শুক্রবার, ২২ নভেম্বর ২০১৯

জীবন অন্বেষণ

নাসরীন আক্তার খানম

কতটা সময় নিয়ে আমি আকাশ দেখেছি!
কতটা সময় নিয়ে আমি তাকিয়েছিলাম সমুদ্রজলে!
কতটা দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি ফুল আর পাখিদের খুঁজে!
আর কতটা সময় আমি ব্যয় করেছি জীবন অন্বেষণে!

ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র রন্ধ্র রোধে অপারগ,
হেঁটে যাই চিরচেনা পথে,
কোন নতুন পথের খোঁজে নেই পথিকেরা,
ব্যর্থ সম্পূর্ণরূপে একটি নতুন পথ সৃষ্টিতেও।
নিজের স্বরূপ খুঁজিনি,
নিজের ব্যর্থতার দায়ভার চাপিয়েছি অনায়াসে অন্যতে।

একটা জীবন বড় গ্লানিময়, বড় একঘেয়ে
আছে চিরাচরিত নিয়মের গ্রন্থিত অনুশাসন।
বিচ্ছিন্ন আমি কখনও তোমার থেকে
কখনও আমার থেকে,
ক্ষুদ্র ঘুণপোকা আমাতে নেয় দখল
আর আমি ক্ষয়ে ক্ষয়ে যাই।

কি করে ঠেকাই বল ক্ষয়ের প্লাবন!
সুন্দর আক্রান্ত হয়, ফিরে যায় সগৌরবে
আর আমাদের বসে থাকা স্থাণুবৎ।
কতটা সময় আমি তোমাকে দিয়েছি বল!
অনুপল, পল, প্রহর দণ্ডের হিসেবে, হিসেববিহীন।

তারপরও দুটি নদী প্রবহমান পাশাপাশি
বিপরীত দুইটি ধারায় চিরকাল।
অমোঘ বিধান লঙ্ঘে কার সাধ্যি!
সময়ের স্রোতে নিস্তেজ হয় সেতারের মুর্চ্ছনা,
আর আমরা পেতে চাই কেয়াদের সুরভি।
গন্ধগোকুল ছড়িয়ে ঘ্রাণ
হ্রাস করে অতন্দ্রপ্রহরার সতর্ক সংকেত।

আমরা সবাই ভেসে যাই,
আমরা প্রফুল্ল চিত্তে বরণ করি যত আছে
গতানুগতিক ছন্দের আনন্দ।
এ যেন বিনীত আত্মসমর্পন চিরদিন
বাঁধের কাছে, বোঝার কাছে,
চকচকে রূপোর থালার কাছে,
অবোধ্য কিছু সংলাপের কাছে।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত