বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০

‘জীবনের রোডম্যাপ’ নিয়ে আড্ডা

হেমন্তের শিউলি ফোটা দিনে কাশফুল নুয়ে এসেছে চারদিক। কিন্তু তরুণের চিন্তা জাগ্রত হচ্ছে সৃষ্টির উল্লাসে, বাড়ছে সৃজনশীল কাজের পরিধি । মানুষ নতুন চিন্তায় ব্যস্ত থাকে। সে হোক কোন জীবনের গল্প বা নতুন সৃষ্টি ও বই নিয়ে নতুন পরিকল্পনা। সৃজনশীল মানুষ একের পর এক নতুন ভাবনায় পথ চলতে চায়। এমনই এক নতুন চিন্তা নিয়ে আড্ডায় বসেন একদল তরুণ।

তারুণ্যের ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও জীবন নিয়ে পরিকল্পনার মানচিত্র নিয়েই গত শুক্রবার মিরপুরে একটি হোটেলে আলো-আঁধারির সন্ধায় জমে ওঠে চিন্তাশীল আড্ডা। কুয়াশায় যখন প্রকৃতি নিমগ্ন ঠিক তখন সন্ধায় আলো জ্বেলে হয়ে গেল সাহিত্যিক সাজ্জাক হোসেন শিহাব-এর জীবন নিয়ে লেখা বই জীবনের রোডম্যাপ নিয়ে তুমুল আড্ডা। সেই আড্ডা চলল রাত দশটার পর পর্যন্ত। জীবন নিয়ে জমে উঠলো তুমুল আলোচনা। সেই সাথে ৪ অগ্রাহায়নের শুক্রবারের সন্ধ্যায় দেশ পাবলিকেশন্স প্রকাশনীর সাথে চুক্তিবদ্ধ হলেন লেখক সাজ্জাক হোসেন শিহাব। এ সময় দেশ পাবলিকেশন্স প্রকাশনীর পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন কবি অচিন্ত্য চয়ন, যার হাত ধরে উঠে এসেছে অনেক উদীয়মান কবি-সাহিত্যিক।

আলোচনার এক পর্যায়ে বইটি সম্পর্কে প্রকাশক অচিন্ত্য চয়ন বলেন, ‘বইটির সাথে শুরু থেকেই আমি জড়িত। আমি জানি, কতটা রাত বিনিদ্র থেকে লেখক আমাদেরকে একটু ভিন্নভাবে স্বপ্ন দেখতে শিখিয়েছেন। তিনি বাক্যের ভাঁজে ভাঁজে আমাদেরকে যেনও আলতো করে আঘাত করে জাগিয়ে তুলতে চেয়েছেন। বুঝাতে চেয়েছেন, জীবন মানে দায়িত্বের ঘেরাটোপ। সেই দায়িত্বের মাঝেই লুকিয়ে আছে জীবনের আনন্দ। পাঠক তাঁর লেখার ধরন দেখেই বুঝে যাবেন, তিনি আসলে কোন ভাবনার লোক। জাদুর মতো তিনি আমাদের নিজস্ব ভাবনার ভেতরে প্রবেশ করেন তাঁর লেখার একটা ভিন্ন ভাবনা নিয়ে। জীবনের রোডম্যাপঃ আ বিউটিফুল লাইফ ইজ ডিউটিফুল, একারণেই এগিয়ে যাবে অনেক দূর। বেঁচে রবে পাঠকের মনে।’

বইটি নিয়ে আশাবাদী লেখকও। তিনি বলেন, ‘আমাদের জীবন আ বেড অফ রোজেজ না। আমাদের পথে হাজারো বাধা। আমাদের হাজারো দায়িত্ব। হাজারো কাজের ভেতরে আমরা সামনে আগাতে চাই। সাফল্য পেতে চাই। এই বইটির আসল উদ্দেশ্য হলো জীবনকে সুন্দর করে উপভোগ করা। দৃষ্টিভঙ্গি বদলে এটা মগজের ভেতরে প্রোথিত করা যে আ বিউটিফুল লাইফ ইজ ডিউটিফুল।’

উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কবি ফারুক সুমন, বিশিষ্ট শিশু চলচ্চিত্রকার ও শিল্পী শাহীনুর আলম শাহীন, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক কবি চয়নিকা সাথী, সময়ের আলোচিত প্রাবন্ধিক ও সাংবাদিক শফিক হাসান প্রমূখ।

তরুণদের আলোচনা জমে ওঠে আড্ডা। আলোচনা করতে গিয়ে কবি শফিক হাসান বলেন, ‘বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ হবে এই বইটি। যে কোনো মানুষ জীবনের রোডম্যাপ খুঁজে পাবেন এ বইয়ে। জীবনের জন্য সবার আগে দরকার লক্ষ্য নির্ধারণ করা। ঠিক কতো শতাংশ মানুষ জীবনের লক্ষ্য নির্ধারণ করে এগোতে পারেন? নানান সীমাবদ্ধতায় লক্ষ্য স্থির থাকেও না। সাধুবাদ জানাই লেখককে, স্বপ্ন দেখানোর সাহসী ভূমিকার জন্য।’

চিত্রকলার মানুষ চিন্তা করেন ভিন্নভাবে। শাহীনুর আলম শাহীন আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, ‘জীবনের রোডম্যাপ মানুষকে সঠিক পথ দেখাবে। বিশেষ করে তরুণদের যারা কোন পথে আগাবে, কী করবে বুঝতে পারছে না তাদেরকে সঠিক পথ দেখাবে।’

যার আলোচনা শ্রোতা অধিক মনোযোগী হন, তিনি কবি ও প্রাবন্ধিক ফারুক সুমন। আলোচনায় তিনি বলেন, ‘আধুনিক সময়ে এসে মানুষ অর্থনৈতিকভাবে সফল হলেও মানসিকভাব নানা ধরনের অশান্তিতে নিমজ্জিত। আশা করি, বইটি মানুষের জীবনে শান্তির সুবাতাস বইয়ে দিবে। আর এই আয়োজনটিও একদম নতুন। আসলে আমাদের চিন্তার পরিবর্তন জরুরি। আমরা চাই দেশ পাবলিকেশন্সের মতো আরও সবাই যেন এমন আয়োজন করেন এবং সারাদেশে বইয়ের বাজার তৈরী করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।’

কবি চয়নিকা সাথী পেশায় ব্যাংকার হলেও শিল্প-সাহিত্য পাগল মানুষ। তিনি বই নিয়ে বলেন, ‘বর্তমান সমাজের বিদ্যমান পরিবেশ-পরিস্থিতি বিবেচনায় জীবনের রোডম্যাপ বইটি একটি গাইডলাইন। পাঠকের মন ও মননশীলতাকে পরিবর্তিত করবে ইতিবাচকতায় এগিয়ে দেবে জীবনের সফল পথে। বইটি নিয়ে লেখকের উদ্দেশ্য সফল হোক, এই প্রত্যাশা রইলো।’

‘জীবনের রোডম্যাপ’ বইটি একটি মোটিভেশনাল বই, যার ধাপে ধাপে আছে জীবন গড়ার দিক নির্দেশনা। বইটির আনুষ্ঠানিক পি-অর্ডার কার্যক্রমও চালু হয়ে গেছে এরই মধ্যে।

সাজ্জাক হোসেন শিহাব সাস্টেইনেবল ফিউচার লিডারস নামের একটা নন-প্রফিটেবল প্লাটফর্মের প্রতিষ্ঠাতা এবং চলমান সময়ের একজন প্রতিশ্রুতিশীল তরুণ লেখক, কবি, অনুবাদক এবং মোটিভেটর। পেশাজীবনেও তার সফলতার কমতি নেই। তিনি একজন সফল মানুষ। তিনি কাজ করছেন দেশের সুনামধন্য একটা গার্মেন্টস কোম্পানির মার্কেটিং এন্ড মার্চেন্ডাইজিং বিভাগে। ইতোমধ্যে অফিসের কাজে তিনি অসংখ্য আন্তর্জাতিক মিটিংয়ে যোগদান করেছেন। ঘুরেছেন পৃথিবীর বারোটি দেশে। ক্রেতা, পণ্য সরবরাহকারীদের নিয়ে তার আছে বিশদ জ্ঞান। পেশা জীবনে তিনি আল-মুসলিম গ্রুপ, এপেক্স হোল্ডিংস, গ্রাফিক্স টেক্সটাইলস, ইউসিবি ব্যাংক ও প্রাইড গ্রুপে কাজ করেছেন

সাজ্জাক হোসেন শিহাব পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে খন্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন। তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন। তিনি তার বই নিয়ে বলেন, ‘এই বইটি আমার শ্রম ও স্বপ্নের মিশ্রণে লেখা হয়েছে। আশা করছি, পাঠকের জন্য একটু হলেও কাজে আসবে। জীবন বোঝার জন্য এই বইটি সবার পড়া জরুরি।’

মি. শিহাব বস্ত্র-প্রকৌশলের ওপর বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন। ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি থেকে নিট ইন্ডাস্ট্রি ম্যানেজমেন্টের ওপরে করেছেন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ডিপ্লোমা। পাবনা টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থেকে বস্ত্র প্রকৌশলে স্নাতক করেছেন। তিনি বাগমারা কলেজ থেকে ২০০৬ সালে এইচএসসি এবং একডালা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০৪ সালে এসএসসি পাশ করেন। তিনি একজন আলোচিত তরুণ লেখক। ইউরোপীয় প্লটে লেখা তার উপন্যাস মহাদেশ-মহাকাল পেয়েছে তুমুল জনপ্রিয়তা। ইংরেজির পাশাপাশি ইতালীয় ভাষায় বইটির অনুবাদ চলমান।

সাজ্জাক হোসেন শিহাব ১৯৮৮ সালের ১৪ অক্টোবর জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা মৃত জসিম উদ্দীন। মাতার নাম মোছা. শাহিদা বেগম। চার ভাই এবং এক বোনের মধ্যে তিনি চতুর্থ। তাঁর পৈত্রিক নিবাস রাজশাহী জেলার বাগমারা থানার একডালা গ্রামে। তিনি পুষ্টিবিদ তাহমিনা তামান্নাকে বিয়ে করেছেন ২০১৩ সালে। স্ত্রী, দুই সন্তান সাজিদ আর সায়ানকে নিয়ে তিনি বর্তমানে ঢাকাতে বাস করেন।

বিশেষ তরুণ লেখক শাখায় তিনি ২০১৬ সালে পেয়েছেন দেশ পাণ্ডুলিপি পুরস্কার। তিনি পঁচিশটিরও অধিক বই লেখেছেন। তাঁর আলোচিত বইয়ের মধ্যে ধূপছায়া, আঙ্গুলের কঙ্কাল, ঈশ্বরের দেশে, এসব গল্পের শেষ নেই, হুর রে অন্যতম।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত