সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২০

Advertisement

ঢাকার জলাবদ্ধতা : এক দশকে জলে গেল ৩০০০ কোটি টাকা

Advertisement

সেবা সংস্থাগুলোর নানামুখী তৎপরতার পরও জলাবদ্ধতা থেকে রাজধানীবাসীকে নিষ্কৃতি দেয়া গেল না। ফলে এই বর্ষায়ও নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়েই রইল জলজট।

বিগত এক দশকে সেবা সংস্থাগুলো ঢাকার জলজট নিরসনে খাল, ড্রেনেজ, নর্দমা পরিষ্কার ও উন্নয়নের নামে ৩ হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করে ফেলেছে। জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি ঢাকাবাসীকে। এই মেগাসিটির বিদ্যমান ড্রেনেজ ব্যবস্থায় ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হলে পানি সরতে সময় লাগছে ৩ ঘণ্টা।

৫০ মিলিমিটার হলে ৪ ঘণ্টা। ৭০ মিলিমিটার হলে লাগবে অন্তত ১০ ঘণ্টা। ভরা বর্ষায় ঘণ্টায় ৭০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক। আর এই স্বাভাবিক বৃষ্টি হলেই ১০ ঘণ্টার জলাবদ্ধতায় আটকে থাকবে নগরী। সাম্প্রতিক সময়ে ঘণ্টায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত না হলেও ঢাকার অনেক জায়গায় ২-১ ঘণ্টার জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হতে দেখা গেছে।

স্বাধীনতার পর থেকে রাজধানীর খাল, নর্দমা, ড্রেন সংস্কার, উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের নামে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন (উত্তর ও দক্ষিণ), ঢাকা ওয়াসা, পানি উন্নয়ন বোর্ড, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, ঢাকা ডিসি অফিস বিভিন্ন প্রকল্পের নামে বা রুটিন ব্যয় হিসেবে বিপুল অর্থ খরচ করেছে, ব্যয়ের সঠিক হিসাবও নেই। তবুও জলজটের সুরাহা হচ্ছে না।

উপরন্তু নতুন নতুন এলাকায় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত ১০ বছরে ঢাকা ওয়াসা খাল, ড্রেন পরিষ্কার ও সংস্কারে ব্যয় করেছে প্রায় ৬৮৩ কোটি টাকা। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি) যৌথভাবে ব্যয় করেছে ১ হাজার ৭৭০ কোটি টাকা এবং বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ব্যয় প্রায় ১০৮ কোটি টাকা।

রুটিন কাজের অংশ হিসেবে এ বছর পানি নিষ্কাশন খাল ও ড্রেন পরিষ্কারে ডিএনসিসি, ডিএসসিসি ও ঢাকা ওয়াসা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। ঢাকা ওয়াসা অন্যবারের মতো সংস্কার কাজে ৬৫ কোটি টাকা ব্যয় করছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

এছাড়া কয়েকটি সংস্থা নানা প্রকল্পের নামে এখনও বিপুল অর্থ ব্যয় করছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গুলশান লেকের আধুনিকায়নে কাজ করছে রাজউক এবং কুড়িল-পূর্বাচল ৩০০ ফুট সড়কের দু’পাশে ১০০ ফুট করে খাল খননের কাজ করছে সেনাবাহিনী। এতে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে।

এর বাইরে ঢাকা ওয়াসার ৫ খাল খনন প্রকল্পে ব্যয় হচ্ছে ৬০৭ কোটি ১৬ লাখ টাকা। তবে এসব প্রকল্প জলাবদ্ধতা নিরসনে কি ভূমিকা রাখবে তা পরিষ্কার নয় অনেকের কাছে। এখন বর্ষাকাল। কয়েক দফা বৃষ্টিও হয়েছে। এই মাঝারি বৃষ্টিতেও রাজধানীতে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।

এসব নিয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে। কোনো সংস্থা বলছে, অন্যবারের তুলনায় জলাবদ্ধতা কম। কেউ বলছে, বিদ্যমান বাস্তবতায় ঢাকায় জলাবদ্ধতা হবে, এটা মেনে নিতে হবে।

Advertisement


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত