বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২০

দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম : বাড়‌ছে ডেঙ্গু আক্রান্ত চিকিৎসকের সংখ্যা

দেশবার্তা ডেস্ক

দিন যতই যাচ্ছে ডেঙ্গুতে চিকিৎসক ও হাসপাতালের সেবা সংশ্লিষ্টদের আক্রান্ত হওয়ার সংখ্যা বেড়েই চলছে। মৃত্যুর মিছিলেও যোগ হচ্ছে নতুন নতুন নাম। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। ডেঙ্গুর এই ভয়াবহতা থাকতে পারে সেপ্টেম্বর মাসজুড়ে।

রাজধানীসহ সারাদেশে প্রাণঘাতী ডেঙ্গু রোগীর কারণে বিশ্রাম এবং ঘুম হারাম হয়ে গেছে চিকিৎসকদের। শুধু তাই নয়, সঙ্গে রয়েছে নার্স ও এমএলএসএস এবং ওয়ার্ড ইনচার্জগণ। ডেঙ্গুর হাত থেকে রোগীদের প্রাণে বাঁচাতে দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন চিকিৎসকসহ সংশ্লিষ্টরা। এমনও দেখা গেছে, হাসপাতালেই তাদের খাওয়া, নাওয়া এবং বিশ্রাম। নিজ বাসা বাড়ি বা পরিবারের সন্তানদের সান্নিধ্য পাচ্ছে না চিকিৎসকরা। তারপরও নিরলস ভাবে সেবা দিয়ে যাচ্ছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, মিটফোর্ড হাসপাতাল, বিএসএমএমইউ হাসপাতালে শয্যার চেয়ে দশ-বারো গুণ বেশি ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডেও বিছানা ছাড়া মেঝেতে, করিডোরে রেখে চিকিৎসা চলছে ডেঙ্গু রোগীর। রাজধানীর অন্যান্য সরকারি ও প্রাইভেট হাসপাতালগুলোতে একই দৃশ্য দেখা গেছে। রাজধানীর বাইরের বিভাগীয় এবং জেলা হাসপাতালগুলোতেও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। চাপ রয়েছে অন্যান্য রোগীরও।

অপরদিকে, পবিত্র ঈদুল আজহার ছুটিতে সব সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের হেল্প ডেস্ক খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। মঙ্গলবার (৬ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে ডেঙ্গুর বিস্তার মোকাবিলা সংক্রান্ত আলোচনা সভায় এ নির্দেশ দেয়া হয়।

এদিকে রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. রেহনুমা ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একইভাবে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স রোকসানা ও ইসরাত জাহান। এর আগে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরো কয়েকজন চিকিৎসক ভর্তি হয়েছিলেন। পরে সুস্থ হয়েছেন তারা। আবার কারো মা- বাবা কিংবা বাচ্চা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। একইভাবে মেডিকেলের গ্যাস্ট্রেলজির কনসালটেন্ট ডা. রুকনুজ্জামানের ছেলেও ভর্তি রয়েছে হাসপাতালে। পরিবারের সদস্যরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন থাকলেও তাদেরকেই ঠিক মতো সেবা করতে পারছেন না সংশ্লিষ্টরা।

মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স কাঞ্চনা জানান, কয়েকদিন থেকে তার বাচ্চা অসুস্থ। তাকে সময় দেয়া প্রয়োজন। কিন্তু হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের চাপে তা হচ্ছে না। অসুস্থ হয়ে বিছানায় না যাওয়া পর্যন্ত কারো অবসর মিলছে না। আমাদেরও তো পরিবার-পরিজন আছে। দুঃসময়ে তাদের পাশে থাকতে না পারলে কি হয়! খাওয়া-দাওয়া ঠিক সময়ে হচ্ছে না।

কাঞ্চনা আরো জানান, ডেঙ্গু প্রকোপ বৃদ্ধির আগে ডিউটি শেষ হলেই বাসায় ফিরতে পারতাম। এখন সেখানে অনেক দেরিতে বাসায় ফিরতে হয়।

হাসপাতালের সুপারভাইজার ও সিনিয়র স্টাফ নার্স গৌরি জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের প্রয়োজনীয় সেবা দিতে আমরা সর্ব্বোচ্চ চেষ্টা করছি। স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে নার্সরা দুই থেকে চার ঘণ্টা পর্যন্ত অতিরিক্তি সময় কাজ করছেন। আর অতিরিক্ত কাজের চাপে অনেকেই অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। এই অবস্থা দীর্ঘদিন চলতে থাকলে স্বাভাবিক অবস্থা ভেঙে পড়বে।

মুগদা মেডিকেল সূত্র জানায়, মুগদা মে‌ডি‌কেল ক‌লেজ ও হাসপাতা‌লের প‌রিচালক আমিন আহমদ খান জানান, আমাদের এখানে ডাক্তার ও নার্স মি‌লি‌য়ে ৩০ জ‌নের ম‌তো ডেঙ্গু আক্রান্ত হ‌য়ে‌ছেন। এছাড়া ডাক্তার, নার্স ও অন্যান্য স্টাফ‌দের প‌রিবা‌রের অনেক সদস্য ডেঙ্গু‌তে আক্রান্ত।


©  দেশবার্তা কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত