রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১

জীবনানন্দ || আইভি হোসেন

আমি প্রতিদিন নিয়ম করে জীবনানন্দের সাথে কথা বলি।

কখনো ভোর, কখনোবা জোছনা উপহার দিতে চাই তাকে।

আমি কবির সাথে কুয়াশার মাঠে পাশাপাশি হাঁটতে চাই!

হাঁটতে হাঁটতে কবির পায়ের শব্দ শুনতে চাই।

আবার কোনো একদিন নক্ষত্র আলোয় কবিকে নিয়ে লেখা  একখণ্ড বেদনাগ্রস্ত চিঠিও লিখতে চাই।

ইচ্ছে করে কবির কানের কাছে খিলখিল করে দিনরাত হাসি, কবিকে গল্প শোনাই; নজরুলের, রবিঠাকুরের গল্প, সুকুমার রায়ের গল্প, অমিয় চক্রবর্তীর, বৃদ্ধদেবের, সুধীন্দ্রনাথের এমনকি আল-মাহমুদের গল্পও!

কবি শুধু ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকে-

কবি কোনো শব্দ করে  নাহ, কোন জবাব নেই তার।

কবি হাসে নাহ! খুশিও হয় না।

কবি তবে কীসে খুশি হবে?

কবি কি তবে;

একগুচ্ছ চালতাফুল পেলে; অথবা একগুচ্ছ সজনে ফুল; কিংবা একগুচ্ছ সরিষাফুল পেলে এক মুহূর্ত হাসবে, এক মুহূর্ত খুশি হবে!

কল্পনায় রোজ রোজ এভাবেই কবিকে ভাবি, মন বিছিয়ে খুঁজি।

আমার কবি জীবনানন্দের প্রিয় রঙ সবুজ বলে-

আমি রোজ রোজ সবুজ পাতার কাজল চোখে তাকিয়ে; প্রকৃতির শরীরে কবির নাম লিখলাম।

কবির সাথে আমার শালিক, কাক, বকরঙের ভাব।

আমি কি কবিকে ভালোবাসি?

কবি কি আমায় কখনো কোনো নাম দেবে?

বনলতার মতন সুরঞ্জনার মতন,

কখনো কি বলবে এসে,

“পাখির নীড়ের মতো চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন”

কিংবা খুব অভিমান, অনন্ত শূণ্যতায়, বিচ্ছেদের হাসি হেসে বলবে কি?

“সুরঞ্জন,

তোমার হ্রদয় আজ ঘাস,

বাতাসের ওপারে বাতাস-

আকাশের ওপারে আকাশ। ”

এই বাংলায় কত নদী দেখি,

কিন্তু আমার সব নদীকে কেনো ধানসিড়ি নদী মনে হয়?

আমি এই সব নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকি, অপেক্ষা করি!

কবি বলেছে, সে আসবে! সে ঠিক আসবে সে “আবার আসিবে  ফিরে ধানসিড়ি নদীটির তীরে ”

জীবনানন্দের কবিতা পড়তেপড়তে আমি কবির চোখ দেখি, কবি কি দুঃখে আছে আজও? কী করুণভাবে ঝর্ণার জলের মতন প্রবাহিত হচ্ছে তার চোখের জল।

তাই আমি জীবনানন্দের কবিতা দেখি রোজ।

কবির চোখ দেখি, দেখি চোখকূপ, দেখি মায়াহাসি৷

দেখি কবির গুঞ্জন। আর দেখি কবির হেমন্ত বিকেল!

আমি রোজ রোজ জীবনানন্দকে ভাবি, আমি কোনোদিন জীবনানন্দের দৃষ্টি এড়িয়ে যাইনি।

বরং কবির কবিতার আকর্ষণ আমার আমিকে সাজিয়ে তুলেছে নদীরূপে, করেছে আমায় বিনয়ী, হয়েছি ত্যাগী এবং বহমান।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত