সোমবার, ২১ অক্টোবর ২০১৯

জুন্নুরাইনের মৃত্যু

খলিফা হযরত উমার (রা) মৃত্যুশয্যায় ছয় সদস্যের একটি কমিটি গঠন করলেন যাদের মধ্য থেকে পরবর্তী খলিফা নির্বাচিত হবেন। তারা ছিলেন হযরত আলী (রা), হযরত উসমান (রা), আব্দুর রহমান ইবনে আউফ (রা), সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা), আল-জুবাইর (রা) ও তালহা (রা)। তাঁর মৃত্যুর তিন দিনের মাথায় যেন তারা খলিফা নির্বাচিত করেন এমনটাই বলে যান উমার (রা)। তিনি তাদের জিজ্ঞেসও করলেন তারা কাকে ভোট দেবেন। আলী (রা) কোনো উত্তর না দিলেও উসমান (রা) জানালেন তিনি আলী (রা)-কে ভোট দেবেন। জুবাইর (রা) বললেন তিনি আলী (রা) বা উসমান (রা)-কে ভোট দেবেন। আর সাদ (রা) বললেন তিনিও উসমান (রা)-কে দেবেন।

এটা অবাক করা বিষয় ছিল না কারো কাছে যখন পরবর্তী খলিফা নির্বাচিত হলেন হযরত উসমান (রা)। তিনিও কুরাইশ বংশেরই মানুষ; কিন্তু নবীর গোত্রের নয়, বরং মক্কার সবচেয়ে প্রভাবশালী ও ধনী গোত্র উমাইয়াদের মাঝে তাঁর জন্ম। পিতার বিশাল সম্পত্তির উত্তরাধিকার তিনি পেয়েছিলেন। মক্কা বিজয়ের কিছু আগ পর্যন্ত এই উমাইয়ারা রাসুল (সা) এর চরম বিরোধী ছিল। কিন্তু তাদের মাঝে উসমান (রা) তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু আবু বকর (রা) এর পরামর্শে প্রথম দিকেই ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন। মক্কার ধনী ব্যবসায়ী উসমান (রা) তাঁর সম্পদের বিশাল অংশ ইসলামের জন্য দিয়ে দেন।

খলিফা নির্বাচিত হবার পর তিনি রাজকোষ থেকে কোনো বেতন নিতেন না। কারণ তাঁর নিজেরই যথেষ্ট অর্থ ছিল, আর কোনো অর্থ তাঁর দরকার পড়ত না। তবে মানুষের দেয়া উপহার তিনি সাদরে গ্রহণ করতেন, যেমনটা করতেন নবী হযরত মুহাম্মাদ (সা)।P

উসমান (রা) এর স্ত্রী ছিলেন হযরত রুকাইয়া (রা) যিনি ছিলেন নবী (সা) এর কন্যা। কিন্তু তিনি যখন মারা যান, তখন নবী (সা) তাঁর আরেক কন্যা উম্ম কুলসুম (রা)-কেও উসমান (রা) এর কাছে বিয়ে দেন, এতটাই পছন্দ করতেন তিনি উসমান (রা)-কে। নবী বংশের দুজন আলো তাঁর স্ত্রী হয়ে ঘরে আসে। এজন্য উসমান (রা) এর এক উপাধি ছিল ‘জুন্নুরাইন’ যার অর্থ ‘দুই আলোর অধিকারী’। তিনি যেদিন খলিফা হন সেদিন ছিল ৬৪৪ সালের ৬ নভেম্বর। এ শাসনকাল চলেছিল ৬৫৬ সালের ১৭ জুন পর্যন্ত।

এর আগে খলিফা হযরত উমার (রা) এর পুত্র উবাইদুল্লাহ ক্রোধ আর প্রতিশোধের বশে হত্যা করেন হরমুজান, জাফ্রিনা ও ফিরোজের কন্যা আর স্ত্রীকে। উমার (রা) দায়িত্ব দিয়ে যান পরবর্তী খলিফাকে কারাবন্দী উবাইদুল্লাহ-র ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে। এটাই ছিল উসমান (রা) এর প্রথম মামলা ক্ষমতা গ্রহণের পর।

আবু বকর (রা) এর পুত্র আব্দুর রহমান ছাড়া আর কেউ বিশ্বাস করতেন না যে কোনো পারস্য ষড়যন্ত্র ছিল এ হত্যাকাণ্ডের পেছনে। কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি। তাই এ চারজন নিরপরাধ নাগরিক হত্যার দায়ে উমার (রা) এর পুত্র উবাইদুল্লাহ-কে হয় মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, নয়ত যদি মৃতের আত্মীয় রাজি থাকে তবে ব্লাডমানি প্রদান করতে হবে।

আলী (রা) বললেন, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য অবশ্যই মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে। কিন্তু আমর ইবনে আস (রা) বললেন, আগের দিন আমরা উমার (রা)-কে হারিয়েছি, আর আজ হারাবো তাঁর পুত্রকে? উমার (রা) এর প্রতি সম্মান রেখে দ্বিতীয় অপশন বেছে নেয়া উচিৎ।

তাবারীর বর্ণনা থেকে আমরা জানতে পারি, নিহত হরমুজানের পুত্র ক্বামাজবান সাক্ষী হিসেবে খলিফার কাঠগড়ায় দাঁড়ান। তাঁর সাক্ষী থেকে বোঝা যায় হরমুজান ছিলেন নির্দোষ। ফিরোজ একাই এ কাজ করেছে, এর সাথে মদিনার আর কেউ জড়িত ছিল না। ক্বামাজবান প্রথমে উবাইদুল্লাহ-র মৃত্যু চাইলেন। কিন্তু পরে তিনি মত পরিবর্তন করলেন এবং আল্লাহ্‌র ওয়াস্তে তাঁকে ক্ষমা করে দিলেন।

উবাইদুল্লাহ-কে যখন উসমান ব্লাডমানি পরিশোধ করতে বললেন, তখন দেখা গেল তাঁর কাছে টাকা নেই। তখন উসমান (রা) নিজের পকেট থেকে পুরো টাকা পরিশোধ করেন; প্রত্যেক নিহতের জন্য এক হাজার দিনার করে, যেমনটা তখন নির্ধারিত ছিল।

পশ্চিমাবিশ্বের অনেকেই ধারণা করে থাকে, কুরআন পুড়িয়ে ফেলা একটি গর্হিত কাজ। আসলে তা নয়; ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী কুরআনের একটি ভুল কপি বা ব্যবহারের অযোগ্য কপি যদি আপনি ‘ডিস্পোজ’ করতে চান, অর্থাৎ অপসারণ করতে চান যেন সেটা আর ব্যবহার করা না হয়, তবে সেটা আপনাকে আগুনে পুড়িয়ে ফেলতে হবে, কিংবা মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে, এরকম কিছু উপায়ে ‘ডিস্পোজ’ করতে হবে।

এ বিষয়টি স্কলারদের জানা থাকলেও, সাধারণ অনেক মুসলিমেরই জানা নেই (বিশেষ করে বাংলাদেশে) যে পবিত্র কুরআন নাজিল হয়েছিল সাতটি আহরুফে। বা সহজ করে বলতে গেলে সাতটি আরবি উপভাষায়, সাত রকমভাবে। যেমন, একবার উমার (রা) মসজিদে গিয়ে দেখলেন এক লোক সুরা ফুরকান তিলাওয়াত করছেন। উমার (রা) বুঝতে পারলেন লোকটি ফুরকান তিলাওয়াত করছেন। কিন্তু তারপরেও তিনি লক্ষ্য করলেন ঐ সাহাবী ভিন্নভাবে পড়ছেন; তাঁর কিছু কিছু শব্দ ভিন্ন, উচ্চারণ ভিন্ন। অথচ উমার (রা) জানতেন কুরআন এক ও অভিন্ন। তখন তিনি ঐ সাহাবীর উপর ঝাঁপিয়ে পড়লেন; জিজ্ঞেস করলেন, এই তিলাওয়াত তুমি কার কাছ থেকে শিখেছো? তিনি জবাব দিলেন, আমি তো রাসুল (সা) এর কাছ থেকেই শিখেছি। উমার (রা) বললেন, আমিও তো তাঁর থেকেই শিখেছি; চলো তাঁর কাছে। যখন তারা বিষয়টি নিয়ে রাসুল (সা) এর কাছে উপস্থিত হলেন, তখন রাসুল (সা) বললেন, তারা দুজনেই সঠিক। কুরআন সাত রকম আরবি উপভাষায় নাজিল হয়েছে।

বিশুদ্ধ হাদিস থেকে আমরা আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ (রা) ও আবু হুরাইরা (রা) এর বর্ণনা থেকে পাই, রাসুল (সা) বলেছেন, কুরআন নাজিল হয়েছে সাতটি আহরুফে। এ বিষয়ে তর্ক করা অবিশ্বাস; তোমরা যতটুকু জানো সেটাতেই আমল করবে, আর যে অংশ জানো না সেটা যে জানে তার জন্য রেখে দাও। এ বিষয়ে বুখারি ও মুসলিম শরীফে অনেকগুলো হাদিস রয়েছে।

কুরআন যে যুগে নাজিল হয়েছিল সে যুগে অধিকাংশ আরব ছিল নিরক্ষর, তার উপর বেদুইনরা তো ছিলই। যে কুরাইশি উপভাষায় কুরআন নাজিল হতো সে উপভাষায় দূর দূরান্তের বেদুইনরা কথা বলত না, তাদের ভঙ্গিমা ছিল ভিন্ন। সুতরাং এ আরবি তাদের জন্য কঠিন হতো। অথচ কুরআন আরবিতে সহজ করে নাজিল হবার কথা। বুখারি ও মুসলিম শরিফের হাদিস থেকে আমরা জানতে পারি, তখন নবী মুহাম্মাদ (সা) জিবরাঈল (আ)-কে অনুরোধ করেন ভিন্ন উপভাষায় কুরআন আনয়নের। তখন ক্রমান্বয়ে জিবরাঈল (আ) একে একে সাতটি উপভাষায় কুরআনের আয়াতগুলো আনয়ন করেন। এ সাতটি উপভাষাতেই রাসুল (সা) ব্যক্তিভেদে শিক্ষা দেন। যেমন উমার (রা) কুরাইশের মানুষ, এজন্য তাঁর অন্যটা শিক্ষা করা হয়নি।

কিন্তু এমন ভাবার কোনো কারণ নেই যে, এই সাতটি ভার্সনে (ভার্সন শব্দের মানে এই নয় যে পুরো ভিন্ন এক একটা) অনেক পার্থক্য আছে। যদি তাই হতো তবে উমার (রা) বুঝতে পারতেন না যে ঐ সাহাবী সুরা ফুরকান তিলাওয়াত করছেন। কিন্তু বিষয়টি এত গোপনীয় ছিল যে উমার (রা) এর মতো বড় সাহাবীও প্রথম দিকে জানতেন না ব্যাপারটা। পার্থক্য ছিল সামান্য কিছু উচ্চারণে, আর কিছু শব্দের প্রতিশব্দ ব্যবহৃত হয়েছিল; অনেকটা ব্রিটিশ আর আমেরিকান ইংলিশের পার্থক্যের মতো। এক জায়গায় ফ্ল্যাট বললে আরেক জায়গায় এপার্টমেন্ট; এক জায়গায় এলিভেটর বললে আরেক জায়গায় এস্কেলেটর। তাঁর মানে কিন্তু এই না যে আমেরিকানরা ব্রিটিশ ইংলিশ বোঝেন না। তেমনই সকল আরবই সাত উপভাষার কুরআন বুঝতেন।

যা-ই হোক, নবী (সা) মারা যাবার প্রথম দু’বছরের মধ্যেই কুরাইশি ডায়ালেক্টে/উপভাষায় কুরআন এর প্রধান কপি বা মাস্টার কপি তৈরি করা হয়ে যায়, যা কালের বিবর্তনে হাফসা (রা) এর কাছে ছিল। কিন্তু ঐ যে বলছিলাম উপভাষার কথা। কুরাইশি, সাকিফি, হাওয়াজিনি, কিনানাই, তামিমি, হুজাইলি আর ইয়েমেনি- অন্তত এই সাত আরবি উপভাষায় কুরআন নাজিল হয়েছিল। কিন্তু প্রথম এবং নবী (সা) এর নিজের উপভাষাতে নাজিল হয়েছিল সেই কুরাইশি ভার্শনটিই এবং মাস্টারকপি ছিল সেটাই। যখন উসমান (রা) এর শাসন চলছে, তখন হযরত মুহাম্মাদ (সা) মারা যাবার অনেক বছর পেরিয়ে গেছে। দূর দূরান্তে সাম্রাজ্য বিস্তার হয়ে গেছে। নতুন অনেকেই মুসলিম হয়ে গেছে। এমন না যে সকলে কুরাইশি উপভাষায় কথা বলে। তাই তারা তাদের পছন্দের ভার্শন বা আহরুফেই তিলাওয়াত করত। কিন্তু যেহেতু অনেকেই এই সাত ভার্শনের বৈধতার কথা জানতেন না, কেউ কেউ দাবি করতে লাগলেন তাদেরটা সঠিক, অন্যেরটা ভুল। আবার অনেকদিন পার হয়ে যাবার কারণে যারা নিজেরা নিজেদের উপভাষায় কুরআন লিখিয়ে নিচ্ছিলেন সেখানে ভুল ত্রুটি ধরা পড়ছিল, মানুষ মাত্রই ভুল করতে পারে। আবার অনেক গুরুত্বপূর্ণ সাহাবীও তাদের নিজেদের কপিতে দেখা যেতো, আয়াতের পাশে পাশে সাইডনোট লিখে রাখছিলেন, সেটা দেখে কেউ কেউ আবার সাইডনোটকেও কুরআনের আয়াতের অংশ ভেবে বসলে সমস্যা।

কুরআন নিয়ে এত মতবিভেদ দেখবার পর উসমান (রা) সিদ্ধান্ত নিলেন কেবল কুরাইশি মাস্টার কপি রেখে বাকিগুলো সরিয়ে ফেলবেন, যেন পুরো মুসলিম বিশ্ব জুড়ে কোনো তর্ক না থাকে এসব নিয়ে। অসংখ্য হাফিজ সাহাবী উপস্থিত থাকতেই যে কপি লিখিত হয়েছিল রাসুল (সা) এর নিজের মাতৃভাষায় সেটাই হবে আসল কপি। এজন্য তিনি আহ্বান করেন সকলে যেন অন্যান্য কপিগুলো দিয়ে যায়। সেগুলো শরিয়ত মোতাবেক তিনি পুড়িয়ে ফেলেন, এবং পুরো বিশ্ব জুড়ে এক ও অভিন্ন কুরাইশি আহরুফের কুরআন প্রচলিত করেন। সেই কপিটি তিনি অনেকগুলো কপি করিয়ে সকল প্রদেশে একটি করে পাঠিয়ে দেন। যার যার দরকার হবে সেই কপি থেকে যেন লিখিয়ে নেয়।

বুখারি শরীফের ৩৬৯৫ নং হাদিসে আমরা পাই, রাসুল (সা) বলেছিলেনউসমানকে বেহেশতের সুসংবাদ দাও, তাঁর উপর এক দুরবস্থা নেমে আসবে।এখন আমরা কী দুরবস্থা নেমে এসেছিল এবং কীভাবে উসমান (রা) মারা গেলেন সে ঘটনায় যাব।

মোটামুটি প্রথম ছয় বছর তাঁর শাসনের ব্যাপারে কারো অভিযোগ ছিল না। কিন্তু পরের ছয় বছরে ক্ষোভ দানা বাঁধতে থাকে। মূলত, ইসলামি প্রদেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ পদে আত্মীয়দের বসানোর মাধ্যমে অনেককে ক্ষমতা থেকে বঞ্চিত করা ছিল মূল কারণ।

নানা ঘটনার পরিক্রমায় একদিন মিসর থেকে ১০০০ বিদ্রোহী মদিনায় এসে হাজির হলো। তাদের উদ্দেশ্য ছিল উসমান (রা)-কে খুন করে সরকার উৎখাত করা। দেখা গেলো ইরাকের কুফা ও বসরা থেকেও বিদ্রোহী এলো মদিনাতে। উসমান (রা) গৃহবন্দী হয়ে পড়লেন। ঘরের চারপাশে বিদ্রোহীরা। যত দিন যেতে লাগলো, তত বিদ্রোহী জড়ো হতে লাগলো বাহিরে, আগুনও ধরিয়ে দিল। মদিনা থেকে অনেক স্থানীয় মানুষ মক্কায় হজ্ব করতে গিয়েছে আগেই। তাই কাছের মানুষও কম উসমান (রা) এর। বিদ্রোহীরা বুঝতে পারলো, হজ্ব শেষ হয়ে গেলেই পুরো সাম্রাজ্য থেকে আসা হাজিরা উসমান (রা) এর পক্ষে মদিনা ছুটে আসবে, এর আগেই যা করবার তা করতে হবে। উসমান (রা) এর অনুসারীরা তাদের বিরুদ্ধে লড়ার অনুমতি চাইলো। কিন্তু তিনি মানা করলেন। এক মুসলিম আরেক মুসলিমের রক্ত ঝরাতে পারে না। কিন্তু আব্দুল্লাহ ইবনে জুবাইর (রা) এবং আলী (রা) এর দুই পুত্র হাসান (রা) ও হুসাইন (রা) গেট বন্ধ করে পাহারা দিতে লাগলেন।

৬৫৬ সালের ১৭ জুন। যখন বিদ্রোহীরা দেখলো গেটে ভালোই পাহারা আছে, তখন মিসরীয় বিদ্রোহীরা প্রতিবেশীর বাড়ির দেয়াল বেয়ে উপরে উঠে ভেতরে নেমে পড়ল। গেটের পাহারা দেয়া সাহাবীরা জানলেনও না কী হলো। বিদ্রোহীরা উসমান (রা) এর কক্ষে চুপে চুপে ঢুকে পড়ল। তখন রোজা রাখা উসমান (রা) কুরআন পড়ছিলেন (উপরে সে কুরআনের ছবি আছে), তিনি যখন সুরা বাকারার ১৩৭ নং আয়াতে পৌঁছালেন, তখন বিদ্রোহীরা সজোরে মাথায় আঘাত করল। উসমান (রা) এর স্ত্রী নাইলা নিজের দেহ দিয়ে উসমান (রা)-কে রক্ষা করতে গেলেন, হাত উঁচু করে তরবারির আঘাত ঠেকাতে গেলেন। নাইলা-র আঙুলগুলো কেটে গিয়ে মাটিতে পড়ে গেল। এরপরের আঘাতেই শহিদ হলেন উসমান (রা)। তাঁর দাসেরা তাঁকে বাঁচাতে গেলে একজন নিহত হয়, আর আরেকজন এক বিদ্রোহীকে মারতে সক্ষম হয়। [কথিত আছে, উসমান (রা) এর রক্তে ভেজা কুরআন তাশখন্দের মিউজিয়ামে সংরক্ষিত আছে।]

বিদ্রোহীরা উসমান (রা) এর লাশ বিকৃত করতে চেষ্টা করল। কিন্তু তাঁর স্ত্রী নাইলা আর উম্ম আলবানিন লাশের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে রক্ষা করতে চাইলেন, তারা চিৎকার করতে থাকলেন। বিদ্রোহীরা পালিয়ে যাবার সময় ধনী উসমান (রা) এর বাসা লুট করে যায়, এমনকি মেয়েদের নেকাব পর্যন্ত নিয়ে যায়। যখন গেট থেকে সাহাবীরা এসে পৌঁছালেন ততক্ষণে সব শেষ, তারা কিছু করতে পারলেন না। মাঝখান দিয়ে হাসান (রা) ও মারওয়ান আহত হন।

টানা তিন দিন উসমান (রা) এর লাশ পড়ে ছিল বাসায়। নাইলা তখন কয়েকজন সমর্থকের সহায়তায় তাঁর দাফন দেবার চেষ্টা করলেন। মাত্র ১২ জন কাছের মানুষ পাওয়া গেল। গোধূলির সময় লাশ নিয়ে যাওয়া হলো, কোনো কফিন বা খাটিয়া পাওয়া যায়নি। তাঁকে কোনো গোসল দেয়া হয়নি, কারণ ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী শহীদদের কোনো গোসল নেই। কাফনের কাপড়ও পরানো হয়নি। যে কাপড়ে তিনি মারা যান, সে কাপড়েই তাঁকে কবরে নিয়ে যাওয়া হয়।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: Content is protected !!