ প্রসঙ্গে পৌর কাউন্সিলর আব্দুল হালিম মামুন বলেন, তিনি সিরাজ-উদ-দৌলার কোনো অপকর্মে সহায়তা করেননি।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত