বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২০

দাম নিয়ে হতাশ পেয়ারা চাষিরা

প্রচলিত কৃষির পাশাপাশি পেয়ারা চাষের জন্য দেশে-বিদেশে আলাদা পরিচিতি পেয়েছে ঝালকাঠি। কয়েক দশকে পেয়ারা সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ঝালকাঠির উন্নয়নে পেয়ারার সম্ভাবনা নজর কেড়েছে সরকারেরও। জেলা ব্র্যান্ডিংয়ের তালিকায় জায়গা পেয়েছে বাংলার আপেল খ্যাত ফলটি। জেলায় পেয়ারার আবাদ বাড়ানো ও উৎপাদিত পেয়ারা দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য নেওয়া হচ্ছে নানামুখী পরিকল্পনা।

‘পেয়ারা আর শীতলপাটি, এ নিয়ে ঝালকাঠি’- স্লোগানের মধ্যদিয়ে পেয়ারার উৎপাদন ও বিক্রি ১০ শতাংশ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। এ লক্ষ্য পূরণে পেয়ারার জাত সংরক্ষণ, আধুনিক ও প্রযুক্তিগত চাষ ব্যবস্থার বিকাশে চাষিদের প্রশিক্ষণ, নতুন নতুন বাগান সৃজন, পেয়ারা সংরক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এমনকি এখানকার পেয়ারা শুধু ফল হিসেবে বিক্রি না করে জ্যাম-জেলিসহ বিকল্প পণ্য তৈরির মাধ্যমে দেশে-বিদেশে ছড়িয়ে দেওয়ার চিন্তা-ভাবনা চলছে।

স্থানীয়রা জানান, ঝালকাঠির পেয়ারার জন্য প্রয়োজন সঠিক দিকনির্দেশনা, নীতিমালা ও উদ্যোগ। এ বছর করোনার কারণে পাইকার আসছেন না। জলবায়ু পরিবর্তনে দেরিতে ফলন এবং অপেক্ষাকৃত কম হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন চাষিরা। আসছে না দেশি-বিদেশি পর্যটকও। তাই এ বছর দামও অনেক কম। প্রতিমণ পেয়ারা বিক্রি হচ্ছে ৩-৪শ টাকায়। দাম নিয়ে হতাশ পেয়ারা চাষিরা।

সদর উপজেলার কীর্তিপাশা, গাভারামচন্দ্রপুর ও নবগ্রাম ইউনিয়নকে ঘিরে জেলার পেয়ারা চাষ বিকাশ লাভ করেছে। ঝালকাঠি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, প্রতি মৌসুমে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারা চাষ হয়। হেক্টরপ্রতি উৎপাদন প্রায় ১০ হাজার কেজি। সেই হিসাবে এক মৌসুমে ঝালকাঠিতে প্রায় ৭৫ লাখ কেজি পেয়ারা উৎপাদন হয়। জেলায় স্বরূপকাঠি, মুকুন্দপুরী ও চায়না জাতের পেয়ারা চাষ হয়।

এ সময়ে জেলার আশপাশের প্রায় ৩০ গ্রামের পেয়ারা বাগানে চাষিদের ব্যস্ত সময় পার করতে দেখা যায়। পেয়ারা চাষের সঙ্গে জড়িয়ে আছে কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভীমরুলী ভাসমান হাটের নাম। নৌকায় করে পাকা পেয়ারা নিয়ে ট্রলারে থাকা পাইকারদের সাথে দর কষাকষি করে পছন্দমতো মূল্য পেলেই বিক্রি করে দেন চাষিরা।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত