বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যু

ফরিদপুর ও কুষ্টিয়া ও ময়মনসিংহে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার রাতে ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিদ্দিক মিয়া (৫৫) নামের এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়। এরপর মঙ্গলবার সকাল ছয়টার দিকে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রিনা খাতুন (২২) ও সকাল আটটার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফাতেমা (৫০) নামের দুই নারী মারা যান।

সিদ্দিক মিয়ার বাড়ি মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কবিরাজপুর গ্রামে। রিনা খাতুন কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ধরমপুর ইউনিয়নের কাজীহাটা গ্রামের রায়হান আলীর স্ত্রী এবং ফাতেমা কিশোরগঞ্জ জেলার হোসেনপুরের নাজমুল হকের স্ত্রী।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডা. এনামুল হক জানান, সিদ্দিক মিয়া গত সাত দিন ধরে মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন ছিলেন। সোমবার সকাল ১০টায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে রাত ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।

ভেড়ামারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন রিনা খাতুন। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র নেওয়ায় পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপরও তিনি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেই ছিলেন। পরে মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্র জানায়, ফাতমো হাসপাতালের ১১ নং ওর্য়াডে ভর্তি ছিলেন। ৭ সেপ্টেম্বর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

গত ২৪ ঘণ্টায় কুষ্টিয়ার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন ২০ জন। চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৬৮ জন। আর জেলায় এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮০৫ জন।

ফরিদপুরে গত ২৪ ঘন্টায় নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ৪৫ জন ভর্তি হয়েছেন। জেলায় গত ২০ জুলাই থেকে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন দুই হাজার ১৮৭ জন। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন এক হাজার ৬২৬ জন। বর্তমানে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৯৪ জন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে ৩৬০ জনকে।

অপরদিকে, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বর্তমানে ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা নিচ্ছেন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় সাত জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন এবং ছয় জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

error: Content is protected !!