সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০

ঝুঁকিপূর্ণ রেল লাইন : আতঙ্ক বেড়েছে যাত্রীদের

সিলেট অঞ্চলের ট্রেনযাত্রীদের এখন কোনো আনন্দ নেই। কারণ নিরাপদ রেলভ্রমণটি এখন শুধুমাত্র ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও ব্রিজের কারণেই অনিরাপদ হয়ে উঠছে। কুলাউড়ার বরমচাল বড়ছড়া ব্রিজের ওই দুর্ঘটনার পর থেকে আতঙ্ক বেড়েছে যাত্রীদের।

অনেকেই চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই রেল লাইনকে মৃত্যুফাঁদ বলেও অভিযোগ করেছেন। কারণ নড়বড়ে ওই রেল লাইন ও ব্রিজগুলোর কারণেই প্রতিনিয়তই মৃত্যু হাতছানি দিচ্ছে। দীর্ঘদিন থেকে ত্রুটিপূর্ণ এই লাইনটি সংস্কার বা পুনঃনির্মাণ হয়নি। এতে ক্ষোভের অন্ত নেই এ অঞ্চলের রেল যাত্রীদের।

দুর্ঘটনার পরও ট্রেনের যাত্রী হচ্ছেন, এমন প্রশ্নের জবাবে জানাচ্ছেন নানা কারণে বাধ্য হয়ে তারা ট্রেনের যাত্রী হচ্ছেন। সিলেট আখাউড়া রেলপথের ১৭৯ কিলোমিটার মধ্যে অধিকাংশই চরম ঝুঁকিপূর্ণ। ওই পথের রেল লাইন, ফিশপ্লেট, ক্লিপ, হুক, স্লিপার, নাট, বল্টু, সিগন্যালসহ সহযোগী যন্ত্রাংশ ও মেয়াদ উত্তীর্ণ ইঞ্জিন, জরাজীর্ণ বগি, ঝুঁকিপূর্ণ ও মান্ধাতা আমলের স্টেশন আর শিডিউল বিপর্যয় যেন নিয়তি।

বৃটিশ আমলের নির্মিত ব্রিজ, কালভার্ট আর রেলপথ ও লাইন কোনো মেরামত হয়নি। তাই দিন দিন ঝুঁকি থেকে চরম ঝুঁকির দিকে যাচ্ছে এই অঞ্চলের রেলপথ। শুধু রেল সড়কটি ছাড়া আর সবই রয়েছে চরম ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকার প্রদত্ত ওই রেল সেবা নাগরিকদের দিতে রয়েছে রেল বিভাগ ও রেল মন্ত্রণালয়। কিন্তু ওই বিভাগের গাফিলতি আর রেল লাইনের দুরবস্থা দেখে মনে হয়, কোনো অভিভাবক নেই রেল বিভাগের। তাই সম্প্রতি দুর্ঘটনা পর ওই রোডের উপকারভোগীদের পক্ষে জোরালো দাবি উঠেছে লাইনটি দ্রুত মেরামত ও নির্মাণের। এদিকে, কুলাউড়ার বরমচাল বড়ছড়া ব্রিজের উপর দুর্ঘটনায় কবলিত বগি হতে বুধবার সকাল থেকেই অসহনীয় পচা দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। ওই বগির সঙ্গে রেল সড়কের পশ্চিম পাশে পড়ে থাকা আরো ২টি বগি ও রাস্তার পূর্ব পাশে দাঁড়ানো ১টি বগি এখনো ওখানে ফেলে রাখা হয়েছে।

দুর্ঘটনার পরদিন ট্রেন লাইন সচল করতে ওই চারটি বগি দুর্ঘটনাস্থলে ফেলে রেখেই লাইন মেরামতের পর সচল করা হয়। বরমচাল ইসলামাবাদ ও নন্দনগর গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ব্রিজের নিচে পড়ে থাকা বগি থেকে মারাত্মক দুর্গন্ধ ছাড়াচ্ছে। ব্রিজের নিচে পড়ে থাকা ওই বগির যাত্রীরাই দুর্ঘটনার সময় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন এবং ওই বগিরই ৩ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন আর আহত হয়েছেন অনেকেই। ওই বগি থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর কারণে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছে ওই স্থানের খোঁজখবর নিচ্ছেন।

দুর্ঘটনাস্থল ওই ব্রিজের আশেপাশে এখনো ছোট বড় মানুষের জুতো ও ট্রেনের খুচরা যন্ত্রাংশ পড়ে থাকতে দেখা গেছে। ওই গ্রামের একাধিক বাসিন্দা জানান, বড়ছড়ার ব্রিজ দিয়ে পাহাড়ি ঢল নামে। তবে, নাব্যহ্রাসের কারণে ছড়াটির পানি নিষ্কাশন আগের মত হয় না। দুর্ঘটনার পর ট্রেনের বগি ব্রিজের নিচে পড়ে থাকায় পানি আটকে আছে। বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হওয়ায় ওই ছড়াতে পড়ে থাকা বগির কারণে ছড়ার পানি নিষ্কাশন বন্ধ রয়েছে। এতে করে পুরাতন ওই রেল ব্রিজের ক্ষতি ও আশপাশের গ্রাম গুলোর ঘরবাড়ি ও ক্ষেত কৃষি আটকে থাকা পানির কারণে চরম ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত