মঙ্গলবার, ২৪ মে ২০২২

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস মানবতাবিরোধী অপরাধ : হাইকোর্ট

জীববৈচিত্র্য ধ্বংস বা ইকোসাইডকে মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে তুলনা করেছেন হাইকোর্ট। পাশাপাশি এ ধরনের অপরাধকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করে এর বিচারসহ ১৪ দফা সুপারিশও করা হয়েছে।

বিচারপতি মো. আশরাফুল কামাল ও বিচারপতি রাজিক আল জলিল সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের দেওয়া এক পূর্ণাঙ্গ রায়ে পর্যবেক্ষণসহ এসব সুপারিশ করা হয়েছে। 

রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বাংলাদেশকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বপ্নের পরিবেশবান্ধব উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে ১৪ দফা সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নে সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে।

‘বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) বনাম সরকার ও অন্যান্য’ মামলার পূর্ণাঙ্গ রায়ে এই সুপারিশ করা হয়। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে রায়টি প্রকাশ করা হয়েছে।

রায়ে আদালত বলেছেন, পরিবেশের ধ্বংস মূলত বেশি সংঘটিত হয় মানুষে মানুষে হানাহানির কারণে। আধুনিক উদাহরণ-ইরাক, সিরিয়া ও আফগানিস্তানের যুদ্ধ। প্রতিটি যুদ্ধই মানুষ হত্যার সঙ্গে সঙ্গে গাছপালা, প্রাণী ও জীববৈচিত্র্য পরিবেশ-প্রতিবেশ ধ্বংস করে। একটি সম্প্রদায়কে, একটি জাতিকে, একটি গোষ্ঠীকে, একটি সংখ্যালঘু ধর্মীয় মতাবলম্বীকে অপেক্ষাকৃত শক্তিশালী পক্ষ বা গোষ্ঠী কর্তৃক নির্মূল বা ধ্বংস বা হত্যা করা জেনোসাইড। তেমনি ইকোসাইড হলো-জীববৈচিত্র্য, প্রাণীজগৎ, পাখি, গাছপালাসহ যে কোনো প্রাণকে হত্যা করা।

রায়ে আরও বলা হয়, পরিবেশের অপর নাম শান্তি। পরিবেশ সম্মত শাসনব্যবস্থা তথা পরিবেশকে সুরক্ষাকারী শাসন ব্যবস্থা যেমনি বিবাদ ও বিরোধ কমিয়ে আনে তেমনি স্থানীয় ও বৈশ্বিক নিরাপত্তাও নিশ্চিত করে। তাই সব উন্নয়ন পরিকল্পনায় ইকোসেন্ট্রিক (প্রকৃতিকেন্দ্রিক) পন্থা গ্রহণ করা দরকার।


© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত